মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৬
প্রচ্ছদটপবঙ্গবন্ধুর খু‌নি মা‌জেদের মৃত‌্যুদণ্ডের পরোয়ানা জা‌রি, কারাগারে আসলে সেটা পড়ে শোনানো...

বঙ্গবন্ধুর খু‌নি মা‌জেদের মৃত‌্যুদণ্ডের পরোয়ানা জা‌রি, কারাগারে আসলে সেটা পড়ে শোনানো হবে

বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি মৃত‌্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আব্দুল মাজেদের বিরু‌দ্ধে মৃত‌্যুদ‌ণ্ডের সাজার প‌রোয়ানা জা‌রি ক‌রে‌ছেন আদালত।

৮ এ‌প্রিল দুপু‌রে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ এম হেলাল উদ্দিন চৌধুরী বঙ্গবন্ধু হত‌্যা মামলায় তা‌কে গ্রেফতার দে‌খি‌য়ে এ প‌রোয়ানা ইস‌্যু ক‌রেন।

এদিন সকা‌লেই রাষ্ট্রপ‌ক্ষে আইনজীবী মোশাররফ হো‌সেন কাজল প্রথ‌মে মা‌জেদ‌কে এ মামলায় গ্রেফতার দেখা‌নোর আবেদন ক‌রেন। ত‌বে আদালত বন্ধ থাকায় ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ কো‌নো পদ‌ক্ষেপ না নি‌তে পারার বিষয়‌টি সু‌প্রিমকো‌র্টের নজ‌রে আনেন। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন এরপর ওই বিচারকের ছুটি শুধু ৮ এপ্রিলের জন‌্য বা‌তিল ক‌রেন।

এরপর আদালত মা‌জে‌দের বিরু‌দ্ধে প্রডাকশন ওয়া‌রেন্ট (হা‌জিরা প‌রোয়ানা) ইস‌্যু ক‌রলে তাকে কেরানীঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগার থে‌কে পুরান ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদাল‌তে হা‌জির করা হয়। এসময় আদালত প্রথ‌মে তা‌কে গ্রেফতার দেখা‌নোর আবেদন মঞ্জুর ক‌রেন।

এরপর রাষ্ট্রপ‌ক্ষ তার বিরু‌দ্ধে সাজা প‌রোয়ানা ইস‌্যুর আবেদন ক‌রে। এসময় বিচারক সাজা প‌রোয়ানা প‌ড়ে শোনা‌লে মা‌জেদ নি‌জে‌কে নি‌র্দোষ দা‌বি ক‌রেন। প‌রে তার বিরু‌দ্ধে মৃত‌্যুদণ্ডের সাজা প‌রোয়ানা জা‌রির আবেদন মঞ্জুর ক‌রে আদেশ দেন ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ এম হেলাল উদ্দিন চৌধুরী।

এর আগে ৭ এপ্রিল দুপু‌রে ঢাকার চিফ মে‌ট্রোপ‌লিটন ম‌্যা‌জিস্ট্রেট (সিএমএম) আদাল‌তে নেওয়া হলে বিচারক তা‌কে কারাগা‌রে পাঠা‌নোর আদেশ দেন। এরপর তা‌কে কেন্দ্রীয় কারাগা‌রের ফাঁসির সে‌লে রাখা হয়। ৬ এপ্রিল দিনগত রাত ৩টার দিকে মিরপুর থেকে মাজেদকে গ্রেফতার করা হয়।

মৃত্যুর পরোয়ানা হাতে পেলে নিয়ম অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আত্মস্বীকৃত খুনি মৃত‌্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন (বরখাস্তকৃত) আব্দুল মাজেদকে সেটা পড়ে শোনানো হবে।

তিনি যদি রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা রাজি হন তাহলে তার চিঠিটি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে তবে। তবে এখন পর্যন্ত মৃত্যুর পরোয়ানার পত্রটি আমাদের কারাগারে আসেনি।

৮ এপ্রিল সোয়া তিনটার দিকে এ তথ্য জানান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের (কেরানীগঞ্জ) জেলার মাহবুবুল ইসলাম।

তিনি জানান, মৃত্যুর পরোয়ানা পত্রটি কারাগারে এসে পৌঁছালে নিয়ম অনুযায়ী মাজেদকে পড়ে শোনানো হবে। তারপর তিনি যদি রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা আবেদন করেন, সেই আবেদনটি কারা কর্তৃপক্ষ কাছে হস্তান্তর করা হবে।

কারাগারের ভেতরে ফাঁসির মঞ্চ সবসময় প্রস্তুত থাকে। তবে পুরান ঢাকা থেকে কেরানীগঞ্জে কারাগার হস্তান্তরের পর থেকে এখন পর্যন্ত কেরানীগঞ্জ কারাগারে ফাঁসির মঞ্চে কোনো ফাঁসি কার্যকর হয়নি।

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় আব্দুল মাজেদসহ ১২ আসামিকে ২০০৯ সালে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান, বজলুল হুদা, এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ ও মুহিউদ্দিন আহমেদের ফাঁসি ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি কার্যকর হয়।

রায় কার্যকরের আগে ২০০২ সালে পলাতক অবস্থায় জিম্বাবুয়েতে মারা যান আসামি আজিজ পাশা। আব্দুল মাজেদ গ্রেফতার হওয়ার পর বর্তমানে পলাতক রয়েছেন পাঁচজন। পলাতক আসামিরারা হলেন- খন্দকার আবদুর রশীদ, শরিফুল হক ডালিম, এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী, এ এম রাশেদ চৌধুরী ও মোসলেম উদ্দিন। তারা সবাই সাবেক সেনা কর্মকর্তা। তারা বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছেন।

 

আরও পড়ুন

সর্বশেষ