বর্তমান যুগে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে ডিজিটাল মনিটরিং প্রয়োজন। সেলক্ষ্যে রাজধানীর ৮০ লাখ নাগরিকের তথ্য ইতোমধ্যে সিটিজেন ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’র (সিআইএমএস) ডাটাবেজে সংরক্ষিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। ২৯ জানুয়ারি রাজধানীর আফতারনগরের ‘জহুরুল ইসলাম সিটি সিসিটিভি কন্ট্রোল রুম’ উদ্বোধন ও পুলিশ সেবা সপ্তাহ’র র্যালি শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, একটি টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশ্বের উন্নত শহরগুলোর মতো আমরা ঢাকার নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করেছি, আধুনিক তথ্য ডাটাবেজ করেছি, এর নাম ‘সিআইএমএস’। এই মুহূর্তে রাজধানীর ৮০ লাখ নাগরিকের তথ্য রয়েছে আমাদের ডাটাবেজে। যাতে কোনো এলাকায় অপরাধ সংঘটিত হলে ওই এলাকার বসবাসরত লোকদের সহজেই আমরা খুঁজে বের করতে পারি।
আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, মহানগরীতে ছিনতাই, ডাকাতি, অজ্ঞান ও মলম পার্টির এসব এখন আর নেই বললেই চলে। তারপরও দু’একটা ঘটনা সংঘটিত হলে আমরা ন্যূনতম সময়ের মধ্যে তা চিহ্নিত করে ফেলছি কারণ আমরা এখন প্রযুক্তির ব্যবহার করছি, সিসি টিভির মাধ্যমে পর্যালোচনা করছি।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, কোনো ব্যবসায়ীকে চাঁদা দিতে হবে না, এটি নিশ্চিত করছি ইনশাআল্লাহ। টেন্ডারবাজি হবে না, ভূমি দখল হবে না, মাদকের ব্যবসা থাকবে না। যদি ঢাকা মহানগরের কেউ মাদকের ব্যবসা করে, সে যেই হোক, তার পরিচয় যা-ই হোক, সে যত শক্তিশালী হোক, তাকে ইনশাআল্লাহ মাজায় রশি দিয়ে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাব। এটা আপনাদের কাছে আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার। মাদক ব্যবসার সঙ্গে যদি কোনো পুলিশ সদস্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে এমন দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করব যে, সারা দেশের মানুষ দেখবে, পুলিশ নিজেদের লোকের বিরুদ্ধে কীভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেয়।
শুধু অপরাধ ও অপরাধের জন্য নয়, ডিজিটাল মনিটরিং দেশের সব ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য অবশ্যক মন্তব্য করে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আপনারা জানেন গুলশান, বনানী, নিকেতন বারিধারা বিভিন্ন সোসাইটির মাধ্যমে হাজার হাজার সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে এলাকাগুলোকে ডিজিটাল মনিটরিংয়ের ভেতর নিয়ে এসেছি, ফলে ওইসব এলাকাগুলোতে অপরাধ এক প্রকার শূন্য।
তারই ধারাবাহিকতায় আজকে আফতাবনগর জহুরুল ইসলাম সিটিতে একশ’ সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্বোধন হলো। যা এখানকার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা বলতে পারি এই সিসিটিভি স্থাপনের মাধ্যমে এলাকায় টেকসই নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং জনগণ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে।




