ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ করে দেওয়ায় চট্টগ্রাম নগরীতে পরিবহন সংকট দেখা দিয়েছে। সোমবার সকাল থেকে শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিপাকে পড়েন। দ্বিগুন ভাড়া হাঁকছেন প্যাডেলচালিত রিকশা ও সিএনজি অটোরিকশার চালকরা। প্রয়োজনে বাড়তি ভাড়া গুনে গন্তব্যে যাচ্ছেন যাত্রীরা। সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ২নং গেইট, নিউ মার্কেট, কাজীর দেউড়ি, এনায়েত বাজার মোড়, ওয়াসা, চেরাগি পাহাড় এলাকায় প্যাডেলচালিত রিকশা চলাচল করতে দেখা গেছে। হাতে গোনা কয়েকটি ব্যাটারিচালিত রিকশাও দেখা গেছে। বিভিন্ন এলাকায় অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগামী যাত্রীদের জটলা। রিকশা না পেয়ে অনেকে বিকল্প বাহনে ছুটছে গন্তব্যে। অনেককে ভাড়া নিয়ে দরকষাকষি করতেও দেখা গেছে।
মোমিন রোড থেকে কাজির দেউড়ি বাজারে যাবেন গৃহিণী শারমিন ইসলাম। স্বাভাবিক ভাড়া ২০টাকা হলেও প্যাডেলচালিত রিকশায় ভাড়া হাঁকছেন ৪০টাকা। অবশেষে ৩০টাকায় যেতে রাজি হন রিকশা চালক। ব্যাংকার আবদুল হাকিম বলেন,‘বহদ্দারহাট থেকে আগ্রাবাদ এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশায় আসা যাওয়া করতাম। আজকে সকাল থেকে রিকশা পাচ্ছি না। সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া দাবি করছে দ্বিগুন। শেষে বাসে করে কর্মস্থলে আসছি।’ ব্যাটারি রিকশা চালক আবদুর রহিম। থাকেন নগরীর বাকলিয়া এলাকায়। বললেন,‘সকাল থেকে তিন জায়গায় ট্রাফিক পুলিশ গাড়ি আটক করেছে। ২০টাকা করে ৬০টাকা দিয়ে পার পেয়েছি। গাড়ি না চালালে খাব কি? এ রিকশায় পরিবারের পাঁচজনের আহার জোটে। ’
আরেক চালক আবদুল কুদ্দুস বলেন,‘চট্টগ্রাম শহরে উঁচু-নিচু রাস্তা। প্যাডেল রিকশা টানতে কষ্ট হয়। ব্যাটারি রিকশায় কষ্ট কিছুটা কম। তাই সবাই ব্যাটারিচালিত রিকশা চালাতে আগ্রহী।’ নগরীর আমবাগান এলাকায় দেখা গেছে, গ্যারেজেগুলোতে রিকশা থেকে ব্যাটারি খুলে ফেলার হিড়িক পড়েছে। রানা নামের এক রিকশা চালক বলেন,‘সবাই গরিবের উপর নির্যাতন চালায়। রিকশা টানা যে কি কষ্ট সেটা কেউ বুঝতে চায় না। ব্যাটারি রিকশা বন্ধ করে দিলেতো আর পেট বন্ধ থাকে না। তাই ব্যাটারি খুলে ফেলছি। আরেক চালক বলেন,‘ধার নিয়ে ব্যাটারি আর মোটর লাগাইছি একমাসও হয়নি। এখন আবার খুলে ফেলতে হচ্ছে। পথে বসা ছাড়া উপায় নেই। প্যাডেল রিকশা চালিয়েতো আর ধার শোধ করতে পারবো না।’
গত ৩ জুলাই ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে ব্যাটারি ও ইঞ্জিনচালিত রিকশা চলাচল বন্ধের বিষয়ে নির্দেশনা দেন হাইকোর্ট। ৩১ আগস্ট থেকে চট্টগ্রামে ব্যাটারিচালিত রিকশা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ। ১১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট পরবর্তী ছয় মাস তাদের সংগঠনের রিকশা চলাচলে বাধা সৃষ্টি না করতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র, জেলা প্রশাসক, নগর পুলিশের কমিশনার ও ট্রাফিক পুলিশের উপকমিশনারকে নির্দেশ দেন। এরপর আবারও ব্যাটারিচালিত রিক্সা চলাচল স্বাভাবিক হয়। গত বৃহস্পতিবার নগর পুলিশের এক সভায় রিক্সা থেকে ব্যাটারি খুলে ফেলতে চালক ও মালিকদের তিনদিন অর্থাৎ রোববার (২২ মার্চ) পর্যন্ত সময় বেধে দেওয়া হয়।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন, অর্থ ও ট্রাফিক) একেএম শহীদুর রহমান বলেন, হাইকোর্ট থেকে ছয় মাসের একটা অনুমতির কারণে ব্যাটারিযুক্ত রিক্সা চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়েছিল। সেই অনুমতির মেয়াদ ১৫ মার্চ শেষ হয়েছে। নতুন করে কোন অনুমতি তারা আনতে পারেননি। এজন্য সোমবার (২৩ মার্চ) থেকে ব্যাটারিযুক্ত রিকশা চলবেনা।




