মাত্র এক কেজি মাংসের জন্য হত্যা করা হয় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মৃগিডাঙ্গা গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী মনিরুল ইসলামের ছেলে ফাহিম আহমেদকে (৮)। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতারের পর হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন-সদর উপজেলার কুশখালী গ্রামের মুজিবুর রহমান, তার স্ত্রী ছফুরা খাতুন, ছেলে ইব্রাহিম হোসেন ও ইসরাফিল হোসেন। ১৭ জুন দিনগত রাতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কুশখালী গ্রাম থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া ইসরাফিল হোসেনের স্ত্রী তামান্না খাতুনকে আটক করা হলেও প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, স্থানীয় বাজারে মুজিবুর রহমানের সাইকেল মেরামতের একটি গ্যারেজ রয়েছে। ১৪ জুন সকালে এক কেজি গরুর মাংস কিনে প্রতিবেশী ফাহিমকে দিয়ে বাড়ি পাঠান তিনি। সে মাংস নিয়ে মুজিবর রহমানের বাড়ি গিয়ে দেখে বাড়িতে কেউ নেই। এ সময় বাড়ির সামনে থাকা ভ্যানের ওপর মাংস রেখে চলে আসে সে। পরে মুজিবর রহমানের পরিবারের সদস্যরা বাড়ি এসে দেখে মাংসের প্যাকেট নিয়ে কুকুর টানাটানি করছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মুজিবর রহমান শিশুটিকে ডেকে পাঠায় এবং মাংসের প্যাকেট কোথায় রেখেছিল জানতে চান। ফাহিম উত্তর দিলে মুজিবর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যরা তাকে বেদম মারপিট করেন। এতে ফাহিমের শরীরের বিভিন্ন অংশ ফেটে রক্ত বের হতে শুরু করলে তারা রক্ত বন্ধ করার জন্য ফেবিকল আঠা লাগিয়ে দেন। কিন্তু তাতেও রক্ত বন্ধ না হয়ে উল্টো ফাহিমের শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে চাক চাক হয়ে ওঠে। তখন কোনো উপায় না পেয়ে ফাহিমকে একটি বাক্সে বন্দি করে রাখেন তারা। সেখানেই মৃত্যু হয় তার। মৃত্যুর পর রাতের কোনো এক সময় ফাহিমকে পার্শ্ববর্তী পাটক্ষেতে ফেলে দেন তারা। সাতক্ষীরা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
প্রসঙ্গত, দু’দিন নিখোঁজ থাকার পর ১৫ জুন সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কুশখালি সীমান্ত সংলগ্ন একটি পাটক্ষেত থেকে ফাহিমের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ফাহিম সদর উপজেলার মৃগিডাঙ্গা গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী মনিরুল ইসলামের ছেলে। মায়ের সঙ্গে কুশখালি গ্রামে নানা মোহাম্মদ আলির বাড়িতে থাকতো সে।




