আমরা সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে ও স্বচ্ছতার সাথে পালন করলে ভূমি সেবা প্রদানে আর সমস্যা থাকবেনা। আপনাদের মাঠ পর্যায়ে লব্ধ অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর মাধ্যমে মানুষকে সেবা প্রদান ও দেশের উন্নয়নে অবদান রাখলে আজকের এবং আগামী প্রজন্ম ভালো থাকবে। আমাদের সবার সাধারণ বুদ্ধি প্রয়োগ করতে হবে কোন কাজ করার পূর্বে। দ্যার্থকতা থাকলে সহকর্মীদের সাথে পরামর্শ করতে হবে। মূল কথা মানুষকে সেবা প্রদান করতে হবে।
ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত ‘সরকারি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিতে দেওয়ানি মামলার রায়ের ভিত্তিতে রেকর্ড সংশোধনসহ সরকারি সম্পত্তি সুষ্ঠুভাবে রক্ষণাবেক্ষণ’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন।
সরকারি সম্পত্তি ভুলভাবে রেকর্ড হলে তা রক্ষা করতে হবে, অন্যদিকে ব্যক্তি-জমি খাস হিসেবে রেকর্ড হয়ে গেলে মানুষ যেন ভোগান্তিতে না পরে তাতেও লক্ষ্য রাখতে হবে। আমরা এমন একটি ‘সিস্টেম’ দাঁড় করাতে চেষ্টা করছি যেন এ ধরণের ভুলভ্রান্তির জন্য কারও সর্বোচ্চ আদালতে যেতে না হয়। কারও পৈত্রিক সম্পত্তি সিএস ও আরএস রেকর্ডে থাকার পরেও যদি হাল জরিপে ভুলভাবে সরকারি তালিকাভুক্ত হয় তাহলে তা স্থানীয় পর্যায়ে সমাধান করার চেষ্টা করতে হবে যেন শুরুতেই আদালতে যেতে না হয় – বলেন সাইফুজ্জামান চৌধুরী।
মন্ত্রী বলেন, স্থানীয়ভাবে যেন রেকর্ড মামলা নিষ্পত্তি করা যায় সে জন্য জেলা প্রশাসক, জিপি (সরকারি কৌঁসুলি), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও বিভাগীয় কমিশনারের প্রতিনিধির সমন্বয়ে কমিটি গঠন করতে হবে। উক্ত কমিটি প্রতিকারপ্রার্থীর বক্তব্য শুনে অভিযোগ নিষ্পত্তি করবে। বর্ণিত কমিটির আপীল কর্তৃপক্ষ হবেন সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার।
ভুলের কারণে অন্যের নামে তালিকাভুক্ত হওয়া সম্পত্তি বিদ্যমান আইনের আওতায় মূল মালিক কিংবা উত্তরাধিকারীকে ফিরিয়ে দেবার মত প্রদান করেন কর্মশালার সভাপতি ভূমিসচিব মোঃ মাক্ছুদুর রহমান পাটওয়ারী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আইন) আনিস মাহমুদ। মন্ত্রণালয়ের পরিবর্তে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে যৌক্তিকতাসহ নামজারির কেস রেকর্ড প্রেরণ, সরকারি জমির ক্ষেত্রে তামাদি শব্দটি প্রযোজ্য না করা সহ নয়টি সুপারিশ প্রদান করেন আনিস মাহমুদ। কর্মশালায় নির্ধারিত আলোচকবৃন্দ ছিলেন ভূমি আপীল বোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ আবদুল হান্নান, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান উম্মুল হাছনা, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জনাব মোঃ তসলীমুল ইসলাম। মোঃ আবদুল হান্নান বলেন আধুনিক সার্ভে সিস্টেমে স্থানীয় পর্যায়ে ভুল হবার সুযোগ অনেক কম।
ঢাকার বিজ্ঞ জিপি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন এখনও যেখানে সরকারি সম্পত্তির নিশ্চিত কোন সংজ্ঞা নেই – এজন্য অনেক ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। কয়েকটি মন্ত্রণালয় মিলে বিষয়টির সমাধান করা উচিৎ। ভূমিমন্ত্রী তাঁকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানানোর জন্যে অনুরোধ করেন।
উন্মুক্ত আলোচনার মধ্যে দিয়ে কর্মশালার কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীবৃন্দ দল ভিত্তিক কার্যক্রম শুরু করেন এবং নিজ দলের কাজের উপস্থাপনা করেন। অংশগ্রহণকারীবৃন্দের সুপারিশগুলো নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে কর্মশালা সমাপ্ত হয়। ভূমি মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন পেশাজীবী ব্যক্তি ও গণমাধ্যম কর্মীসহ কর্মশালায় প্রায় শতাধিক অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন।




