সারা দেশে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর সময় বন্দুকযুদ্ধে নিহতের ঘটনা অব্যাহত আছে। গতকাল শনিবার রাতেও দেশের আট জেলায় আটজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ইয়াবা আসার মূল ট্রানজিট পয়েন্ট কক্সবাজারের একজন নির্বাচিত কাউন্সিলরও আছেন। নিহত একরামুল হক টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছিলেন।
এ ছাড়া বাগেরহাট, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ময়মনসিংহ, মেহেরপুর, চাঁদপুর, কুষ্টিয়ায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে সাত ‘মাদক ব্যবসায়ী’ নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে ৮ দিনে টানা ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনায় সারা দেশে ৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন-
কক্সবাজার: মাদকবিরোধী অভিযানের সময় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর একরামুল হক নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কের নোয়াখালীয়া পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। একরামুল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি টেকনাফ পৌর আওয়ামী যুবলীগের সাবেক সভাপতি এবং তিনবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন।
র্যাব-৭ কক্সবাজার ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর রুহুল আমিন দাবি করেন, একরামুলের অবস্থান জানতে পেরে মেরিন ড্রাইভ সড়কের টেকনাফের নোয়াখালী পাড়ায় র্যাব অভিযান শুরু করে। তখন একদল ইয়াবা ব্যবসায়ী র্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি করে। র্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়।
ঘটনাস্থল থেকে একজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে স্থানীয়রা কাউন্সিলর একরামুলকে সনাক্ত করেন। সেখান থেকে ১০ হাজার ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ওয়ান শুটারগান উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতদেহটি টেকনাফ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। টেকনাফ থানার (ওসি) রনজিত কুমার বড়ুয়া জানান, ময়নাতদন্তের জন্য একরামুলের মৃতদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে টেকনাফসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহ শহরের মরাখলা এলাকায় গতকাল রাতে কথিত বন্দুকযুদ্ধে এক অজ্ঞাত যুবক নিহত হয়েছেন। রোববার ভোর রাতে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ওসি মো. আশিকুর রহমান দাবি করেন, রাত দেড়টায় মরাখলা এলাকায় মাদক ভাগাভাগি করছিল ব্যবসায়ীরা। সংবাদ পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করে। পুলিশও গুলি করে। একজন গুলিবিদ্ধ হয়। তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ওসির আরও দাবি, এ সময় ডিবি পুলিশের দুই কনস্টেবল হুমায়ুন ও আমির হামজা গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে ১০০ গ্রাম হেরোইন, চারটি গুলির খোসা, দুটি রামদা এবং ১০০ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
বাগেরহাট : বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে মিথুল বিশ্বাস (৩২) নামে এক মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। আজ ভোরে উপজেলার কলাতলা ইউনিয়নের পিংগুড়িয়া এলাকায় এ ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে। নিহত মিথুল ওই এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বিরুদ্ধে বাগেরহাটের বিভিন্ন থানায় হত্যা, মাদক ও পুলিশের ওপর হামলাসহ ২০টি মামলা রয়েছে। চিতলমারী থানার ওসি অনুকূল বিশ্বাস দাবি করেন, মিথুল দীর্ঘদিন ধরে মাদক বিক্রি করে আসছিলেন। গত রাতে পুলিশ তাঁর মাদক বিক্রির আস্তানায় হানা দেয়। এ সময় তাঁর দলবল পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করে। পুলিশও পাল্টা গুলি করে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মিথুল পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের হাতে আটক হন। তাঁকে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। লাশ বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুই কেজি গাঁজা, ১০টি ইয়াবা, একটি শার্টারগান ও দুটি গুলি উদ্ধার করে বলে দাবি করেছেন ওসি।




