বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম এম শাহরিয়ার রুমী। একসময় আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া ফরিদপুরের এই রাজনীতিক এখন তাঁর জীবনের বাকি সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশসেবায় আগ্রহী। রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানিয়েছেন রুমী। ইতিমধ্যে ওই পদত্যাগপত্র বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলের মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপনের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছাড়াও ফরিদপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে ছিলেন রুমী। ওই পদসহ বিএনপির সব পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোদাররেছ আলী বলেন, ‘অসুস্থতার কারণে দীর্ঘ দিন ধরে দলীয় কর্মকাণ্ডে নিষ্ক্রিয় ছিলেন রুমী। তিনি কেন পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা জানি না। তাঁর বিবৃতি দেখার পর এই বিষয়ে বলতে পারব।’
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে রুমী উল্লেখ করেছেন, ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। কিন্তু দেশ-জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও প্রগতিশীলতার দিকে সঠিক নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আওয়ামী লীগের কোনো বিকল্প নেই। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি বিএনপি ত্যাগ করছেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তির ভাষ্য অনুযায়ী, রুমীর বাবা প্রয়াত আইনজীবী শামসুদ্দীন মোল্লা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। বাংলাদেশের খসড়া সংবিধান রচয়িতাদেরও অন্যতম ছিলেন তিনি। ফরিদপুরে ছাত্রলীগের কর্মী ও নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন রুমী। পরে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য হন। দায়িত্ব পান প্রচার ও অর্থ সম্পাদকের। এরপর যোগ দেন আওয়ামী লীগে। আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির সদস্য হন। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে ফরিদপুর-৫ (ভাঙ্গা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন। রুমীর ভাষ্য, নির্যাতনের মুখে এবং জনগণের স্বার্থে ওই নির্বাচনের পর বিএনপিতে যোগ দিতে বাধ্য হন তিনি। তবে তাঁর ওই সিদ্ধান্তটি ঠিক ছিল না। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে রুমী উল্লেখ করেছেন, বিপরীতমুখী রাজনীতির সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখা ঠিক হচ্ছে না বলে মনে হয়েছে তাঁর। তাই তিনি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাকি জীবন দেশ ও দশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চান।




