মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়কিশোরগঞ্জের হুসাইন-মোসলেমের যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু

কিশোরগঞ্জের হুসাইন-মোসলেমের যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক কিশোরগঞ্জের নিকলির রাজাকার কমান্ডার সৈয়দ মো. হুসাইন ও মোহাম্মদ মোসলেম প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। আগামী ৫ জুন রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন শেষে সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর দিন ধার্য করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা-গণহত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, আটক, অপহরণ ও নির্যাতনের ছয়টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬২ জনকে হত্যা-গণহত্যা, ১১ জনকে অপহরণ, আটক ও নির্যাতন এবং দুইশ’ ৫০টি বাড়ি-ঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ । ০৯ মে সকালে অভিযোগ গঠন করেন চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল।

এ মামলার আসামি মোসলেম প্রধান গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকলেও হোসাইন পলাতক। মোসলেমকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তাকে দোষী না নির্দোষ বলে জিজ্ঞাসা করা হলে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন তিনি। ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ। আসামিপক্ষে ছিলেন মোসলেমের আইনজীবী আব্দুস সাত্তার পালোয়ান। দুই আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবেন ৬০ জন সাক্ষী। গত ২৬ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি (চার্জ হেয়ারিং) করেন প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ও প্রসিকিউটর তাপস কান্তি বল। আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন আবদুস সাত্তার পালোয়ান।

এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) হরি দেবনাথ ২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর থেকে গত বছরের ৭ অক্টোবর পর্যন্ত দীর্ঘ ১০ মাস ২৫ দিনে তদন্ত শেষ করে ওইদিন তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনে দু’জনের বিরুদ্ধে মূল একশ’ ৬১ পৃষ্ঠার সঙ্গে সর্বমোট চারশ’ ৩৯ পৃষ্ঠার নথিপত্র রয়েছে।

পরদিন ৮ অক্টোবর এ তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেওয়া হলে এর ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) তৈরি করে দাখিল করেন ট্রাইব্যুনালে। গত বছরের ৭ জুলাই  বিরুদ্ধে রাজাকার কমান্ডার সৈয়দ মো. হুসাইন (৬৪) ও তার সহযোগী মোহাম্মদ মোসলেম প্রধানের (৬৬) বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল-২। এরপর নিকলি উপজেলার কামারহাটি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে মোসলেমকে গ্রেফতার করা হলেও হুসাইন পলাতক।

এ মামলার প্রধান আসামি পলাতক সৈয়দ মো. হুসাইন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থানার রাজাকার কমান্ডার পলাতক সৈয়দ মো. হাসান আলী ওরফে হাছেন আলীর ছোট ভাই। হাসান আলীকে গত বছরের ৯ জুন ফাঁসি অথবা ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-১। তার বিরুদ্ধে আনা ছয়টি মানবতাবিরোধী অভিযোগের মধ্যে পাঁচটিই প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সর্বোচ্চ এ দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ