জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন সুমন হেম্ব্রম (৩৫) নামে এক পাষণ্ড ঘরজামাই। এ সময় ধারালো চাপাতির আঘাতে তার স্ত্রী সিলভিয়া গুরুতর আহত হন। শুক্রবার দিনগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ভিমপুর আদীবাসী পল্লীতে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্ত জামাই সুমনকে আটক করেছে পুলিশ। সুমন উপজেলার আয়মা রসুলপুর ইউনিয়নের নওয়ানা গ্রামের নবীন হেম্ব্রমের ছেলে। হত্যাকাণ্ডে নিহতরা হলেন- সুমনের শ্বাশুড়ি সন্ধ্যা রানী হাসদা (৪৫), ছেলে সানী হেম্ব্রম (৬), শ্যালিকা তেরেজা মারাণ্ডী (২৩) ও ফুফা শ্বশুর মার্কেল মারাণ্ডী (৫০)।
পুলিশ ও নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, স্ত্রীর পরকীয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বাধা দিয়ে আসছিলেন সুমন। বিষয়টি তিনি শ্বাশুড়ি ও শ্যালিকাকে বারবার জানালেও তারা এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো প্রশ্রয় দিয়ে আসছিলেন। আর এ থেকেই ক্ষোভের সৃষ্টি হলে শুক্রবার রাতে শ্বশুর বাড়িতে ঘুমিয়ে থাকা নিজের ছেলে, শ্বাশুড়ি, শ্যালিকা ও ফুফা শ্বশুরকে ধারালো চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে সুমন। এ সময় ধারালো চাপাতির আঘাতে তার স্ত্রী সিলভিয়া গুরুতর আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় সিলভিয়াকে উদ্ধার করে পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, পরকীয়ার কারণে এ হত্যাকাণ্ড সংঘঠিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে খুনিকেও আটক করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে ঘাতকের ব্যবহৃত একটি চাপাতি উদ্ধার করেছে পুলিশ।




