ডেস্ক রিপোর্ট (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
গোলাম মাওলা রনি সংসদ সদস্য পদ থেকে ইস্তফার ইচ্ছা প্রকাশ করার পর ফেইসবুকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
অনেকে তার এ মনোভাবকে স্বাগত জানিয়েছেন। আবার পদত্যাগ না করার পরামর্শ দিয়েছেন অনেকে। দুই সাংবাদিককে মারধরের পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে মঙ্গলবার দুপুরে পদত্যাগের ঘোষণা দেন রনি। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালীর গলাচিপা থেকে নির্বাচিত হয়ে আসেন আওয়ামী লীগের এই সাংসদ। সংসদ সদস্য হওয়ার পর থেকে প্রায়ই টেলিভিশনের টক শোতে বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা করতে দেখা যায় নবীন এই জনপ্রতিনিধিকে।
বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ফেইসবুকে নিজের ওয়ালে এক স্ট্যাটাসে তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকে ইস্তফার আভাস দেন।
তিনি লেখেন, “Probably I am going to resign. I feel, I should face the conspiracy as general public. Our media might colored my MP post our my party. In Sha Allah, I would prove what was real fact before the picture. I would invite media personalities to make a equal level playing field for me and my opponent. Amar mukh bondho kore to onnokay sujog kore dayar modhay ar ja houk justice, transparency and democracy er nomuna hotay pare na.”
এই ঘোষণা দেয়ার ঘণ্টা দেড়েকের মধ্যে তার ফেইসবুকে পোস্টের নিচে প্রায় শ’ তিনেক মন্তব্য আসে। সেখানে অনেকে তাকে পদত্যাগ না করার পরামর্শ দেন, আবার তার পদত্যাগ করাই সঠিক বলে মত দেন অনেকে।
আবুল বাশার নামে একজন লেখেন, “সত্য বলার জন্য দিন দিন মানুষ বিপদের সম্মুখীন হয়েছে। তাই বলে হাল ছাড়া যাবে না। আমি আপনার একজন ফ্যান। আমি প্রথমতো সাঈদীর ভক্ত, তারপরে আপনার।”
তাকে পদত্যাগ না করার পরামর্শ দিয়ে আশরাফুল ইসলাম সানি বলেন, “রিজাইন করবেন না। এখন রিজাইন করা মানে হার মেনে নেয়া। আপনার দল আওয়ামী লীগ আপনার সাথে না থাকলেও আমরা সবাই আছি আপনার সাথে। অল্প কয়েকটা দিন ধৈর্য ধরেন।”
দল থেকে বেরোনোর আহ্বান জানিয়ে তাসনিম রায়হান নামে একজন লেখেন, “ভাই, আওয়ামী লীগ ছাড়েন, সাপোর্ট পাবেন, শান্তিও পাবেন।”
জাফর সালেহ নামে একজন লেখেন, “একটা বিষয় অনেক পরিস্কার যে, আপনি আমাদের সাথে মিথ্যাচার করেছেন। একজন মিথ্যাবাদী কখনো ভালো মানুষ কিংবা ভালো নেতা হতে পারেন না।
“আমরা সেদিনের সেই ভিডিও ক্লিপটি দেখেছি, তারা যদি আপনার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে থাকেন তাহলে আপনিও কেন তাদের পথে হাঁটলেন। একজন সাংবাদিক হিসেবে আপনার আরো নমনীয় আচরণ করা উচিত ছিলো। আপনি তা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন, আর আপনার যদি ন্যূনতম আত্মসম্মানবোধ থেকে থাকে তাহলে আপনার শীঘ্রই পদত্যাগ করা উচিত। আপনার ভালো মানুষী চেহারা জনগণ চিনে ফেলেছে।”
রাজ্যহীন রাজা নামের ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একজন লেখেন, “ভাই অনেক দেরি করে ফেলেছেন । আগে করলেন না কেন? শেয়ার বাজার, রানা প্লাজা, মতিঝিল গণহত্যার প্রতিবাদে আপনার আরো আগেই চলে যাওয়া উচিৎ ছিলো।”
দেশপ্রেমিক ফয়সাল লেখেন, “পার্টি আপনার বিপক্ষে গিয়ে যদি ভণ্ড দরবেশের পক্ষ নেয় তাহলে অবশ্যই পদত্যাগ করা উচিৎ। পার্টির এমন বিরূপ চিন্তা আমাদেরও আওয়ামী লীগের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করবে। রনি ভাই, আমরা আপনার সাথে আছি। কারো সাথে আপোষ না করে এগিয়ে যান।”
আতিকুল ইসলাম ইমন লেখেন, “আপনার উচিত রিজাইন করা এবং জামাতের রাজনীতি করা। কারণ আপনি আওয়ামী লীগে জামাতের এজেন্টের মত কাজ করেন।”
“ভাই জামাতে যোগ দিবেন নাকি?”, প্রশ্ন করেন রাকিব আহমেদ।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য তথ্য সংগ্রহ করতে শনিবার পল্টনে রনির কার্যালয়ে গিয়ে মারধরের শিকার হন ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সাংবাদিক ইমতিয়াজ মমিন সনি ও ক্যামেরাম্যান মহসিন মুকুল।
ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, সংসদ সদস্য রনি নিজেই প্রতিবেদক ও ক্যামেরাপার্সনের ওপর চড়াও হয়ে লাথি মারছেন।
ঘটনার পর ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ রনিকে আসামি করে একটি মামলা করে। এরপর রনিও পাল্টা মামলা করেন, যাতে দুই সংবাদিকসহ ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের অন্যতম মালিক ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমানকেও আসামি করা হয়।
সংসদ সদস্যের সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নিন্দা জানানো হয়। নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় বিএনপিও। তাকে গ্রেপ্তারে সাত দিনের সময় বেঁধে দেন কয়েকজন সাংবাদিক নেতা। টেলিভিশনের টক শোতে তাকে বর্জনের আহ্বান জানান সাংবাদিকরা।




