এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের (এনআরবিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দেওয়ান মুজিবর রহমানের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবারও প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ ও জবাবের প্রয়োজনীয় নথিপত্র স্থায়ী কমিটির কাছে জমা দিয়েছে ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ। গভর্নর ফজলে কবিরের অনুমোদনের পরই স্থায়ী কমিটিতে গেছে এসব নথিপত্র।
এদিকে ব্যাংকটির অনিয়মের বিষয়ে গভর্নরকে চিঠি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ব্যাংকটিকে রক্ষা করতে প্রয়োজনে প্রশাসক নিয়োগের আভাস দিয়েছেন তিনি। সর্বশেষ আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এমডিকে সরিয়ে ব্যাংকটি পরিচালনার জন্য প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
আইন অনুযায়ী, এনআরবিসির এমডির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে স্থায়ী কমিটি তাঁর শুনানি করবে। উত্থাপিত অভিযোগের জবাব দেওয়ার সুযোগ পাবেন তিনি। এর আগে একই প্রক্রিয়ায় বেসিক ও অগ্রণী ব্যাংকের এমডিকে অপসারণ করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ অনিয়মের অভিযোগ ছিল ওই দুই এমডির বিরুদ্ধে।
ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৮ ধারায় বলা হয়েছে, ৪৬ ও ৪৭ ধারা অনুসারে গভর্নর ছাড়া অন্য কেউ অপসারণের আদেশ দিতে পারবেন না। তবে এ উদ্দেশ্যে গঠিত স্থায়ী কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে গভর্নর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। ৪৬, ৪৭ ও ৪৮ ধারার কোন আদেশের বিষয়ে কোন আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ কোন প্রশ্ন তুলতে পারবে না। তবে গভর্নরের আদেশের ফলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের নিকট আপিল করতে পারবেন।
এ–সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির প্রধান ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান। অন্য সদস্যরা হলেন নির্বাহী পরিচালক আহমেদ জামাল ও মিজানুর রহমান জোদ্দার এবং সদস্যসচিব ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আবু ফারাহ মো. নাসের। অভিযোগ প্রমাণিত হলে স্থায়ী কমিটি গভর্নরের কাছে অপসারণের জন্য প্রতিবেদন জমা দেবে। এরপরই গভর্নর সিদ্ধান্ত নেবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে ২০১৬ সালেই এনআরবিসির ৭০১ কোটি টাকা ঋণে গুরুতর অনিয়মের তথ্য বেরিয়ে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকটিতে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি বছরের ২০ মার্চ ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও এমডির কাছে পাঠানো পৃথক নোটিশে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, আমানতকারীদের স্বার্থে ও জনস্বার্থে এনআরবিসি ব্যাংক চালাতে ব্যর্থ হয়েছে ফরাছত আলীর নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ। আর এমডি ব্যর্থ হয়েছেন ব্যাংকটিতে যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে। এমনকি তাঁরা গুরুতর প্রতারণা ও জালিয়াতি করেছেন, যা ফৌজদারি আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয়।
এমডিকে এসব কথা জানিয়ে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৬ ধারা অনুযায়ী কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কেন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এবং এমডিকে কেন অপসারণ করা হবে না, নোটিশে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। ৪৬ ধারা অনুযায়ী ব্যাংকের পরিচালক/এমডিকে অপসারণ করা যায়। তবে অজ্ঞাত কারণে চেয়ারম্যানকে বাঁচাতে ৪৬ ধারার বিষয়টি এড়িয়ে যায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই নোটিশে ১০টি কারণ তুলে ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক। ১০ কারণের মধ্যে ৭টির সঙ্গেই কোনো না কোনোভাবে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান শহীদুল আহসান জড়িত। তাঁর বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ নোটিশের বিরুদ্ধে দুজনই আদালতে যান। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে রায় এলে গত ৩ মে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও এমডি নোটিশের জবাব দেন। এরপর দুই মাস পেরিয়ে গেলেও অজ্ঞাত কারণে প্রক্রিয়াটা থমকে থাকে। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর কাছে ব্যাংকটির একটি পক্ষ অভিযোগ করে, সব অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পরও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বিচার–প্রক্রিয়া আটকে রেখেছেন। যা নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। এরপর আবারও নড়েচড়ে বসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। – প্রথম আলো




