ঢাকার দক্ষিণ খান মৌজায় আশিয়ান সিটি আবাসন প্রকল্পের কার্যক্রম অবৈধ ঘোষণা করে দেয়া রায় বাতিল করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই প্রতিষ্ঠানটির রিভিউ গ্রহণ করেছে আদালত। মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ এ বি মাহমুদুল হক, বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী রেজা-উল হকের বৃহত্তর বেঞ্চ এই এই রায় দেন। আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আশিয়ান সিটির করা রিভিউ আবেদনের শুনানি শেষে আদালত থেকে এ নির্দেশনা এলো। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিপরীত দিকে হজ ক্যাম্পসংলগ্ন দক্ষিণ খান থানার আশকোনা ও কাওলা এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির ওই প্রকল্পের নাম আশিয়ান সিটি প্রকল্প, যা বাস্তবায়ন করছিল আশিয়ান ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড। প্রকল্পটির কার্যক্রম বন্ধে ২০১২ সালের ২২ ডিসেম্বর হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করে আইন ও সালিশ কেন্দ্র, অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি, ব্লাস্ট, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন, ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্ট বাংলাদেশ, নিজেরা করি, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন।
তাদের অভিযোগ, ১৯৭২ সালের ল্যান্ড হোল্ডিং লিমিটেশন অর্ডার অনুসারে বাংলাদেশের কেউ ৩৩ একর বা ১০০ বিঘার বেশি জমি রাখতে পারেন না। কিন্তু আশিয়ান সিটি প্রকল্পের কাগজপত্র অনুসারে তারা ৪৩ দশমিক ১১ একর ভূমিতে আবাসন প্রকল্পের অনুমোদন পেয়েছে। তাছাড়া ওই প্রকল্প এলাকা প্লাবন ভূমি ও নিচু জমি হওয়ায় এবং সেখানে খাল থাকায় জলাধার আইন অনুসারে ওই জমিতে আবাসন প্রকল্প করা যায় না বলেও রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ওই রিটের প্রেক্ষিতে গতবছর ২ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করে। রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে চলতিবছর ১৬ জানুয়ারি আশিয়ান সিটির ওই প্রকল্পের কার্যক্রম অবৈধ ঘোষণা করে আদালত। বিচারপতি সৈয়দ এ বি মাহমুদুল হক, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি এবিএম আলতাফ হোসেনের বৃহত্তর বেঞ্চে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের ভিত্তিতে ওই রায়ের ফলে আশিয়ান সিটির প্রকল্প এবং প্লট-ফ্ল্যাট ক্রয়-বিক্রয়সহ সব কর্মকাণ্ডই অবৈধ হয়ে যায়।
এরপর আশিয়ান সিটি কর্তৃপক্ষ ওই রায় পুর্নবিবেচনার আবেদন করলে প্রধান বিচারপতি তিন বিচারকের নতুন বেঞ্চ ঠিক করে দেন। সেই বেঞ্চে ৮ মে থেকে শুনানি শেষে রিভিউ গ্রহণের এই রায় এলো। রিভিউ শুনানিতে আশিয়ান সিটির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান। রিট আবেদনকারীপক্ষে শুনানিতে করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল ও মিনহাজুল হক চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা।




