রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়দুবাইয়ে শর্ত সাপেক্ষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বেনজীর আহমেদ

দুবাইয়ে শর্ত সাপেক্ষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বেনজীর আহমেদ

গ্রেপ্তারের পর শর্ত সাপেক্ষে দুবাইয়ের কারাগার থেকে শর্ত সাপেক্ষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। গত ২৭ জুলাই তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন আমিরাতের একটি আদালত। পরে ৩০ জুলাই প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিনি কারামুক্ত হন। তবে আদালতের শর্ত অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদের দুবাই ত্যাগের অনুমতি নেই এবং তার পাসপোর্টও কর্তৃপক্ষের জিম্মায় রয়েছে। আজ রোববার (২ আগস্ট) দুবাইয়ের একাধিক সূত্র গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

কারামুক্তির পর বেনজীর আহমেদ বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন এবং শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। তবে মামলার চলমান আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

দুবাইয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জামিনের শর্ত হিসেবে বেনজীর আহমেদের পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতে রাখা হয়েছে। এছাড়া আদালতের পূর্বানুমতি ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না। শুনানিতে বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত নথি ও অন্যান্য আইনি বিষয় উপস্থাপনের পর আদালত এ সিদ্ধান্ত দেন বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো দুবাই কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি।

অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলার ভিত্তিতে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় দুবাইয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আদালতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।

এদিকে তার মুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশের ইন্টারপোল শাখা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানে না বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুবাই পুলিশের সহায়তায় এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

২০২৪ সালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাস আগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা নিয়ে তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তখনই তিনি দেশ ছেড়েছিলেন। এরপর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।

গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন আদালত।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ