মঙ্গলবার, মে ২১, ২০২৪
প্রচ্ছদঅর্থ ও বানিজ্য সময়পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতায় প্রয়োজন কার্যকর প্রণোদনা

পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতায় প্রয়োজন কার্যকর প্রণোদনা

পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন বাজেটে পুঁজিবাজারবান্ধব ও কার্যকর প্রণোদনা। এমনটি মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, অতীতে বিভিন্ন সময় বাজেটে পুুঁজিবাজারের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা রাখা হয়েছে। কিন্তু এর কোনো সুফল পায়নি বাজার। ২০১০ সালে বিপর্যয়ের পর প্রায় প্রতিটি বাজেটেই অপ্রদর্শিত আয় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হলেও বাস্তবে ৮০ হাজার থেকে এক লাখ কোটি টাকা অপ্রদর্শিত আয়ের সামান্যই বাজারে এসেছে। বাজারও পায়নি এর সুফল।
বাজেটে প্রণোদনার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ সংস্কৃতি গড়ে তোলার পরামর্শও দিয়েছেন তারা। কারণ আগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের সংস্কৃতি থাকলেও বিপর্যয়ের পর বাজারে আস্থাহীনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় তা পাল্টে গেছে। এখন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোও ট্রেডারের ভূমিকায়। ফলে স্থিতিশীল হতে পারছে না বাজার। সামান্য মূল্যবৃদ্ধিতেই আসছে বিক্রয়চাপ। গত দুই সপ্তাহের বাজারচিত্র এ ধরনের অস্থিতিশীলতারই প্রমাণ বলে মনে করছেন তারা।
বাজারের সাম্প্রতিক সময়ের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় বিনিয়োগকারীরা সাময়িক কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেলেও গত মঙ্গল ও বুধবারের বড় ধরনের দরপতন ফের পুঁজিবাজারজুড়ে হতাশা সৃষ্টি হয়। সামনে আসছে নতুন বাজেট। বাজেটে পুঁজিবাজার নিয়ে বেশ কিছু প্রণোদনা থাকার কথা শোনা যাচ্ছে। এরপরও বাজারে নেতিবাচক প্রবণতা কাটছে না। এ মুহূর্তে বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকারের করণীয় জানতে চাইলে বিশিষ্ট পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ইউনিয়ন ক্যাপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আখতার হোসাইন বলেন, বাজেটে বরাবরই পুঁজিবাজারের জন্য প্রণোদনা রাখা হয়। এর অন্যতম অপ্রদর্শিত আয় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ। কিন্তু বাস্তবে অপ্রদর্শিত আয়ের খুব সামান্যই বাজারে আসে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এ সুযোগ থাকা উচিত প্রশ্নহীন। সরকারের কোনো এজেন্সি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকৃত অপ্রদর্শিত আয়ের ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন তুলবে না এমন নিশ্চয়তা নেই। অতীতে বিভিন্ন সময় এ ধরনের বিনিয়োগ নিয়ে অনেককে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। তাই এ সুযোগ রাখা হলেও অনেকেই ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার বিষয় চিন্তা করে বিনিয়োগে আগ্রহী হন না।
তিনি আরো বলেন, সরকার চাইলে অপ্রদর্শিত আয় থেকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের একটি নির্দিষ্ট হার ঠিক করে দিতে পারে। বিভিন্ন মেয়াদের জন্য এ বিনিয়োগ সুযোগও নির্দিষ্ট করে দিতে পারে। বিনিয়োগের পর কত দিন এ শেয়ার ধারণ করতে হবে তার একটি সুনির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে দিতে পারে। এটা করা হলে বাজারের বিক্রয় চাপের তীব্রতা কমে আসবে। দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের বিনিয়োগ খুব সহজেই স্থিতিশীল করে তুলতে পারে বাজারকে। আর বাজার একবার স্থিতিশীল হলে দেশীয় বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদেশী বিনিয়োগও বাড়বে। তবে এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে।
বাজেটে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের পাঁচ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দের প্রস্তাব সম্পর্কে বিশিষ্ট এ মার্চেন্ট ব্যাংকার বলেন, স্বল্প সুদে এ টাকা পুঁজিবাজারের জন্য বরাদ্দ রাখা হলে তা মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। বিনিয়োগকারীরা কম সুদে ঋণ পাবেন। তাদের সক্ষমতাও বাড়বে। এর ফলে বাজারে গতি আসবে।
প্রণোদনার অংশ হিসেবে ইতঃপূর্বে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নেয়া উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, এটা করা হলে ুদ্র বিনিয়োগকারীরা কিছুটা লাভবান হবেন। এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে লোকসানের কারণে অকার্যকর হয়ে পড়া বিও হিসাবগুলো আবার সচল হতে পারে। এসব হিসাবে কেউ চাইলে নতুন করে বিনিয়োগের সুযোগও নিতে পারেন।
বাজারের স্থিতিশীলতায় সরকারের করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে আরেক মার্চেন্ট ব্যাংকার নিজের নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে আর্থিক খাতে কিছু নীতিগত পরিবর্তনও বড় ভূমিকা রাখে। বাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়াতে চাইলে সরকারের বিভিন্ন সঞ্চয়পত্রের সুদের হারও কমাতে হবে। কিন্তু এখন তা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। ঝুঁকি না নিয়ে কেউ যদি ভালো মুনাফা পায় তাহলে তারা পুঁজিবাজারে আসবেন কেন কিন্তু বাজার স্থিতিশীল হলে ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের এ টাকার একটি বড় অংশ স্বাভাবিকভাবেই বাজারমুখী হয় যা বাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়ায়।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ