স্পেনের বার্সেলোনায় ভিড়ের মধ্যে ভ্যান চালিয়ে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় কোনো বাংলাদেশির হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। মাদ্রিদে বাংলাদেশ দূতাবাসের হেড অব চ্যান্সেরি এম হারুণ আল রাশিদ বলেন, “বার্সেলোনায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি রয়েছেন। তাই আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশির হতাহতের খবর আমাদের কাছে আসেনি। প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থেকে চলফেরা করার পরামর্শ দিয়েছেন দূতাবাসের এই কর্মকর্তা।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে সাদা রঙের একটি ভ্যান পর্যটন শহর বার্সেলোনার লা রাম্বলা সড়কে ভিড়ের মধ্যে উঠিয়ে দেওয়া হলে অন্তত ১৩ জন নিহত হন। স্থানীয় পুলিশ মসোসের তালিকা অনুযায়ী, ওই হামলায় আহত হয়েছেন আরও অর্ধশতাধিক মানুষ, যাদের মধ্যে ১৫ জনের অবস্থা গুরুতর। স্পেনের প্রেসিডেন্ট মারিয়ানো রাখোই এ ঘটনায় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন। এই তিন দিন স্পেনের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি দল ইসলামিক স্টেট (আইএস) দাবি করেছে, তাদের এক যোদ্ধা এই হামলা চালিয়েছে।
হামলায় ব্যবহৃত ওই ভ্যানটি ভাড়া করা হয়েছিল এদ্রিস আকবর নামে মরক্কান বংশদ্ভূত এক স্প্যানিশ নাগরিকের নামে। বার্সেলোনার প্রায় ২৫ কিলোমিটার উত্তরের শহর সান্তা পেরপেতোয়া দে মগোদা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে কাতালান পুলিশ। আরেকটি গাড়ির ভেতরে পাওয়া গেছে সন্দেহভাজন আরও একজনের লাশ। তার গাড়ি থামাতে ব্যর্থ হয়ে পুলিশ গুলি করেছিল। তবে পুলিশের গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে, নাকি তিনি আত্মহত্যা করেছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। লা রাম্বলায় ভিড়ের মধ্যে ভ্যান চালিয়ে দেওয়ার ঘটনার সময় কাছেই ছিলেন আলী হাসান আজমল নামের একজন প্রবাসী বাংলাদেশি। তিনি বলেন, “আমি পাশ দিয়ে বাই সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখলাম দ্রুত গতিতে একটা গাড়ি রাম্বলার উপর উঠল। আতঙ্কে মানুষ চিৎকার আর ছুটোছুটি শুরু করল। আমি তখন সাইকেল নিয়ে নিরাপদ দূরত্বে সরে গেলাম। আজমল জানান, দূর থেকেও মানুষের রক্তাক্ত দেহ ঘটনাস্থলে পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছিল। তখনকার পরিস্থিতি মোবাইল ফোনে ভিডিও করেছেন তিনি। সন্ত্রাসী হামলার এই ঘটনার পর পুরো স্পেনে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রাম্বলা ও আশপাশের রাস্তায় যানবাহন চলাচলে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এর আগে ২০০৪ সালে স্পেনের মাদ্রিদে পাতাল রেলের সন্ত্রাসী হামলায় আটজন নিহত হয়েছিলেন।




