শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৪
প্রচ্ছদটপরোববার স্নাতক পর্যায়ের ছাত্রীদের উপবৃত্তি প্রদান উদ্বোধন করবেন শেখ হাসিনা

রোববার স্নাতক পর্যায়ের ছাত্রীদের উপবৃত্তি প্রদান উদ্বোধন করবেন শেখ হাসিনা

ষ্টাফরিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ৩০ জুন রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় তাঁর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের মাধ্যমে স্নাতক (পাস) ও সমমান পর্যায়ের ছাত্রীদের উপবৃত্তি প্রদান কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন।

এর ফলে সারাদেশের স্নাতক (পাস) ও সমমান পর্যায়ের এক লাখ ৩৩ হাজার ৭২৬ জন দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্রী উপকৃত হবে। এ দিনে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিনিধি হিসেবে ১৫ জন ছাত্রীর হাতে উপবৃত্তি হস্তান্তর করবেন।
১,৩৩,৭২৬ জন ছাত্রীকে উপবৃত্তি প্রদানের জন্য বছরে ৭৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয় হবে। প্রতি ছাত্রীকে বছরে উপবৃত্তি ২৪০০ টাকা, পরীক্ষার ফি বাবদ ১০০০ টাকা, বই কেনার জন্য ১৫০০ টাকা, টিউশন ফি বাবদ ৭২০ টাকাসহ সর্বমোট ৫,৬২০ টাকা প্রদান করা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ একথা বলা হয়।

ছাত্রীদের উপবৃত্তি পাওয়ার শর্তসমূহ : গড় উপস্থিতি ৭৫%, পিতা-মাতার বার্ষিক আয় ৭৫,০০০ টাকার কম থাকা, ৭৫ শতাংশ পরিমাণ ভূমির মালিক হওয়া, ছাত্রী অবিবাহিত হওয়া। পার্বত্য, হাওড় ও মঙ্গাপীড়িত এলাকার ছাত্রীদের অগ্রাধিকার, দুস্থ-অসহায় গোষ্ঠী, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা, উপার্জনে অসমর্থ/বিকলাঙ্গ পিতামাতার সন্তান ও প্রতিবন্ধী ছাত্রীরা অগ্রাধিকার পাবে এবং প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪০% ছাত্রী উপবৃত্তি পাবার যোগ্য হবে।

বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারের ছাত্রছাত্রীদের উপবৃত্তি কর্মসূচি চালু আছে। প্রকল্প ৫টি হলো- সেকেন্ডারি এডুকেশন স্টাইপেন্ড প্রজেক্ট (এসইএসপি), মাধ্যমিক শিক্ষাখাত উন্নয়ন প্রকল্প (এসইএসডিপি), সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি এন্ড এ্যাকসেস এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট (সেকায়েপ), উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের ছাত্রীদের উপবৃত্তি প্রদান প্রকল্প (৪র্থ পর্ব) ও স্নাতক (পাস) ও সমমান পর্যায়ের ছাত্রীদের উপবৃত্তি প্রদান প্রকল্প। ২০১২-১৩ অর্থবছরে দেশের প্রায় ২৯ লাখ ছাত্রছাত্রীর মধ্যে ৬৬৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা উপবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।

এখন থেকে স্নাতক (পাস) ও সমমান পর্যায়ের ছাত্রীদের উপবৃত্তি প্রদান প্রকল্পের উপবৃত্তি কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। মেয়াদ শেষ হবার পর থেকে উপবৃত্তি সংক্রান্ত অন্য ৪টি প্রকল্পের কাজ ট্রাস্ট চালিয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট আইন, ২০১২ পাস হয়েছে। ৫ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি। ২৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী বোর্ডের সভাপতি। আগামী জুলাইয়ের মধ্যে ধানমন্ডিতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কম্পিউটার সেল অফিসের ৩য় তলায় ট্রাস্ট বোর্ডের অফিস স্থাপন করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে ৩২ জন জনবল নিয়োগের বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেছে। ট্রাস্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি নিয়মাবলী সম্বলিত খসড়া ‘চাকুরি প্রবিধানমালা’ প্রস্তুত করা হয়েছে। বর্তমানে ট্রাস্টের কাজ পরিচালনার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের কার্যক্রম শুরু করার জন্য ২০১১-১২ অর্থবছরের বাজেটে সিডমানি হিসেবে ১০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ অর্থ পাঁচটি তফসিলী ব্যাংকে এফডিআর করে রাখা হয়েছে। এছাড়া সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অর্থ, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত দান ও অনুদান, ব্যাংক-বীমা ইত্যাদির আর্থিক সহায়তা, লটারি, সমাজের বিত্তবান, শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের অনুদান, প্রবাসীদের আর্থিক সহায়তা ও বিদেশী উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার অনুদান ইত্যাদি থেকে প্রাপ্ত অর্থের মাধ্যমে ট্রাস্ট পরিচালিত হবে

আরও পড়ুন

সর্বশেষ