শুক্রবার, আগস্ট ১৪, ২০২৬
প্রচ্ছদআরো খবর......জেরার ‘ফাঁদে’ দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা

জেরার ‘ফাঁদে’ দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা

তদন্ত কর্মকর্তাকে দীর্ঘ জেরার কারণে বিলম্বিত হচ্ছে আলোচিত দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার বিচার প্রক্রিয়া। গত চার মাসে তার সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে তিন দিন, আর জেরা ও হরতালে পার হয়েছে আরও ২২ কার্যদিবস। খবর বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর ডটকম-এর।
মামলাটি তদন্ত করছেন মনিরুজ্জামান চৌধুরী।
চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালত ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক এস এম মজিবুর রহমানের আদালতে গত ২২ এপ্রিল সাক্ষ্য দেওয়া শুরু করেন তিনি। এরপর ২২ ও ২৩ এপ্রিল এবং ৬ মে তার সাক্ষ্য নেওয়া হয়। ২৪ এপ্রিল হরতাল থাকায় সেদিন ধার্য দিনে সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। এরপর ২১ কার্যদিবসে তাকে জেরা করেন দশ আসামির আইনজীবীরা। বাকি রয়েছে আরও চার আসামির পক্ষে জেরা।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কামাল উদ্দিন আহম্মদ বলেন, আসামিপক্ষ সময়ক্ষেপণের জন্য অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে জেরা করছেন।
‘এক বিষয় একাধিকবারও জানতে চাইছেন। আমার আইন পেশার জীবনে এতো দীর্ঘ সময় কোনো আইওকে জেরা করতে দেখিনি।’
তিনি বলেন, এটি কোনো সাধারণ মামলা নয়, বিশেষ মামলা। আসামিপক্ষ দীর্ঘসূত্রিতার মাধ্যমে এই সরকারের মেয়াদ অতিক্রম করতে চায়।
তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, ন্যায়বিচারের স্বার্থেই তারা তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করছেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবীদের দীর্ঘ সময় জেরার সঙ্গে যোগ হয়েছে বিরোধীদলের হরতাল। মামলায় শুনানির দিন থাকলেও হরতালের দিনে কোনো জেরা বা সাক্ষ্যগ্রহণ হয় না।
সাক্ষ্য ও জেরার ২৫ কার্যদিবসের মধ্যে মোট আট দিন হরতালের কারণে মামলার কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। আদালত এইসব দিনে শুধু পরবর্তী দিন নির্ধারণ করে।
সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করেন আসামি মেজর (অব.) লিয়াকত হোসেনের আইনজীবী। এইদিন ছিল আইওকে জেরার ২১তম কার্যদিবস।
জেরা অসমাপ্ত রেখেই দিনের কার্যক্রম শেষে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন রাখে আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০০৯ সালের ২৯ জানুয়ারি আলোচিত এ মামলার পঞ্চম ও সর্বশেষ আইও হিসেবে দায়িত্ব নেন সিআইডি চট্টগ্রাম অঞ্চলের সিনিয়র এএসপি মনিরুজ্জামান।
অধিকতর তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ২৬ জুন ১০ ট্রাক অস্ত্র আটকের ঘটনায় করা অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের দুটি মামলায় সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেন তিনি।
সম্পূরক অভিযোগপত্রে নতুন ১১ জনসহ মোট ৫২ জনকে আসামি করা হয়। ২০১১ সালের ২৯ নভেম্বর আবার এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
এর আগে ২০০৫ সালের ৬ জুলাই প্রথমবার এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ২০০৭ সালের ১৪ আগস্ট পর্যন্ত অস্ত্র মামলায় ৩১ জন এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় ২৮ জন সাক্ষ্য দেয়।
গত ২২ এপ্রিল থেকে আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে তদন্ত কর্মকর্তা ১০ ট্রাক সমপরিমাণ অস্ত্র আনার ঘটনায় হাফিজুর রহমান, দ্বীন মোহাম্মদ, উলফার সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়ুয়া, এনএসআইয়ের সাবেক মাঠ কর্মকর্তা আকবর হোসেন, সিইউএফএলের তৎকালীন এমডি মহসীন উদ্দিন তালুকদার ও জিএম (প্রশাসন) কে এম এনামুল হক, এনএসআইয়ের তৎকালীন পরিচালক (নিরাপত্তা) উইং কমান্ডার (অব.) শাহাবুদ্দিন, এনএসআইর সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, এনএসআইয়ের তৎকালীন মহাপরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম ও তৎকালীন উপ-পরিচালক (টেকনিক্যাল) মেজর (অব.) লিয়াকত হোসেন, সাবেক শিল্প সচিব নুরুল আমিন, সাবেক শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের সম্পৃক্ততার বিষয়ে বক্তব্য দেন।
এরপর ৭ মে থেকে মনিরুজ্জামানকে জেরা শুরু করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
পর্যায়ক্রমে ১৫, ১৬ ও ২৮ মে জেরা হয়। ২৯ মে হরতালের কারণে জেরা হয়নি। এরপর ৩০ মে, ১২ ও ১৩ জুন এবং ১ ও ২ জুলাই জেরা করেন আসমির আইনজীবীরা।
হরতালের কারণে ৩, ১৫, ১৬ ও ১৭ জুলাই নির্ধারিত দিনে জেরা হয়নি। ২৮, ২৯ ও ৩০ জুলাইয়ে জেরার পর আবার হরতালে কারণে ১৩ ও ১৪ আগস্ট জেরা হয়নি। সর্বশেষ গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার জেরা হয়।
এ বিষয়ে বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম ও মেজর (অব.) লিয়াকতের আইনজীবী কামরুল ইসলাম সাজ্জাদ বলেন, সাক্ষ্যে অনেকের নাম এসেছে। ন্যায় বিচারের স্বার্থেই আইওকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
আসামি লুৎফুজ্জামান বাবর, স্থানীয় মেব্বার বদনি, জসিম ও পাগলা আরজুর পক্ষেও জেরা করা হবে। এতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ