পটিয়া উপজেলার ছনহারা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ধনাঢ্য ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন। তিনি গত উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। জিরি ইউনিয়নে বিএনপি ঘরনার আবুল কালাম ভোলা নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কর্ণফুলী থানার চরলক্ষ্যা ও চরপাথরঘাটা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধেও জামায়াত সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। চন্দনাইশের তিন ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন বিএনপি, এলডিপি, জাপার নেতারা। একইভাবে নৌকা প্রতীকের প্রত্যাশায় রয়েছেন সাতকানিয়া উপজেলার জামায়াত ঘরনার একাধিক প্রার্থী। এনিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন। আলোচনা-সমালোচনা। ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে
বিএনপি অনেকটা কোণঠাসা। নির্বাচনে অংশ নিলেও কেন্দ্র দখল, প্রশাসনের অসহযোগিতা ও কারচুপির অভিযোগে বিভিন্ন স্থানে ভোটের মাঝপথ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা। নৌকা প্রতীক-ই এখন নির্বাচনী বৈতরণী পারের নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সুযোগে বিএনপি জামায়াত, জাতীয় পার্টি ও এলডিপির সুবিধাভোগী প্রার্থীরা ডিগবাজি খেয়ে ‘নৌকা’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা ও স্থানীয় এমপিদের আশীর্বাদে তারা নৌকার সমর্থন পেয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। রয়েছে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগও।
পটিয়া উপজেলার ছনহারা, জিরি, কর্ণফুলী থানার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নে বিএনপি ও জামায়াত ঘরানার প্রার্থীরা নৌকা প্রতীক পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ছনহারা ইউনিয়নে কামাল উদ্দিন গত উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আবদুল্লাহ আল নোমানের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেছিলেন তিনি। একক প্রার্থী সমঝোতার একাধিক বৈঠকে অংশগ্রহণও করেছিলেন তিনি। দলীয় মনোনয়নে ব্যর্থ হলে দলের শীর্ষ নেতাদের অনুরোধে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। তিনি এবার নৌকা প্রতীকে ইউপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
পটিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম বলেন, কামাল উদ্দিন বিএনপি থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। জিরি ইউনিয়নে ধনাঢ্য ব্যবসায়ী আবুল কালাম ভোলাও বিএনপি ঘরানার হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। তিনি এবার নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তবে আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, তিনি সক্রিয়ভাবে কোনো দলের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না।
কর্ণফুলী থানার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন মো. আলী। তিনি এক সময়ে জামায়াতের সাথে সম্পৃক্ত বলে দাবি করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ছাবের আহমদের বিরুদ্ধেও জামায়াত সম্পৃক্ততা অভিযোগ ওঠেছে। তবে জেলা আওয়ামী লীগের দাবি, তারা সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি কাজ করেছেন।
কর্ণফুলী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রনি দাবি করেছেন, মো. আলী জামায়াতের সাথে সম্পৃক্ত। ছাবের আহমদ ব্যবসায়ী। তিনি নানা উপলক্ষে সব দলের নেতাকর্মীদের আর্থিক সহায়তা করেন। মো. আলী জানান, দুটি সংসদ নির্বাচনে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ ও স্থানীয়ভাবে আর্থিক সহায়তা করেছি। গত উপজেলা নির্বাচনে থানা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ আমার সাথে কাজ করেছেন। সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রনির বাড়িতে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তিনি আর্থিক সহযোগিতাও করেছিলেন।
কর্ণফুলী থানার চার ইউনিয়ন নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগ ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান জাবেদের মধ্যে তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছে। তা এখন প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। দুই পক্ষই কেন্দ্রে আলাদা তালিকা জমা দিয়েছে। কিন্তু জেলা আওয়ামী লীগের দেয়া তালিকার প্রার্থীরা নৌকা প্রতীক পান।
চন্দনাইশ উপজেলার ধোপাছড়ি ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের এলডিপি’র সভাপতি মোরশেদুল আলম নৌকার টিকিট পেয়েছেন। হালিশপুর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আলমগীরুল ইসলাম চৌধুরী। জোয়ারা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন আমিন আহমদ চৌধুরী। এরমধ্যে আমিন ও আলমগীরুল স্থানীয় সাংসদ নজরুল ইসলামের নিকট আত্মীয় বলে জানা যায়। সাংসদের আনুকূল্যে তারা নৌকার টিকিট পেয়েছেন বলে জানা যায়।
দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, উপরিউক্ত প্রার্থীরা সংসদ, উপজেলা, পৌরসভাসহ বিভিন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। স্ব স্ব এলাকার সাংসদ, উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সুপারিশের ভিত্তিতে তাদের নাম কেন্দ্রে প্রস্তাবনা হিসেবে পাঠানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, গত উপজেলা নির্বাচনে মো. আলীর পক্ষে থানা আওয়ামী লীগ কাজ করেছিল। ছনহারা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের যোগ্য প্রার্থী খুঁজে না পাওয়ায় কামাল উদ্দিনকে সমর্থন দেয়া হয়েছে। জিরি ইউনিয়নের আবুল কালাম ভোলা সরাসরি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত নন বলে জানিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। চন্দনাইশে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও এলডিপির তিন নেতা আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন বলে দাবি করে তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সাংসদ ও আওয়ামী লীগের সুপারিশের ভিত্তিতে তাদের প্রতি সমর্থন দেয়া হয়েছে। ক্লিন ইমেজ, এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা-জনসমর্থন যাচাই-বাছাই করে দলীয় সমর্থনের প্রস্তাবনা করা হয়েছে।
এদিকে একই ধারায় রয়েছে সাতকানিয়া উপজেলায়ও। চরতি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে ফরম সংগ্রহ করেছেন জামায়াত ঘরনার মো. রুহুল্লাহ চৌধুরী। তিনি জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য মাওলানা মুমিনুল হক চৌধুরী ছেলে। কেঁওচিয়া ইউনিয়নে বিএনপি ঘরনার বর্তমান চেয়ারম্যান নুর হোসেনও ভোল পাল্টে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। সোনাকানিয়া ইউনিয়নের রয়েছেন জামায়াত ঘরনার নুর আহমদ। তিনি সাবেক সাংসদ জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরী ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে নাশকতা ও জামায়াতের অর্থদাতা হিসেবে উল্লেখ করে দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অভিযোগ করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ।




