সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনঐতিহাসিক জব্বারের বলীখেলায় নতুন চ্যাম্পিয়ন শামছু বলী

ঐতিহাসিক জব্বারের বলীখেলায় নতুন চ্যাম্পিয়ন শামছু বলী

লালদীঘি ময়দানে তখন বিকেল পৌনে চারটা। বিকেল চারটা পাঁচমিনিটে এল সেই মাহেদ্রাক্ষণ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে বেলুন উড়ানো আর পায়রা মুক্ত করার পর্ব শেষ।অতিথিরাও বক্তব্য শেষে নেমে গেলেন বলী খেলার মঞ্চ থেকে।এখন সময় শুধুই ‘বলীযুদ্ধ’ উপভোগের।ঐতিহাসিক জব্বারের বলীখেলার ১০৭ তম আসরের যাত্রা শুরু অবশেষে। এরপর একে একে একসঙ্গে দুজন দুজন করে মোট চারজন অংশ নিলেন বলীখেলায়। এবারের আসরে লড়ার জন্য প্রায় দেড়শ জন বলী নাম তালিকাভুক্ত করলেও বলীখেলায় অংশ নেন ৭৮ জন।এর মধ্যে প্রাথমিক রাউন্ডে ৩৭ জন বিজয়ী হন।

সেমিফাইনাল পর্ব শুরু হলো বিকেল পাঁচটার কিছু পরে।সেমিফাইনালে অংশ নেন দিদার বলী ও হাবিব বলী এবং শামছু ও অলি বলী।এতে জয়ী হন দিদার বলী ও শামছু বলী।এর পরপরেই শুরু হয় চ্যাম্পিয়ন পর্ব।একবার দিদার বলী ছেপে ধরেন তো, আরেকবার শামছু বলী।পাশাপাশি দুই উপজেলার এই দুইবলী যেনো নেমেছিলেন মরণযুদ্ধে।কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়।২০মিনিট পার হওয়ার পর ঘোষণা আসছে দ্রুত শেষ করতে হবে, না হয় খেলা সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে।অবশেষে প্রায় ৩২ মিনিট পর্যন্ত খেললেন দুজন।তবে মাঝখানের বিরতির সময় বাদ দিলে প্রায় ২৭মিনিট ২১ সেকেন্ড পর্যন্ত মুখোমুখি লড়াই করেছেন দুজন।

রেফারি মঞ্চ থেকে নেমে এসে কথা বললেন সিটি মেয়র ও পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে।তাদের পরামর্শে শামছু বলীকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেন রেফারি। এসময় রেফারি বলেন, ‘দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা খেলার মধ্যে একদম নিখুঁত খেলেছেন শামছু বলী।দিদার বলী বেশ কয়েকবার ফাউল খেলেছেন।প্রতিপক্ষকে ধাক্কা দিয়েছেন, যা খেলার নিয়মবিরোধী।তাই শামছু বলীকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হলো।

 এর মধ্যে দিয়ে দীর্ঘদিনের রাজত্ব হারালেন রামুর দিদার বলী।এর আগে তিনি এই বলীখেলার ১২ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন।নতুন চ্যাম্পিয়ন হলেন সদ্য সাতকানিয়ার মক্কার বলী ও সাহাব উদ্দিনের বলী খেলায় চ্যাম্পিয়ন হওয়া টেকনাফের শামছু বলী। পরে চ্যাম্পিয়ন ও রানার আপকে আর্থিক পুরস্কারের চেক ও শিরোপা তুলে দেন অতিথিরা।

এর আগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, ‘আমি চট্টগ্রামের সন্তান।আমার পূর্বপুরুষেরা এই অঞ্চলের মানুষ।এই বলীখেলা দেশের অন্যতম সাংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে।চট্টগ্রামের জন্য এটি অত্যান্ত সম্মান ও গৌরবের।একজন ক্রীড়ামোদি হিসেবে এই বলীখেলার জন্য আমি নিজেও অত্যান্ত গৌরববোধ করছি।

বলীখেলার উদ্বোধক পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার বলেন, ‘এতিহ্যবাহী এই বলীখেলায় আসতে পেরে আমি গর্ববোধ করছি।ইতিহাসের অংশ এই বলীখেলা আমি প্রত্যক্ষ করছি, তা আমার জন্য অত্যান্ত আনন্দের।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গ্রামীণফোনের চট্টগ্রাম সার্কেল হেড এম শাওন আজাদ বলেন, ‘দ্বিতীয়বারের মতো আমরা ঐতিহাসিক এই বলীখেলার সঙ্গে সংযুক্ত হলাম।আমাদের সুযোগ করে দেওয়ার জন্যও আয়োজকদের ধন্যবাদ।ভবিষ্যতেও আমরা এই খেলার সঙ্গে জড়িত থাকার চেষ্টা করবো।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জব্বারের বলীখেলা ও বৈশাখী মেলা উদযাপন কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী।  এসময় মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শওকত আনোয়ার বাদলসহ কয়েকজন কাউন্সিলরও উপস্থিত ছিলেন। বলীখেলা উপলক্ষে লালদীঘি ময়দান তো জনসমুদ্র পরিণত হয়েছিল।পাশের নগর পুলিশের কার্যালয় বলেন, অদূরের উঁচু ভবনগুলোর ছাদ বলেন-সবখানেই মানুষের চোখ পড়েছিল বলী খেলার মঞ্চে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ