তিস্তা চুক্তির বিষয়ে ভারতের সঙ্গে চোখের আড়ালেই আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে শুক্রবার বেলা ১১টায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিস্তা চুক্তির অগ্রগতি বিষয়ে এ কথা বলেন মন্ত্রী। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কূটনৈতিক তৎপরতা উন্মুক্তভাবে হয় না। অনেক কিছুই চোখের আড়ালে হয়। তিস্তা চুক্তি নিয়েও চোখের আড়ালে আলোচনা চলছে। এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। তিনি বলেন, কোনো কিছুই রাতারাতি হয় না। ৪১ বছর পর স্থল সীমানা সমস্যার সমাধান হয়েছে। এটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। যে চুক্তি (তিস্তা) নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে, সেটা নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। তিস্তা চুক্তির বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো গেলেই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
মাহমুদ আলী আরও বলেন, মোদি একা আসছেন না, তার সঙ্গে মমতা ব্যানার্জিও ঢাকায় আসছেন। এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে তিস্তা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে সাফল্য এলেই জানানো হবে। তিস্তা চুক্তি না হওয়া কূটনৈতিক ব্যর্থতা কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমরা সেটা মনে করি না। ভারত থেকে পাঁচশ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে। শিগগিরই আরও ছয়শ মেগাওয়াট আমদানি করা হবে। সুতরাং এটি ঠিক নয় আমরা কিছুই পাচ্ছি না। আমাদের নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। এছাড়া মোদির সফরে দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বলেও জানান তিনি। শনিবার দুই দিনের সফরে ঢাকা আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে দু’দেশের মধ্যে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে দ্বি-পাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, আলোচনা শেষে উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে স্থল সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত চুক্তির অনুসমর্থনের দলিল বিনিময় হবে। তাদের উপস্থিতিতে দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি, অভ্যন্তরীণ নৌ প্রটোকল, উপকূলীয় নৌ চলাচল চুক্তি, পণ্যের মান সংক্রান্ত সহযোগিতা চুক্তি ও সাংস্কৃতিক বিনিময় সহযোগিতা চুক্তি সই হবে বলে আমরা আশা করছি। এছাড়া দু’দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা, মানবপাচার রোধ, জাল নোট পাচার রোধ, সমুদ্রভিত্তিক ব্লু-ইকোনমির ক্ষেত্রে সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক সই হবে বলেও জানান তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যেও সহযোগিতার বিষয়ে বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হবে। এ চুক্তিগুলো সই হলে আঞ্চলিক আন্তঃসংযোগ ও ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার হবে। মোদির সফরে কলকাতা-আগরতলা বাস সার্ভিস ও ঢাকা-শিলং-গুয়াহাটি বাস সার্ভিসের সূচনা হবে বলে জানান মাহমুদ আলী। এছাড়া মোদির সফরে খুলনা-মংলা রেললাইন, কুলাউড়া-শাহাবাজপুর রেল সংযোগ পূণর্বহাল, শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে রবীন্দ্রভবন, সারদা পুলিশ একাডেমিতে একটি মৈত্রী ভবন, ফেনী নদীর উপর সেতু নির্মাণ প্রকল্প, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের একটি পরীক্ষাগার ও একটি বর্ডার হাট উদ্বোধন করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।
এক প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, মানবপাচার রোধ করতে ভারতের সঙ্গে একটি প্রটোকল চুক্তি সই হবে। এছাড়া ভারতের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তিতে করিডোরের মাধ্যমে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের মধ্যে বাণিজ্য ও পণ্য আদান-প্রদানের সুযোগ থাকবে। নীতিগতভাবে পরবর্তীতে এসব ট্রানজিটের মাশুল নির্ধারণ করা হবে বলেও তিনি জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলীসহ আরও অনেকে।




