স্পোর্টস ডেস্ক (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
২০০৮ সালে সর্বশেষ এশিয়া কাপ শিরোপা জিতেছিল শ্রীলঙ্কা। দুই আসর পর বাংলাদেশের মাটিতে আবারও তারা চ্যাম্পিয়ন হলো। শুধু তাই নয়, অজেয় থেকে পঞ্চমবারের মতো এশিয়ার সেরা হলো তারা। শনিবার গতবারের চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানকে তারা হারিয়েছে পাঁচ উইকেটে।
বাংলাদেশের মাটিতে লংকানদের জয়রথ থামছেই না। বাংলাদেশ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট ছাড়া বাকি ছয় ম্যাচের ফলই গিয়েছিল তাদের পক্ষে।আর ওই সুখস্মৃতি নিয়েই দ্বাদশ এশিয়াকাপ মিশন শুরু করেছিল ম্যাথিউসের দল।আর সে মিশনে শতভাগ সফল তারা।আসরের সবকটি ম্যাচ জিতে এবারের এশিয়া কাপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে শ্রীলংকা।শনিবারের ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫ উইকেটের বড় জয় পেয়েছে তারা।এবারসহ মোট পাঁচবার এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে সফল হল সাঙ্গাকারারা।
২৬১ রানের মাঝারি আকারে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দারুণ শুরু পেয়েছিল শ্রীলংকা।কুশল ও থিরিমান্নের মধ্যকার ১০.১ বল স্থায়ী উদ্বোধনী জুটি থেকে আসে ৫৬ রান।অবশ্য আজমল পর পর দু বলে কুশল(৪২)ও সাঙ্গাকারাকে(০) সাজঘরে ফিরিয়ে দিলে লংকানরা কিছুটা চাপে পড়েছিল।তবে ম্যাচে পাক বোলারদের সাফল্য বলতে গেলে ওই পর্যন্তই।জয়বর্ধনে-থিরিমান্নের ১৫৬ রানের জুটিতে ভর করে চাপ কাটিয়ে ওঠে শ্রীরংকা।জয়বর্ধনে ক্যারিয়ারের ৭১তম ওয়ানডে অর্ধশতক তুলে নিয়ে ব্যক্তিগত ৭৫(৯৩) রানে আউট হন।অল্প রানের ব্যবধানে আহসান প্রিয়াঞ্জনও আউট হন।তবে এ দুজনের বিদায়ের পর থিরিমান্নে ও ম্যাথিউস মিলে দলকে খুব ভালভাবেই জয়ের পথে এগিয়ে নিয়েছেন।থিরিমান্নে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় শতক পূর্ণ করে ৪৫তম ওভারে যখন ব্যক্তিগত ১০১(১০৮) রানে আউট হন তখন তার দল জয় থেকে মাত্র ১৪ রান দূরে।তার ইনিংসটি ১৩টি চার দিয়ে সাজানো ছিল।থিরিমান্নের বিদায়ের পর ২২ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখে সহজেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় শ্রীলংকা।চাতুরাঙ্গা ৬ ও ম্যাথিউস ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন।পাক বোলার সাঈদ আজমল ২৬ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন।
এর আগে মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে টস জিতে ব্যাটিংয়ে যায় পাকিস্তান।১৮ রানে ৩ উইকেট হারালেও মিডল অর্ডারের দৃঢ়তায় নির্ধারিত ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৬০ রানের পুঁজি পায় পাকরা।চতুর্থ উইকেটে ফাওয়াদের সঙ্গে ১২২ রানের জুটি গড়ে মিসবাহ আউট হন ৬৫(৯৮) রানে।দলপতির বিদায়ের পর আবার চাপে পড়বে পাকিস্তান এমনটি হয়ত অনেক শ্রীলংকা ভক্তই আশা করেছিলেন।তবে তেনটি হয়নি।শ্রীলংকা ভক্তদের হতাশ করে উমর আকমলকে সঙ্গে নিয়ে দলকে নিরাপদ পুঁজি এনে দেন ফাওয়াদ।ঝড়ো গতিতে ব্যাট চালানো উমর ইনিংসের শেষ ওভারে ব্যক্তিগত ৫৯(৪২) রানে আউট হলেও অপারিজত থাকেন ফাওয়াদ।তার ১৩৪ বলের ১১৪ রানের ইনিংসটি ৮ চার ও ৩ ছয়ে সাজানো ছিল।লংকান পেসার মালিঙ্গা ৫৬ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন।ম্যাচসেরার খেতাবটিই তিনিই জিতেছেন।এদিকে,টুর্নামেন্টসেরার খেতাবটিও লংকাররাই জিতেছেন।পুরো আসরে দুই শতক হাঁকানোর পাশাপাশি দারুণ ব্যাট করায় সিরিজসেরা হয়েছেন লাহিরু থিরিমান্নে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান: ৫০ ওভারে ২৬০/৫ (শারজিল ৮, শেহজাদ ৫, হাফিজ ৩, মিসবাহ ৬৫, ফাওয়াদ ১১৪*, আকমল ৫৯, আফ্রিদি ০*; মালিঙ্গা ৫/৫৬)
শ্রীলঙ্কা: ৪৬.২ ওভারে ২৬১/৫ (কৌশল ৪২, থিরিমান্নে ১০১, সাঙ্গাকারা ০, জয়াবর্ধনে ৭৫, প্রিয়াঞ্জন ১৩, ম্যাথিউস ১৬*, চতুরঙ্গ ৬*; আজমল ৩/২৬, জুনায়েদ ১/৫৬, তালহা ১/৫৬
পাকিস্তান: ৫০ ওভারে ২৬০/৫ (শারজিল ৮, শেহজাদ ৫, হাফিজ ৩, মিসবাহ ৬৫, ফাওয়াদ ১১৪*, আকমল ৫৯, আফ্রিদি ০*; মালিঙ্গা ৫/৫৬)
শ্রীলঙ্কা: ৪৬.২ ওভারে ২৬১/৫ (কৌশল ৪২, থিরিমান্নে ১০১, সাঙ্গাকারা ০, জয়াবর্ধনে ৭৫, প্রিয়াঞ্জন ১৩, ম্যাথিউস ১৬*, চতুরঙ্গ ৬*; আজমল ৩/২৬, জুনায়েদ ১/৫৬, তালহা ১/৫৬




