ক্যামেরা দেখলেই মুখ লুকিয়ে রাখেন ময়মনসিংহে জাকাত ট্র্যাজেডির আসামিরা। শনিবার দুপুরে তাদের আদালতে আনা হলে প্রধান আসামি হাজী মোহাম্মদ শামীম ওরফে শামীম তালুকদার থেকে শুরু করে অন্য আসামিরাও নিজেদের আড়াল করে নেন। আদালতপাড়ায় প্রায় ঘণ্টাখানেক অবস্থানের সময়েও এক আসামির সঙ্গে অন্য আসামির মধ্যকার দূরত্বও ছিল লক্ষ্যণীয়। কেউ কারও সঙ্গে কোন কথা বলেননি।
সূত্র জানায়, শনিবার দুপুরে পুলিশ ভ্যানে (ময়মনসিংহ-ম-১১-০০২১) করে শহরের কোতয়ালি মডেল থানা থেকে আদালতে আনা হয় এ মামলার প্রধান আসামি শামীম তালুকদার ও তার পুত্র হেদায়েতসহ অন্য ৮ আসামিকে। এ সময় আসামিদের ছবি ও সংবাদ সংগ্রহ করতে ভিড় জমান বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা। এদিন আদালত বন্ধ থাকার পরও উৎসুখ মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ে। কেউ কেউ আবারও আসামিদের দেখে ভৎর্সনাও করেন। আসামিদের কারও হাতে হাতপাখাও ছিল। পুলিশ ভ্যানে বসে নিজেদের বাতাস করছিলেন তারা। এ সময় তাদের স্বজনরাও ছুটে আসেন আদালত চত্বরে। নূরানী জর্দার সত্ত্বাধিকারী শামীমকে তাদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়নি।
তবে ফটো সাংবাদিকরা আসামিদের ছবি তুলতে গেলে শামীম এদিক সেদিক তাকান। আর তার সঙ্গে থাকা আসামি পুত্র হেদায়েত ও অন্যরাও হাতপাখা দিয়ে নিজের মুখ লুকিয়ে রাখেন। কেউ হাত দিয়ে ঢেকে রাখেন নিজের মুখায়ব। এদিকে এসময় কয়েকজন আইনজীবীকেও শামীমের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। তাদের সঙ্গে দু’চার বাক্য কথাও বলেন শামীম। এ সময় আইনজীবীরা তাকে সান্তনা দিয়ে বলেন, ‘আপনি কোন চিন্তা করবেন না, এটা একটি অ্যাক্সিডেন্ট, আপনি ভালো করছিলেন! আমরা আপনার সঙ্গে আছি। শামীম আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বলেন,‘আসলে আমার কোন দোষ নেই। আমি প্রতিবার এভাবেই জাকাত দিই। এ ঘটনা ঘটবে আমি কল্পনাও করিনি। আমার জন্য দোয়া করবেন আপনারা। আদালত সূত্র জানায়, দুপুরে ময়মনসিংহের ১নম্বর আমলি আদালতের সিনিয়ির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহসান হাবিবের আদালতে শামীম তালুকদার, তার ছেলেসহ ৮ আসামির বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুশফিকুর রহমান।
তবে ওইদিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি। ১২ জুলাই এ মামলার শুনানি হবে বলে জানান ময়মনসিংহের কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. শুকরানা। কোতয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুমন তালুকদার জানান, আদালতের নির্দেশে শামীমসহ ৮ আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ১০ জুলাই শুক্রবার ময়মনসিংহ পৌরসভা কার্যালয় সংলগ্ন অতুল চক্রবর্তী রোডে নূরানী জর্দা ফ্যাক্টরিতে জাকাতের কাপড় নিতে গিয়ে পদদিলিত হয়ে ২৭জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ওই কারখানার মালিক শামীম তালুকদারসহ ৮জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা করা হয়। আর ঘটনা তদন্তে তিনটি পৃথক কমিটি গঠন করো করেছে পুলিশ ও জেলা প্রশাসন।




