ডেস্ক রিপোর্ট (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
রাজধানীতে পুলিশের পোশাক পরে, পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতিতে তৎপর একটি সংঘবদ্ধ চক্র। শুধু তাই নয়, সাদা পোশাকের পুলিশের বিশেষ টহলে ব্যবহৃত মাইক্রবাস নিয়েও ঘটছে ডাকাতির ঘটনা।
শনিবার রাতভর ঢাকা মহানগরে অভিযান চালিয়ে এমন ঘটনায় জড়িত ৬ ডাকাতকে আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। রোববার এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের একথা জানান। মনিরুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া এলাকায় একটি মাইক্রোবাস থেকে ডাকাতদের আটক করা হয়। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশের পোশাকে ডাকাতি করার কথা স্বীকার করেন।
এসময় আটকদের কাছ থেকে দুই সেট পুলিশের পোশাক, একটি ওয়্যারলেস সেট, একটি খেলনা পিস্তল, দুইটি চাপাতি, এটি রামদা, একটি রড ও নেশা জাতীয় ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।
আটকরা হলেন, জুলহাস হাওলাদা ওরফে সাইফুল (২৭), মোকশেদুর সরদার (৩০), সোহেল রানা (৩৮), জাফর আহমেদ ওরফে হাসমত (৩০), সাইফুল ইসলাম (৩৩), কবীর হোসেন (৩৫)।
মনিরুল ইসলাম জানান, পুলিশের পোশাক এবং খেলনা পিস্তল নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ডাকাতি করতো তারা। সন্দেহ এড়াতে পুলিশের সাদা পোশাকেও চলত ডাকাতি।
রাজধানীর পলওয়েল মার্কেট থেকে পুলিশের পোশাক এবং হ্যান্ডকাপ কিনে মহাসড়কে চাঁদাবাজি করে বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে আটকরা ।
মনিরুল ইসলাম আরও জানান, ডাকাতরা একটি ট্রাকের গতিবিধি লক্ষ্য করে তাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরে ড্রাইভার ও হেলপারকে তরল পদার্থের সঙ্গে ট্যাবলেট মিশিয়ে খাইয়ে অচেতন করে আলু, পেয়াজ, রড, সিমেন্ট, কাপড় বোঝাই ট্রাক লুট করে। পরে খালি ট্রাকটি নারায়ণগঞ্জে ফেলে চলে যায় তারা।
তবে আসন্ন ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে মহাসড়কে পুলিশের বেশে অস্থায়ী চেকপোস্ট তৈরি করে গরু বোঝাই ট্রাক ডাকাতি করার পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু এর আগেই তাদের আটক করে পুলিশ।
পরে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করে তাদের ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
এদিকে অজ্ঞান পার্টির চার সদস্যকে গাবতলী এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে বলে জানান মনিরুল ইসলাম। পরে দারুসসালাম থানায় মামলা দায়ের করে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় তাদের।
গ্রেফতাররা হলেন, হোসেন (৩২), মিন্টু মিয়া (৩২), মিন্টু হাওলাদার (৩০), লাল মিয়া (৪০)।
এসময় তাদের কাছে থাকা বিপুল পরিমান চেতনা নাশক ওষুধ, মলম ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি জব্দ করে পুলিশ।
যুগ্ম কমিশনার আরও জানান, আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীতে ১০ থেকে ১২টি অজ্ঞান পার্টির চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাদের প্রধান লক্ষ্য গরুর হাট।
আটকরা ইমরান হাজী গ্যাংয়ের সদস্য। গডফাদার ইমরান হাজী একাধিকবার মক্কায় হজ করতে গিয়ে সেখানে হাজিদের অজ্ঞান করে মালামাল লুট করেছে।




