মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬
প্রচ্ছদঅর্থ ও বানিজ্য সময়সরকারি দপ্তরে মানুষের সরাসরি উপস্থিতির প্রয়োজন যত কমানো যাবে, দুর্নীতির সুযোগ তত...

সরকারি দপ্তরে মানুষের সরাসরি উপস্থিতির প্রয়োজন যত কমানো যাবে, দুর্নীতির সুযোগ তত কমবে : অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী

সরকারি দপ্তরে মানুষের সরাসরি উপস্থিতির প্রয়োজন যত কমানো যাবে, দুর্নীতির সুযোগ তত কমবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এতে মানুষের সময়ও বাঁচবে এবং সরকারি সেবার মান আরও উন্নত হবে বলে মনে করেন তিনি। এ জন্য ডিজিটালাইজেশন ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন অর্থমন্ত্রী।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে ট্রাস্ট ব্যাংক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় গ্রাহকদের লেনদেন আরও সহজ ও ডিজিটাল করতে ট্রাস্ট ব্যাংক ‘ডায়নামিক বাংলা কিউআর’ সেবা চালু করেছে। অনুষ্ঠানে নতুন এই ডিজিটাল সেবাটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্ট ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহা. হোসাইন আল মোর্শেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মোহাম্মদ কবির আহাম্মদ, জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান এবং ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান জামান চৌধুরীসহ অন্যরা।

সরকারি সেবা সহজীকরণ ও দুর্নীতি রোধে মানুষের সরাসরি শারীরিক উপস্থিতির প্রয়োজন নেই—এমন সেবাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চালুর কোনো বিকল্প নেই।

ব্যবসায়িক খরচ কমানো ও অটোমেশনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বন্দর, বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যত বেশি স্বয়ংক্রিয়করণ করা যাবে, ততই খরচ কমবে। এসব ব্যবস্থার মধ্যে পারস্পরিক তথ্য আদান-প্রদানের সক্ষমতা বা ইন্টারঅপারেবিলিটি তৈরি করে ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের সাধারণ অভিযোগ হলো, তাঁরা হয়রানির শিকার হন, তাঁদের কাজে দেরি হয় এবং কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যায় না। কিন্তু প্রতিযোগিতামূলক হতে হলে এসব সমস্যা দূর করতে হবে। ইন্টারঅপারেবিলিটির মাধ্যমে ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা গেলে ব্যবসা করা আরও সহজ হবে।

অনুষ্ঠানে ট্রাস্ট ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহা. হোসাইন আল মোর্শেদ বলেন, এ আয়োজন বাংলাদেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও ডিজিটাল আর্থিক সেবার অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। মানুষ কোনো আর্থিক সেবা গ্রহণ করবে কি না, তা অনেকাংশে নির্ভর করে সেবাটি কতটা সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ তার ওপর।

তিনি বলেন, একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত ব্যক্তি কিংবা তরুণ উদ্যোক্তার কাছে প্রতি মাসে পেনশন স্কিমে টাকা জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া যদি জটিল মনে হয়, তাহলে তাঁদের নিয়মিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা কঠিন। এখানেই ডায়নামিক বাংলা কিউআরের গুরুত্ব রয়েছে। ট্রাস্ট ব্যাংকের এই উদ্যোগের মাধ্যমে পেনশন এ দেশের মানুষের কাছে আরও সহজ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

দেশে বাংলা কিউআরের লেনদেনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে বলে জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মোহাম্মদ কবির আহাম্মদ। তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যাংক, এমএফএস ও এমপিএসপির গ্রাহকেরা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে দেশব্যাপী প্রায় ৩২ লাখ ৬১ হাজার মার্চেন্টের কাছে বাংলা কিউআর স্ক্যান করে পেমেন্ট করার সুযোগ পাচ্ছেন।

তিনি জানান, জুনে যেখানে দৈনিক গড়ে ২৮ কোটি টাকা বাংলা কিউআরের মাধ্যমে লেনদেন হতো, বর্তমানে তা ১৩৭ কোটি টাকার বেশি দাঁড়িয়েছে।

কবির আহাম্মদ আরও জানান, আগামী ১ নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআর কোড ব্যক্তিপর্যায়ের লেনদেনেও চালু করা হবে। সরকারি পরিষেবা বা ইউটিলিটি বিলের কপিতে ডায়নামিক বাংলা কিউআর চালুর লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক, সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও অধিদপ্তর কাজ করছে।

তিনি বলেন, এই ব্যবস্থা চালু হলে যেকোনো অবস্থায়, যেকোনো স্থানে বসেই পরিষেবা বিলের পেমেন্ট সম্পন্ন করা যাবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, সেবা, শিক্ষা, যোগাযোগ খাতসহ সর্বজনীন পেনশন স্কিমের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও সামাজিক সুরক্ষা সেবায় বাংলা কিউআর লেনদেন চালুর কার্যক্রমও হাতে নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে পেনশন স্কিম চালু রয়েছে। বাংলাদেশে মূলত দক্ষিণ কোরিয়ার মডেল অনুসরণ করে এই ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের হিসাবে ২০২৫ সালে বাংলাদেশের গড় আয়ু ৭৩ বছর এবং ২০৫০ সালে তা প্রায় ৮০ বছর হবে। ফলে ৬০ বছরের পর দেশের যে বৃহত্তর বয়স্ক জনগোষ্ঠী তৈরি হবে, তাদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই পেনশন চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালুর বিষয়েও চিন্তাভাবনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান জামান চৌধুরী বলেন, সরকার নগদবিহীন লেনদেনের ব্যবস্থা চালুর যে উদ্যোগ নিয়েছে, সে ক্ষেত্রে ট্রাস্ট ব্যাংক তার দায়িত্ব নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পালন করবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ