স্বাধীনতাবিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নতুন কমিটির সেক্রেটারি নিয়োগ নিয়ে দলটির মধ্যে অর্ন্তদ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে। আমির মকবুল আহমাদ জামায়াতের মধ্যে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করতে ডা. শফিকুর রহমানকে সেক্রেটারি নিয়োগ দিয়েছে। এমনকি সেক্রেটারির পরের পদ সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে নিজের অনুসারী এটিএম মাছুমকে নিয়োগ দিয়েছেন। জামায়াতের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্যদের পরামর্শ ছাড়াই মকবুল আহমেদের এই সিধান্তে অর্ন্তদন্দ্ব দলটির কেন্দ্র থেকে মাঠপর্যায় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানাগেছে।
জামায়াতের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, আমির অতি গোপনে চলতি মাসে জামায়াতের সেক্রেটারি হিসেবে ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমানকে নিয়োগ দেন। দলের গঠনতন্ত্র না মেনে তিনি এ নিয়োগ দিয়েছেন। এক্ষেত্রে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্যদের পরামর্শ নেয়ার কথা থাকলেও তা তিনি অনুসরণ করেননি।
সূত্রটি জানায়, কমিটি গঠনে এ ধরনের জালিয়াতি দল প্রতিষ্ঠার পর থেকে জামায়াতে কখনও হয়নি। এ কারণে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল নিয়োগ দেয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমে জানানো হয়নি। এ কারণে দলের মধ্যে কলহের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্যদের এক বৈঠকে এজন্য আমির মকবুল আহমাদকে তোপের মুখে পড়েন।
জামায়াতের এক গুরুত্বপূর্ণ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নিজের অনুসারীদের নিয়োগ দিয়ে দলের মধ্যে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করতে চাইছেন আমির মকবুল আহমেদ। এ জন্য তিনি সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমানের পর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে নিজের অনুসারী এটিএম মাছুমকে নিয়োগ দেন। কোনো কারণে ডা. শফিক কারাগারে গেলে ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে তারই কোনো অনুসারী যাতে থাকেন- এজন্যই এ কৌশল নেয়া হয়েছে। এটিএম মাছুম জামায়াতের আমিরসহ সব নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন। তাকে বিশ্বস্ততার পুরস্কার হিসেবে উল্লিখিত পদ দেয়া হয়েছে।
ওই নেতা আরো জানান, সেক্রেটারি ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল নিয়োগ নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে গত কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক, যুদ্ধাপরাধের দ- পাওয়া সিনিয়র নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মৃত্যুদ- পাওয়া এটিএম আজহারুল ইসলাম, আবদুস সুবহানের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন নি বর্তমান কমিটি।
জামায়াতের আরেকটি সূত্র জানায়, গত ১০ ডিসেম্বর রাজধানীর অজ্ঞাতস্থানে জামায়াত নেতারা কমিটি গঠন নিয়ে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে জামায়াতের আমির, নতুন সেক্রেটারি জেনারেল, মিয়া মোহাম্মদ গোলাম পরোয়ার, মাওলানা শামসুল ইসলাম, আতাউর রহমান, নুরুল ইসলাম বুলবুল, আবদুল হালিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে সেক্রেটারি নিয়োগ দেয়ার ক্ষেত্রে গঠনতন্ত্র না মানার কারণে ব্যাপক তোপের মুখে পড়েন আমির মকবুল আহমেদ। গঠনতন্ত্র না মানার কারণও তার কাছে জানতে চাওয়া হয় ওই বৈঠকে। মকবুল আহমাদ যুক্তিসঙ্গত কোনো জবাব দিতে পারেননি।




