মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনআনোয়ারা উপকূলজুড়ে উন্নয়নযজ্ঞ ।। ২৮০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন

আনোয়ারা উপকূলজুড়ে উন্নয়নযজ্ঞ ।। ২৮০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন

আনোয়ারা, কর্ণফুলী ও পতেঙ্গার উপকূল রক্ষায় ব্যাপক কর্মযজ্ঞ শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। এ কাজে ২৮০ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে পতেঙ্গা উপকূলীয় এলাকার জন্য ৩০ কোটি টাকা, বাকি ২৫০ কোটি টাকা ব্যয় হবে আনোয়ারাকর্ণফুলী উপকূল সুরক্ষায়। যা এ যাবৎকালের বৃহত্তম প্রকল্প বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রকল্পটি পাস হয়। প্রকল্পের আওতায় প্রতিরক্ষা বাঁধ, ৯টি ুইচ গেট, নদী ও খালের ড্রেজিং, ুইচ গেইটের মুখে ক্লোজার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে প্রকল্পের সিংহভাগ কাজ আনোয়ারাকর্ণফুলীতে হওয়ায় এলাকাজুড়ে বিরাজ করছে খুশির বন্যা। সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে সুউচ্চ বেড়িবাঁধ না থাকায় ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে আনোয়ারার উপকূলীয় অঞ্চলের ২০ হাজারের অধিক মানুষ প্রাণ হারায়। সে দিন আনোয়ারা মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়। স্বজনহারা মানুষের কান্না আর বসতভিটা হারানো মানুষের দুর্ভোগ যারা দেখেছে তারা কোনদিন এ স্মৃতি ভুলতে পারবে না। ৯১ সালের ২৯ শে এপ্রিলের পর থেকে বিগত ২৫ বছর ধরে আনোয়ারা উপকূলবাসীর একটাই দাবি ছিল তাদের জানমাল রক্ষায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও তাতে ব্লক বসানো । তাদের সেই দাবিটি পূরণ না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের মাঝে হতাশা ও ক্ষোভের অন্ত ছিল না। কষ্ট ও দুর্ভোগ ছিল উপকূলবাসীর নিত্যসঙ্গী। সেই উপকূলবাসীর দুঃখ দূর করতে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ প্রয়াত আলহাজ্ব আখতারুজ্জামান চৌধুরী (বাবু) এমপি আনোয়ারার বেড়িবাঁধের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছিলেন। বর্তমানে বাবুর জ্যেষ্ঠ পুত্র আলহাজ্ব সাইফুজ্জামান চৌধুরী (জাবেদ) টানা দুইবার এমপি নির্বাচিত হয়ে এবং পরবর্তীতে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে তিনি আনোয়ারাকর্ণফুলীর উন্নয়নে আমূল পরিবর্তন আনেন। প্রতিমন্ত্রীর ঐকান্তিক চেষ্টায় যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, শিল্প ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে আনোয়ারায় ব্যাপক উন্নতি ঘটে। যেকোনো সময় শুরু হবে স্বপ্নের টানেল ও চায়না ইকোনমিক জোন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ। গত তিন বছরে ভূমি প্রতিমন্ত্রী আনোয়ারার বেড়িবাঁধ উন্নয়ন ও উপকূলবাসীর জানমালের নিরাপত্তা রক্ষার্থে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণে ২ শত ৭৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করেন। আর গত সোমবার সেই প্রকল্প একনেকে অনুমোদন লাভ করে। এই খবর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হলে আনোয়ারা কর্ণফুলী বাসীর আনন্দের শেষ নেই। উপকূলীয় রায়পুর জুইঁদণ্ডী হাইলধর ও চাতরী ইউনিয়নের বাসিন্দারা মসজিদ ও বিভিন্ন উপাসনালয়ে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু ও বর্তমান সরকারের সাফল্য কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা করেন। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ভূমি প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপি বলেন, আজ আমার অত্যন্ত খুশির দিন, আজ আমি এলাকাবাসীর জন্য কিছু করতে পেরেছি। দীর্ঘদিন ধরে আমি উপকূলবাসীর জানমালের নিরাপত্তার জন্য বেড়িবাঁধের উন্নয়নে বিভিন্ন প্যাকেজে ২শত ৭৫ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছিলাম। গতকাল সেই প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ছাড় পেলে শীঘ্রই এ প্রকল্প টেন্ডারে যাবে এবং এলাকার উন্নয়নের কাজ শুরু হবে। আমি দৈনিক আজাদীর মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, পানিসম্পদ মন্ত্রী, পরিকল্পনা মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আনোয়ারা কর্ণফুলীবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। সেই সাথে আমার মরহুম পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি, যিনি বেড়িবাঁধসহ আনোয়ার উপকূল উন্নয়নের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাঁর অসমাপ্ত এই বড় প্রকল্পের কাজে আমি আনোয়ারাবাসীর সহযোগিতা কামনা করছি।

আনোয়ারা উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব তৌহিদুল হক চৌধুরী আনোয়ারা বেড়িবাঁধের উন্নয়নে ভূমি প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপির ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২শ ৭৫ কোটি টাকা একনেকে অনুমোদন পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও ভূমি প্রতিমন্ত্রীর প্রতি উপজেলা পরিষদ ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী কায়সার উদ্দীন জানান, প্রকল্পের মধ্যে আনোয়ারার রায়পুর ইউনিয়নের বাতিঘর এলাকায় ১৫০ মিটার, পিচের মাথা এলাকায় ৪০০ মিটার, পড়ুয়া পাড়া এলাকায় ২০০ মিটার, মালি পাড়া এলাকায় ৫৪০ মিটার, বার আউলিয়ায় ২৫০ মিটার, ঘাটফুল ফকিরহাট ৭১০ মিটার, সরেঙ্গা ৯০০ মিটার, জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের লামার বাজার ১ কিলোমিটার, খুরুশখুল ৫০০ মিটার, তৈলারদ্বীপ ৫০০ মিটার, হাইলধর ইউনিয়নে ১৩৪৫ মিটার, সাপমাড়া খালের মুখ থেকে মহতর পাড়া পেশকার হাট পর্যন্ত ২৬.৫০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধে ব্লক বসানোসহ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হবে। তাছাড়া ৬৪.৫০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ পুনঃনির্মাণ হবে। তাছাড়া ইছামতি খোদালা খালের মুখে ক্লোজার নির্মাণ হবে। সাঙ্গু নদীতে ড্রেজিং কাজ করা হবে। শুধু তাই নয় মহতর পাড়া কৈখাইন, বাকখাইন, কেয়াগড় কৈনপুরা, হাইলধর, বারখাইন, তৈলারদ্বীপ, সিইউএফএলসহ বিভিন্ন এলাকায় ুইচ গেট ও ক্লোজার নির্মাণ হবে। তাছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলে বিভিন্ন খাল খনন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ