ষ্টাফ রিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর থেকেই চলছিলো এ দৌড়ঝাঁপ। সংরক্ষিত মহিলা আসনে আওয়ামী লীগের টিকিট পেতে দিনদশেক ধরে ‘লবিং’ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি কাড়তে ছিলো নানা আয়োজন। তবে সবচেয়ে বেশি ছিলো সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন। দলের নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে লবিং ছিলো চোখে পড়ার মতো। মহিলা প্রার্থীরা এখনও ধর্ণা দিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন হেভিওয়েট নেতার কাছে। শেষমুহূর্তে নিজেদের আসনটি বাগিয়ে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। আজ রোববার বিকেলে তাদের ভাগ্য নির্ধারণ হতে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম থেকে ৫–৬ জন নারী এমপি মনোনয়ন পেতে পারেন। জানা গেছে, বিকেল ৩টায় দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে আগ্রহী প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারি বোর্ড সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের মনোনয়ন দেবেন।
আগামী ২৯ জানুয়ারি যে দশম জাতীয় সংসদ বসছে তার আগেই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবে মনোনীত হবেন ৫০ জন নারী সদস্য। আর সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আওয়ামী লীগ পাবে ৪০টি আসন। বিরোধী দল জাতীয় পার্টি পাবে ৬টি। বাকি ৪টি আসন আওয়ামী লীগের শরিক দলগুলোর জন্য বরাদ্দ রয়েছে। নারী সদস্য নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম তোলা ও জমা দেয়ার শেষ দিন ছিলো শুক্রবার। ১৫ জানুয়ারি থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনদিনে ৪০টি আসনের বিপরীতে ফরম বিক্রি হয়েছে ৮২২টি। আর মনোনয়ন ফরমের দাম ছিল ২৫ হাজার টাকা।
আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি হতে জোর তদ্বির চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ ও সাবেক ছাত্রলীগের নেত্রীরা দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা, সিনিয়র নেতা ও মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের কাছে ধর্ণা দিচ্ছেন। তবে মহিলা এমপি বানানোর ক্ষেত্রেও এবার বেশ বাছ–বিচার হবে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। মন্ত্রিসভায় যেমন বিতর্কিতরা স্থান পান নি তেমনি যেসব সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপিদের বারবার তাগাদা দিয়েও গত ৫ বছরে দায়িত্বপ্রাপ্ত অঞ্চলে পাঠানো সম্ভব হয়নি তারা এবার আর মনোনয়ন পাচ্ছেন না। এমপি হওয়ার পর সংসদে, সংসদের বাইরে ও নিজ এলাকায় দলীয় কর্মীদের আস্থাভাজন হতে পেরেছেন তারাই আবার মনোনয়ন পাচ্ছেন। সেই সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন কিছু মুখও।
সূত্র জানায়, দশম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দৌঁড়ে এগিয়ে রয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীণ শারমিন চৌধুরী, সাংস্কৃতিক কর্মী অ্যাডভোকেট তারানা হালিম, ফাল্গুনী হামিদ, মহিলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক শিরীণ রুখসানা, ফরিদুন্নাহার লাইলী, ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা, অধ্যক্ষ খাদিজা খাতুন শেফালী, এথিন রাখাইন, চেমন আরা তৈয়ব, নাজমা আক্তার, অধ্যাপিকা অপু উকিল, কেহেলী কুদ্দুস মুক্তি, জাহানারা বেগম, অধ্যাপিকা জিন্নাতুন নেসা তালুকদার, তহুরা আলী, শেফালী মমতাজ, অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী, হাসিনা মান্নান, রেখা আলম চৌধুরী, অ্যাডভোকেট রেহেনা বেগম রানু, খাদিজাতুল আনোয়ার সনি, আসমা জেরীন ঝুমু, শেফালী আক্তার প্রমুখ এগিয়ে আছেন।
আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, বর্তমান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে বর্তমান পদে বহাল রাখতে সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাচন–প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে চায় দলটি। স্পিকার হতে হলে তাকে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর আগেই এমপি নির্বাচিত করতে হবে। মূলত এ কারণেই মহিলা এমপি নির্বাচনের ক্ষেত্রে দ্রুততা। অন্যদিকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের মনোনয়নকে ঘিরে পদপ্রত্যাশীদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগ কার্যালয়। দলবল নিয়ে অনেকেই যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে। মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগসহ আওয়ামী লীগের সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের নারী নেত্রীদের ব্যস্ত সময় কাটছে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে। তাদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠছে ধানমণ্ডির ৩/এ সড়ক এলাকা।
জানা গেছে, এবার নারী নেত্রীদের পাশাপাশি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন সাবেক নারী এমপি, সেলিব্রেটিসহ মিডিয়া ব্যক্তিত্ব–সাংস্কৃতিক কর্মীরা। রয়েছেন সাবেক ছাত্র নেত্রীসহ আইনজীবীরাও। এদের অনেকেই রাজনৈতিক পরিচয়ের সূত্র ধরে ফরম কিনেছেন। দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির মাঠে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন নিজেদের মেধা ও যোগ্যতায়। আবার কেউ কেউ রাজনৈতিক কোনো যোগসূত্র ছাড়াই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক আর্দশের প্রতি অনুরক্ত হয়ে ফরম তুলেছেন।
প্রসঙ্গত, জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন ২০০৪ অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত আসনে নির্বাচনের জন্য কমিশন দল ও জোটওয়ারী তালিকা তৈরি করবে এবং ভোটার তালিকা ইসিতে টাঙিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।




