শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়ভ্রমন পিপাসুদের কাছে আকর্ষণ আনোয়ারা পারকি সমুদ্র সৈকত

ভ্রমন পিপাসুদের কাছে আকর্ষণ আনোয়ারা পারকি সমুদ্র সৈকত

ইমরান হোসাইন খুকি, আনোয়ারা, চট্টগ্রাম

প্রকৃতির লীলাভূমি ও বারআউলিয়ার পূণ্য স্মৃতি বিজড়িত আনোয়ারাকে বিধাতা যেন সৃষ্টির সবটুকু সৌন্দর্য্য উজার করে নিজের মাধুরী দিয়ে সাজিয়েছেন। সৃষ্টির আশ্চর্য্য সৌন্দর্য্যরে সব কিছুই এখানে রয়েছে। পাহাড়, সমুদ্র, প্রাকৃতিক লোকের নয়ন জুড়ানো নীল জলরাশি, সবুজে ছেয়ে যাওয়া ভূমি, অসংখ্য পৌরানিক স্মৃতি বিজড়িত তীর্থস্থান, বন্দর বৌদ্ধ ভূমি ও ইকোপার্ক কি নেই এখানে? তাইতো আনোয়ারার তিলোত্তমা রুপ দেখতে এখানে প্রতিবছর ছুটে আসেন হাজার হাজার প্রকৃতি প্রেমী।
এদিকে আনোয়ারাতে দর্শনীয় স্থান অনেক হলেও ভ্রমন পিপাসুদের কাছে সমুদ্রের  আকর্ষণ যে সবসময় একটু বেশি তা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। আর তাইতো তেমন প্রচারের আলো না থাকলেও ইতোমধ্যে আপনরুপেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে আনোয়ারার পারকি সমুদ্র সৈকত। প্রতিদিন দূর দুরান্ত থেকে এখানে ছুটে আসছেন পর্যটকরা। সরেজমিনে আনোয়ারার সমুদ্র উপকুলে গিয়ে দেখাযায় বিস্তীর্ণ বালু চরে আছড়ে পড়া সমুদ্রের বিশাল বিশাল ঢেউগুলো দর্শনার্থীদের দুহাত বাড়িয়ে কাছে ডাকে বার বার। বিকেলের হেলে পড়া সূর্য্যরে আলোয় বালু চরের উপর শিশু কিশোরদের ছুটোছুটি এবং প্রিয়জনকে কাছে নিয়ে দূর দিগন্তে আপন মনে চেয়ে থাকা নব দম্পতিদের তৃপ্ত মুখই বলে দেয় এখানে এসে আনন্দে আতœহারা তারা। স্থানীয় পারকি গ্রামের জনৈক কফিল উদ্দিন জানান, প্রতিদিনই এখানে ভ্রমনে আসেন অসংখ্য মানুষ। টেক্স্রী, মাইক্রো বা বাসে পর্যটকদের আগমনে কয়েক কিঃমি দৈর্ঘ্যরে এই সৈকত মুখরিত থাকে সবসময়। তার মতে এত সুন্দর এই পর্যটন সেক্টর নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ যদি একটু মাথা ঘামায় তাহলেই তা অতি অল্প সময়ে দেশের অন্যতম আকর্ষনীয় পর্যটন সেক্টরে পরিনত হতে পারে। কোন রকম সুপরিকল্পিত ভাবে গড়ে না তুললেও দিন দিন এই সৈকতে যেভাবে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ছে তাতে আনোয়ারা পারকি সমুদ্র সৈকতের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে বলেই দিদারুল আলম আরজ্’ুর মত অন্যরা মনে করেন। এখানে ভ্রমনে আসা এক পর্যটক রাঙ্গামাটির জামশেদুল আলমের মতে রাঙ্গামাটির পাহাড় আর ঝুলন্ত ব্রীজের চেয়ে অনেক বেশি আকর্ষনীয় সমুদ্র সৈকত। তাই তিনি স্বস্ত্রীক বেড়াতে এসেছেন এখানে। তারা আরো জানালেন একেবারে ব্যক্তিগত এই সফরের কথা। বিয়ে করেই হানিমুনের উদ্দ্যেশ্যে তাদের এই ভ্রমন হলে মোরশেদ হোসাইন হানিমুন করছেন ব্যতিক্রম ভাবে। কোন এক জায়গায় বসে থেকে বেড়ানো তার ভালো লাগে না। তাই একদিন একটি নতুন জায়গা দেখতে দেখতে মধুচন্দ্রিমাকে সার্থক করে তুলতে চান তিনি। একটি প্রাইভেট কোম্পানীতে চাকুরি করেন। সেখান এক পক্ষকালের ছুটি নিয়েছেন। ইতোমধ্যে কয়েকটি স্থান ঘুরে এসেছেন পারকি সমুদ্র সৈকতে। ভালোলাগার কথা বলতে গিয়ে জানালেন, ঠিক কক্সবাজারের মত অতি দীর্ঘ না হলেও এখানেও রয়েছে সারি সারি ঝাউ বন আর বালু চর। একই ভাবে সূর্য্যদয় কিংবা সূর্য্যাস্তের আবীর রঙের সমুদ্র এখান থেকেও দেখা যায়। তাই এখানে এসে তার ভালোই লাগছে। আর কক্সবাজার কিংবা কুয়াকাটার মত প্রচুর লোকের সমাগম এখনো না ঘটায় এই সৈকতের রুপের সাথে যোগ হয়েছে কিছুটা নিঃস্তব্দতাও। যা শহরের ব্যস্ত একঘেঁয়ে জীবনের অবসান ঘটিয়ে ভ্রমন পিপাসুদের দিতে পারে বাড়তি প্রশান্তি। দিদারের স্ত্রী আরজু বলেন, এখানে আসার রাস্তা উন্নত নয়, তাছাড়া এখনো ভালো দোকান পাট গড়ে না উঠায় থাকা বা খাওয়ার  সু-ব্যবস্থা নেই। যদি থাকত তাহলে তারা এখানে অন্তত একরাত কাটিয়ে যেতেন। অবকাঠামোগত এই দিকগুলো গড়ে তোলা হলে আরো বেশি পর্যটকের আগমন ঘটবে বলে তিনি মনে করেন। এভাবেই আনোয়ারায় পারকি সমুদ্র সৈকত ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় অবহেলায় পড়ে রয়েছে অপরুপ সৌন্দর্য্যময় এই সমুদ্র সৈকতটি। একে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা একই সাথে পাহাড়,সমুদ্র,প্রাকৃতিক লেক সহ উপরিউক্ত সকল সুন্দর দর্শনীয় স্থান একসাথে দর্শনের সুযোগ পেয়ে প্রতিবছর আনোয়ারার লক্ষ লক্ষ ভ্রমনার্থীর আগম ঘটবে। আর তা হলে এ থেকে একদিকে সরকারও বার্ষিক কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আয় করতে পারবে অন্যদিকে ব্যাপক কর্মস্থানের মাধ্যমে বেকারতেœর অবসান ঘটবে অসংখ্য মানুষের।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ