রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬
প্রচ্ছদদেশজুড়েসাঈদীর মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা মানিকের মরদেহ দাফনে জামায়াতে ইসলামীর বাধা

সাঈদীর মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা মানিকের মরদেহ দাফনে জামায়াতে ইসলামীর বাধা

পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর (৮৭) মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয় প্রশাসন জেলা পুলিশ লাইন্সের ভেতরে গোপনে ‘গার্ড অব অনার’ দিয়ে সেখানেই মরদেহ রাখে।

মানিক পশারী পিরোজপুর সদরের শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পিরোজপুর-১ আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ছিলেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন মানিক। এতদিন তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিবাড়িয়ায় মেয়ের বাড়িতে ছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। মানিকের জামাতা ফারুক হোসেন জানান, শনিবার সকাল ১০টায় তিনি মারা যান। মাস দুয়েক থেকে অসুস্থ ছিলেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল ১১টায় মানিক পশারীর মরদেহ নিয়ে পিরোজপুর শহর অতিক্রমের সময় জামায়াতের নেতাকর্মীরা বাধা দেন। তারা মরদেহ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে পুলিশ লাইন্সের ভেতরে মরদেহ নেওয়া হয়। বাইরে জামায়াত নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন। দাফনের জন্য গ্রামের বাড়িতে খোঁড়া কবর ভরাট করে তারা এলাকা ঘিরে রাখেন বলে জানা গেছে।

পাড়েরহাট ইঊনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি জালাল হোসেন বলেন, ‘মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী মামলায় সাক্ষী দিয়েছেন মানিক পশারী। তাই, স্থানীয়রা তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে দাফন করতে দিতে চায় না। কবর ঘিরে রাখা হয়েছে বলে শুনেছি। মরদেহ পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। মানিকের মরদেহ পিরোজপুরের মাটিতে যাতে দাফন না দিতে পারে, সে জন্য জনতা বিক্ষোভ করছে।’

জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাকের দাবি, মানিক পশারী ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা। তিনি বলেন, তাকে কোনোভাবেই গার্ড অব অনার দিতে দেওয়া হবে না। পিরোজপুরের মাটিতে তার মরদেহ দাফন করতে দেওয়া হবে না।

পিরোজপুর সদর থানার ওসি শরিফুল ইসলাম সমকালকে বলেন, পুলিশ লাইন্সের ভেতরে মানিক পশারীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

মরদেহ দাফনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা– জানতে চাইলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফতেখারুল ইসলাম শামীম বলেন, আমরা মানিকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। দেখা যাক কী হয়।

মানিক পশারী ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট পিরোজপুর মুখ্য বিচারিক আদালতে সাঈদীসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মামলা করেন। পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের মামলায় মানিক পশারী ৬ নম্বর সাক্ষী ছিলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ