সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদআরো খবর......কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে করেছেন জয়

কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে করেছেন জয়

ষ্টাফ রিপোর্টার  (বিডিসময়২৪ডটকম)

বুধবার রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে আইবিএ (ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) গ্রাজুয়েটসসহ দেশের শীর্ষ স্থানীয় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে করেছেন প্রধানমন্ত্রী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। ভিশন ২০২১ এ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে করণীয় খুঁজতে এ মতবিনিময় করেন তিনি। বৈঠকের শুরুতে গোটা হল রুম ঘুরে ঘুরে উপস্থিত সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন সজীব ওয়াজেদ জয়।

৭টা ৫২ মিনিটে রফিকুল ইসলামের উপস্থাপণায় মতবিনিময় সভা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। শুরুতে বক্তব্য রাখেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের পুত্র, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান পাপন। এরপর রাত ৮টা ০২ মিনিটে প্রাথমিক বক্তব্য রাখেন সজীব ওয়াজেদ জয়। জয়ের বক্তব্যের শেষে উপস্থিত পেশাদার ব্যক্তিরা বিভিন্ন পরামর্শ দেন।

সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন,“অল্প কথা বলবো। আমাদের লক্ষ্য ২০২১। এই সময়ের মধ্যে আমরা দেশকে সমৃদ্ধ ও দারিদ্র মুক্ত করতে চাই। সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।” তিনি বলেন, কোন দেশের উন্নয়নের জন্য সরকারের ধারাবাহিকতার বিকল্প নেই। সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, আগামী ১০ বছর পর বাংলাদেশ নলেজড বেইজ ইকোনমির (জ্ঞান ভিত্তিক অর্থনীতি) দেশ হবে। যেটা এখন ভারত পার করছে। তিনি বলেন, আমরা চাই বাংলাদেশ জ্ঞান ভিত্তিক অর্থনীতির পথে এগিয়ে যাবে। আমাদের দেশে শিল্প ভিত্তিক অর্থনীতির পর্যায় ১০/১৫ বছর আগে থেকে শুরু হয়ে গেছে। এখন সময় এসেছে একটিকে আরো ত্বরান্বিত করা। একই সঙ্গে শিল্পকে বহুমাত্রিক রূপ দেওয়া।

বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে অনেকটা ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে উল্লেখ করে জয় বলেন, মানুষের মাথা পিছু আয়টায় মূল ফ্যাক্টর নয়। জীবন যাত্রার মানসহ অন্য অনেক বিষয় এর সঙ্গে জড়িত। সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে যে সরকার উন্নয়নের জন্য কাজ করেছে তারা একটানা ১০/১৫ বছর ক্ষমতায় ছিলো। মাহাথির মোহাম্মদকে যদি দেশ পরিচালনার জন্য মাত্র ৫ বছর সময় দেওয়া হতো তবে তিনি কি করতে পারতেন? তিনি বলেন, আমাদের এখানে আওয়ামী লীগ খেটে খুটে ৫ বছর দেশকে এগিয়ে নেয়। কিন্তু সরকারের ধারাবাহিকতা না থাকায় উন্নয়ন থমকে যায়। জয় বলেন, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে একজন মাহাথির খোঁজার দরকারই নেই। ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বিবেচনা করারও দরকার নেই।

তিনি বলেন, আপনাকে তুলনা করতে এই পাঁচ বছর বেশি কাজ হয়েছে নাকি বিগত জোট আমলে বেশি উন্নয়ন হয়েছে। এই দুইয়ের তুলনা করে ভোট দিলেই হবে। যারা উন্নয়ন করছে তারা নির্বাচিত না হলে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা থাকবে না।

আইটি খাতে উন্নয়নের কথা তুলে ধরে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, এ সরকারের শুরুতে আইটি খাতে রপ্তানি ছিলো ২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এখন এটি ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আমিও মনে করি এর পরিমাণ আগামী ৫ বছরে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নিত করা সম্ভব। তবে এ জন্য প্রয়োজন সরকারের ধারাবাহিকতা। তিনি বলেন, ৫ বছর পর পর সরকারের পরিবর্তন আমাদের রাজনীতিটাকে নষ্ট করে ফেলবে। জয় বলেন, ভালো কাজ করার পর কেউ যখন দেখবে ৫ বছর পর তারা আর ক্ষমতায় থাকতে পারছে না। তখন ভালো লোকেরা আর রাজনীতিতে আসতে চাইবে না। শুধু তারাই রাজনীতিতে আসতে চাইবে যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করতে চায়।

বিকেএমই-এর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বলেন, আজকে রানা প্লাজা ও তাজরিন গার্মেন্টস এর মতো ঘটনা ঘটছে অপরিকল্পিত শিল্পায়নের কারণে। আমাদের এখানে পরিকল্পিত শিল্পায়ন করে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আকর্ষন করা যেতে পারে।

একজন উদ্যোক্তা ও সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য আমাদের মানব সম্পদ উন্নয়ন করতে হবে। মানুষকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।

উদ্যোক্তা রোজানা ওহাব বলেন, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষায় সামাজিক মূল্যবোধের পাশাপাশি দায়িত্ব ও কর্তব্যের বিষয়গুলো যোগ করতে হবে। একই সঙ্গে সহজ ও গ্রহণযোগ্য বাণিজ্য কৌশল গ্রহণ করতে হবে।

মতবিনিময় সভার এ পর্যায়ে জয় বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশ সঠিক পথে আছে। ব্রাজিল, ভারত, চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমে গেছে। তাদের প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশ এখন আর নেই। বিশ্ব সংকটময় এ সময়ে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি উর্ধ্বমুখী।

জয় বলেন, ৭৫ থেকে ৯১ সাল পর্যন্ত সামাজিক মূল্যবোধকে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এটিকে ফিরিয়ে আনতে সময় লাগবে। আমিও মনে করি সামাজিক মূল্যবোধ বাড়াতে হবে।

শাহজামাল মজুমদার (বীর প্রতিক) বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের ভবিষ্যত নেতাদের জয়ের মতো এ রকম পরিকল্পনা নিয়ে আসার দরকার। এর মাধ্যমে আমরা আশাবাদী হতে পারি।

সেলিম আকবর (বীরপ্রতিক) বলেন, প্রযুক্তি পণ্যের দাম কমাতে হবে। এখন যে ল্যাপটপের দাম ৪০ হাজার টাকা তার দাম ১৫ হাজার টাকা করে দিতে হবে। যাতে সবাই কিনতে পারে। দেখবেন অল্প সময়ে দেশে দক্ষ জনগোষ্ঠীর অভাব হবে। মতবিনিময় সভায় ৩০/৩৫ জন আইবিএ গ্র্যাজুয়েটস অংশগ্রহণ করেন। রাত ৯টায় মত বিনিময় সভা শেষ হয়।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ