সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়কেন্দ্রে ভোটাদের আনার দায়িত্ব কমিশনের নয় : সিইসি

কেন্দ্রে ভোটাদের আনার দায়িত্ব কমিশনের নয় : সিইসি

ভোটকেন্দ্রে ভোটাদের আনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা। তিনি বলেন, ইসির দায়িত্ব নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করা, আর কেন্দ্রে ভোটার আনার দায়িত্ব প্রার্থীদের। ১ ফেব্রুয়ারি বেলা সাড়ে ১১টা ৫মিনিটে রাজধানীর উত্তরা ৫ নম্বর সেক্টরের আই ই এস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোটপ্রয়োগ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সিইসি এ কথা বলেন।

কেএম নূরুল হুদা বলেন, এজেন্টদের কেন্দ্রে টিকে থাকতে হবে। যদি কেউ বাধা প্রদান করে তাহলে তাদের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে গিয়ে অভিযোগ করতে হবে। এ অভিযোগেও যদি সমাধান না হয়, তাহলে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর শরণাপন্ন হতে হবে। সেটা না করে বাইরে গিয়ে অভিযোগ করবেন, এজেন্টদের বের করে দিচ্ছে, সেই অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়, এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, এজেন্টদের ধৈর্য ধরতে হবে। তারা নিয়মতান্ত্রিক প্রতিবাদ করবেন। এসব না করে বের হয়ে অভিযোগ করলেও কোনো লাভ হবে না।

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটারদের ইতিবাচক সাড়া মিলছে জানিয়ে কেএম নূরুল হুদা বলেন, ইভিএমে ভোট দিতে পেরে ভোটাররা খুশি। ভোটের পরিবেশ খুব শান্ত। আমরা এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পায়নি। সুন্দরভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। আমরা ভোটের সার্বিক পরিস্থিতিতে সন্তুষ্ট। ভোট দিচ্ছেন সিইসি কেএম নুরুল হুদা। ছবি: শাকিল আহমেদসিইসি বলেন, ভোটাদের উপস্থিতি এখন পর্যন্ত কিছুটা কম। তবে, বেলা বাড়লে ভোটাদের উপস্থিতিও আরও বাড়বে। এ কেন্দ্রে ২৭৬ জন ভোট দিয়েছেন। তিনি ভোটের পরিবেশ শান্ত রাখতে প্রার্থীদের অনুরোধ জানান।

এর আগে শনিবার সকাল ৮টায় ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি), চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

এবার প্রথমবারের মতো বিভক্ত ঢাকার দুই সিটিতে একযোগে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। আর এটিই ইভিএমে সবচেয়ে বড় নির্বাচন।

ভোটে বিএনপি ও আওয়ামী লীগসহ নয়টি দলের ১৩ জন প্রার্থী মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া কাউন্সিলর পদে প্রায় সাড়ে সাতশ প্রার্থী রয়েছেন মাঠে। ফলাফল গেজেটে আকারে প্রকাশ পর্যন্ত কোনো ধরনের মিছিল, মশাল মিছিল, মোটরসাইকেল মিছিল, শোডাউন করা যাবে না। বাইক বন্ধ থাকবে ২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। আর সব যন্ত্রযান বন্ধ থাকবে ১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখা জানিয়েছে, উত্তরে মেয়র পদে ৬ জন, ৭৫টি সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ২৫১ জন এবং ২৫টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ৭৭ জন অর্থাৎ তিন পদে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ৩৩৪ জন।

মেয়র প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির তাবিথ আউয়াল, আওয়ামী লীগের আতিকুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ, পিডিপির শাহীন খান, এনপিপির মো. আনিসুর রহমান দেওয়ান ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির আহম্মেদ সাজ্জাদুল হক।

অন্যদিকে ডিএসসিসিতে মেয়র পদে ৭ জন, ৫৪টি সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ৩৩৫ জন ও ১৮টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ৮২ জন অর্থাৎ ৪২৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছে।

মেয়র পদে সাত প্রার্থী হলেন- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস, বিএনপির ইশরাক হোসেন, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, ইসলামী আন্দোলনের মো. আবদুর রহমান, এনপিপি’র বাহরানে সুলতান বাহার, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. আকতার উজ্জামান ওরফে আয়াতুল্লা ও গণফ্রন্টের আব্দুস সামাদ সুজন।

ঢাকার দু’সিটিতে ২ হাজার ৪৬৮টি ভোটকেন্দ্র ও ১৪ হাজার ৪৩৪টি ভোটকক্ষ রয়েছে। এরমধ্যে ঢাকা উত্তর সিটিতে ১ হাজার ৩১৮টি ভোটকেন্দ্র ও ৭ হাজার ৮৫৭টি ভোটকক্ষ এবং দক্ষিণ সিটিতে এক হাজার ১৫০টি ভোটকেন্দ্র ও ৬ হাজার ৫৮৮টি ভোটকক্ষ রয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ