সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনমইজ্জারটেক আখতারুজ্জামান চত্বর এখন 'অলি আহমেদ' চত্বর!

মইজ্জারটেক আখতারুজ্জামান চত্বর এখন ‘অলি আহমেদ’ চত্বর!

মুছে দেয়া হয়েছে আখতারুজ্জামানের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি জানে না প্রশাসন

কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জ্যারটেকের ব্যস্ততম সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা চত্বরের স্তম্ভে এখন বড় করে লেখা ‘ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম চত্বর’। অথচ মাত্র এক বছর আগেও এখানে ছিল প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরীর নাম ও খোদাই করা ছবি। ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের আগে পর্যন্ত চত্বরটি পরিচিত ছিল ‘আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু চত্বর’ হিসেবে। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতার সেই সময় শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করার পরপরই চত্বরের ফলক ভাঙচুর করা হয়, কালো কালি মেখে মুছে ফেলা হয় বাবুর মুখচ্ছবি ও নাম। নতুন নামটি ঠিক কারা, কবে, কীভাবে বসিয়েছে, এ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। স্থানীয়রা বলছেন, প্রায় এক মাস আগে স্তম্ভের গায়ে এই নাম লেখা হয়। তবে প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই এমন পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ। কর্ণফুলী উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে অবস্থিত এই চত্বরটি। গত বছরের ৫ আগস্টের পর চত্বরটি ভাঙচুর করা হয়। তখন খোদাই করে বসানো আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর ছবিটি কালো কালি দিয়ে মুছে দেওয়া হয়। বর্তমানে চত্বরটি কোচিং সেন্টার, সামাজিক সংগঠন ও নানা রাজনৈতিক ব্যানারে ঘেরা। যেখানে রাজনৈতিক নেতাদের ছবি ও প্রচারণা শোভা পাচ্ছে। দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ চত্ত্বরের নামকরণ নিয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল বা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব বা ঘোষণা আসেনি। এ বিষয়ে কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সজীব কান্তি রুদ্র বলেন, নাম পরিবর্তনের ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। অফিসিয়াল এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেই। নাম পরিবর্তনের এমন কিছু আমি দেখিনি। স্থানীয়দের পক্ষ থেকেও এমন কোনো দাবি জানানো হয়নি। চারদিন আগে আমি দায়িত্ব নিয়েছি। বিষয়টি আমি খবর নিয়ে দেখবো।

স্থানীয়দের দাবি, হঠাৎ করেই চত্ত্বরের সাইনবোর্ড পরিবর্তন করে নতুন নাম লাগানো হয়েছে। প্রায় একমাস আগে স্তম্বের উপরে বড় করে ড. কর্নেল অলি আহমদের নাম লিখা হয়েছে। তবে কবে, কার উদ্যোগে এবং কোন অনুমতিতে এই নাম পরিবর্তন হয়েছে, এ বিষয়ে পরিষ্কার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থেকেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এই মোড় দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করা সাংবাদিক সৈয়দ শিবলী ছাদেক কফিল বলেন, প্রায় একমাস আগে এই নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। মাঝখানে দীর্ঘদিন স্তম্ভটি নামহীন ছিল। এখন ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম’র নাম যুক্ত করা হয়েছে। অলি আহমেদ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রবীণ রাজনীতিক এবং কর্ণফুলী সেতু নির্মাণেও উনার অবদান ছিল। তবে নাম পরিবর্তনের বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে আসা উচিত।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুল কাদের বলেন, চতুরের নাম নিয়ে হঠাৎ এমন পরিবর্তন সত্যিই বিস্ময়কর। রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে গিয়ে নাম পরিবর্তন করা উচিত। এখন কারো অনুমতি বা আলোচনা ছাড়া নতুন নাম বসানো স্থানীয়দের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ তৈরি করেছে। চত্বরের নামকরণ নিয়ে যে কোনো সিদ্ধান্ত স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসনের সাথে আলোচনা করেই হওয়া উচিত।

প্রয়াত আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু দক্ষিণ চট্টগ্রামের রাজনীতিতে প্রভাবশালী নেতা ও বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন। অন্যদিকে ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি বর্তমান লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট।

প্রচার আছে, কর্নেল ড. (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম ১৯৯১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর দক্ষিণ চট্টগ্রামের সঙ্গে নগরের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের উদ্যোগ নেন। তাঁর প্রচেষ্টা ও তৎকালীন সরকারের সহযোগিতায় কর্ণফুলী নদীর ওপর বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হয়। এ সেতুর ফলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষ দ্রুত ও সহজে নগরে যাতায়াতের সুযোগ পায়, যা স্থানীয় অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উল্লেখ্য, চতুরটি কর্ণফুলী উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে অবস্থিত। যেখানে প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। লাখো মানুষের যাতায়াত এই চত্বর দিয়ে। এর নামকরণ করা হয়েছিল প্রয়াত রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী আখতারুজ্জামান চৌধুরী স্মরণে। আওয়ামী লীগ সরকার চত্বরটির নামকরণ করলেও পরবর্তিতে ২০২৩ সালের ২৮ জুন পরিবর্তিত বর্তমান স্মৃতি স্তম্ভটি উদ্বোধন করা হয়েছিল। স্তম্ভটিতে নির্মাণ করা হয়েছিল একটি বেসরকারি ব্যাংকের অর্থায়নে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ