শুক্রবার, আগস্ট ১৪, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট (বিডি সময় ২৪ ডটকম)

ভূমিকম্পসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলাকে সহজ করতে বর্তমান সরকার ন্যাশনাল প্ল্যান ফর ডিজাস্টার মেনেজমেন্ট ২০১০ ও ২০১৫ এবং ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থানা নীতিমালা ২০১১ প্রণয়ন করেছে। পাশাপাশি এসব দুর্যোগ মোকাবেলায় বিশেষ উপকরণসহ সংগ্রহ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান সরকার দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস ও সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গত সাড়ে চার বছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন প্রণয়নসহ এখাতে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে।

তিনি বলেন, গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে (১৯৯৭ সাল) আমরা স্ট্যান্ডিং অর্ডারস অন ডিজাস্টার প্রণয়ন করি। আর এবার (২০১০ সালে) এটি সংশোধন করে যুগোপযোগী করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ন্যাশনাল প্লান ফর ডিজাস্টার মেনেজমেন্ট ২০১০-২০১৫ এবং ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০১১ প্রণয়ন করেছি। আমরা সার্ক এগ্রিমেন্ট অন রেপিড রেসপন্স টু ন্যাচারাল ডিজাস্টার চুক্তিও সম্পাদন করেছি।

তিনি বলেন, দ্রুত সাড়াদানকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, ওয়াসা, টিএন্ডটি, তিতাস, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোতে কন্টিনজেন্সি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় আমাদের গৃহীত এসকল কার্যক্রমের ফলে জীবন ও সম্পদের ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

তিনি বলেন, দুর্যোগে নারী ও শিশুর পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অথচ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কৌশল নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণ খুবই সীমিত।

এ প্রেক্ষিতেই দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘প্রতিবন্ধীদের সাথে রাখব, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ব’- অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি। আর এ কারণেই আমাদের সরকার দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে র‌্যাম্প স্থাপন করেছে।

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস’ পালনের মাধ্যমে বাংলাদেশের দুর্যোগ প্রস্তুতি কার্যক্রম অধিকতর গতিশীল হবে এবং চলমান কার্যক্রমে প্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণ আরও নিশ্চিত হবে বলে আমি আশা করি।

এর আগে দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী তার বক্তব্যে বলেছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন প্রতিবন্ধীরা। বিপদের সময় তাদের প্রতি অবহেলার মাত্রা বেড়ে যায়। সুতরাং সরকার প্রতিবন্ধীদের অসহায়ত্বের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

দুর্যোগমন্ত্রী বলেন, যে কোনো দুর্যোগে প্রতিবন্ধীরা সবচেয়ে বিপদাপন্ন হয়ে থাকে। সুতরাং দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণকালে এবং দুর্যোগ-উত্তর জরুরি সাড়া দানের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিক গুরুত্ব ও দৃষ্টি দিতে হবে। তাই প্রতিবন্ধীদের দুর্যোগ-পূর্ব, দুর্যোগকালীন ও দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে ঝুঁকি হ্রাসে বিশেষ সহায়তা প্রদানের বিষয়ে সর্বস্তরের জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়টি প্রাধান্য দিয়ে এ বছর দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ