রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২৬
প্রচ্ছদইন্টারভিউরাজধানীতে কোরবানির হাটগুলোতে পশু সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কমেছে, হতাশ ব্যবসায়ী ও...

রাজধানীতে কোরবানির হাটগুলোতে পশু সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কমেছে, হতাশ ব্যবসায়ী ও ইজারাদাররা

ন্যাশনাল ডেস্কঃ (বিডি সময় ২৪ ডটকম)

রাজধানীতে কোরবানির হাটগুলোতে পশু সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কমেছে। চাহিদার তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি পশু সরবরাহ হলেও অর্ধেক বেচাবিক্রি করতে পারবেন না বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যাপারী ও ইজারাদাররা। গরুর দাম কমে যাওয়ায় গো-খাদ্য খরচ, যানবাহন খরচ, পথে পথে চাঁদা দেয়া এবং নিজেদের খাবার খরচসহ সব মিলিয়ে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হবে বলে হতাশা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে হাট ইজারাদারদেরও লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করলেন ইজারাদাররাও।
গাবতলী হাটসহ বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে মোটামুটি বড় সাইজের গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে নিম্নে আড়াই লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা, যা গত বছর ব্যবসায়ীরা চেয়েছিল ৬ থেকে ৮ লাখ টাকা। মাঝারি আকারের একেকটি গরু ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ছোট গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। যা গত বছরের চেয়ে আরও কম। কিন্তু গত দু’দিন ধরে হাটের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পরিবর্তন হয়েছে অতিরিক্ত পশু সরবরাহ করার কারণে।
আরমানীটোলা গরুর হাটে যশোর থেকে আসা ব্যাপারি ইসমাইল দেওয়ান জানান, ‘গত বছর যে গরুর দাম ছিল ৪০ হাজার টাকা, এ বছর সেই গরুর দাম ৩০ হাজার টাকা, ৩২ হাজার টাকা। এ বছর শুরুতেই দাম কমে গেছে। এর কারণ হিসেবে জানান, সরবরাহ বেশি বলেই দাম কমে গেছে’।
রহমতগঞ্জ মাঠে হাটের ওয়াহেদ মিয়া দেশি ১৮টি গরু নিয়ে এসেছেন। বললেন, ‘প্রতিটি গরুর পেছনে খরচ পড়েছে ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা। সে অনুযায়ী দাম হাঁকা হয়েছিল ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। অথচ এখন তা বিক্রি করতে হচ্ছে ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা। ওয়াহেদ মিয়া জানান, পথে পথে চাঁদা দিয়ে, গরু পুষে, এত খরচ করে ঢাকায় এনে আর লাভ হচ্ছে না। রাস্তার যেখানে ট্রাফিক সেখানেই থামানো হয়েছে বলে জানান ওই ব্যবসায়ী’। তিন দিনে ৩টি মাত্র গরু বিক্রি করেছেন। ৩টি গরু বিক্রি করেছেন গত কয়েক দিনে।
আর তিন দিন পরেই ঈদুল আজহা। এই ঈদের বড় আয়োজন হচ্ছে কোরবানি। আর তাই রাজধানীর সব গরুর হাটে এখন ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। তার ওপর গতকাল এক পশলা বৃষ্টি হওয়ায় ক্রেতা-বিক্রেতারা কর্দমাক্ত হাটে বিপর্যস্ত অবস্থায় ছিলেন। হাটগুলোতেও কোরবানির পশু রয়েছে কানায় কানায়। এমনকি রাস্তার বাইরে বসেছে হাট। এবার গরু ছাগলের দাম ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যেই রয়েছে। গতকাল রাজধানীর গাবতলী স্থায়ী পশুর হাট, তালতলা, আগারগাঁও হাট, আরমানীটোলা, জিগাতলাসহ নগরীর ১৯টি স্থানে অস্থায়ী গরু ছাগলের হাট বসেছে। প্রতিটি হাট ঘুরে একই চিত্র দেখা যায়।
বিক্রেতারা জানান, যে আশায় গরু নিয়ে ঢাকায় এসেছি, সে আশা এবারও পূরণ হচ্ছে না। তারা বলেন, গ্রাম থেকে ঢাকায় গরু নিয়ে আসতে পথে অনেক খরচ হয়ে যায়। চাঁদাবাজির কারণে গরুপ্রতি দাম বেড়ে যায় চার-পাঁচ হাজার টাকা। চাঁদা দিয়ে অনেক ব্যাপারী আবার স্বীকারও করতে চায় না। কমলাপুর, আরমানীটোলা, ঝিগাতলা হাটের একাধিক পশু ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, গরুপ্রতি এক হাজার, দেড় হাজার টাকা নিয়েছে পুলিশ। কিন্তু ক্রেতারা সে অনুযায়ী দাম দিয়ে গরু কিনছে না। তাই বিক্রেতারা আশায় গরু নিয়ে হাটে অপেক্ষায় রয়েছেন। গতকাল বন্ধের দিনে অনেকেই হাটে গিয়েছেন গরু কেনার আশায়। কেউ কেউ গিয়েছেন শুধুই দাম দেখতে। কোরবানির পশু কিনবেন আরও দুই-একদিন পরে। কেনাবেচাও হচ্ছে। গবতলী, আগারগাঁও-তালতলা ও কমলাপুর গরুর হাটে ২৫ হাজার থেকে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকায় ও ৪ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকায় ছাগল রয়েছে।
গাবতলী থেকে তারিকুল ইসলাম হিরা ৩৫ হাজার টাকায় একটি নাদুস-নুদুস গরু কিনেছেন। তার কাছে গরুর দামের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত হাটে গরু-ছাগলের দাম নাগালের মধ্যে রয়েছে। তাই দেরি না করে পছন্দের গরুটি কিনে নিয়ে যাচ্ছি। এদিকে রাজধানীর প্রতিটি হাটেই প্রচুর পরিমাণে রয়েছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের গরু-ছাগল।
আবার গাবতলী হাটে আসা কোনো কোনো ক্রেতা অভিযোগ করেন গরু-ছাগলের দাম মাত্রাতিরিক্ত। তবে অন্যান্য হাটে ক্রেতা বলেন, এবার দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। রাজধানীর গাবতলীর গরুর হাটের ব্যাপারী মজনু মিয়া জানালেন, দিনাজপুর থেকে তিনি ৫০টি গরু নিয়ে এসেছেন গাবতলী হাটে। গত দু’দিনে তার ৫টি গরু বিক্রি হয়েছে। যে দরে গরু কিনে এনেছেন, সে অনুযায়ী দামে বিক্রি করতে পারলে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই থাকত। কিন্তু পথে পথে চাঁদাবাজি এবং পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধি ও পরিবহন ভাড়া আকাশচুম্বী হওয়ায় বেশি দাম হাঁকাতে হচ্ছে। তবুও শেষ রক্ষা হচ্ছে না।
এদিকে গরুর হাটের বাইরে পশু রাখায় কোনো কোনো এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে রাজধানীর কোনো কোনো এলাকায় মানুষের দুর্ভোগ চরমভাবে বেড়েছে। গাবতলী হাটের জন্য আমিন বাজার, গাবতলী, মাজার রোড, কমলাপুরে গোপীবাগ, টিটিপাড়া, পুরান ঢাকার নয়াবাজার, ইংলিশ রোড এলাকসহ অলি-গলি এখন অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ