মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়কেরাণীগঞ্জে একই পরিবারের ৪ সদস্যের লাশ উদ্ধার, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে...

কেরাণীগঞ্জে একই পরিবারের ৪ সদস্যের লাশ উদ্ধার, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে পুলিশ

দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের একই পরিবারের চারজন খুনের ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে পুলিশ। খুনিরা ঠাণ্ডা মাথায় বাসায় ঢুকে মুখ ও  হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করে পরিবারটিকে। বুধবার বেলা সাড়ে ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে এসে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হাবিবুর রহমান এসব কথা বলেন। খুনিদের ধরতে বাসা থেকে যথেষ্ট আলামত পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি। তবে নিহত পরিবারের নাম-পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।

এদিকে বাসা থেকে আলামত হিসেবে একটি ভাঙ্গা মোবাইল সেট, মানিব্যাগ, মাদক সেবনের সরঞ্জামাদি উদ্ধার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ ঘটনায় বাসার কেয়ারটেকার সোহেল ও স্থানীয় সিএনজিচালক আক্কাসকে আটক করা হয়েছে। কলাকান্দি এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাবুল দেওয়ান জানান, সিএনজিচালক আক্কাসের মাধ্যমে কেয়ারটেকার সোহেল ২ মাস আগে বাসাটি ভাড়া দেয় পরিবারটিকে।

তিনি আরো জানান, সকালে তার ভাগ্নে কাজী স্বপন ফোন দিয়ে জানায় এলাকার ছয়তলার দ্বিতীয়তলায় চারজনকে মেরে ফেলা হয়েছে। তিনি ফোন পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে আসেন। বাসার দরজা খুলে তিনি গন্ধ পেয়ে ভেতরের প্রবেশ করেন। এরপর বাসার একটি কক্ষের ভেতর খাটের নীচে দুইটি লাশ দেখতে পান। এরপর খাট জাগিয়ে আরো দুই বাচ্চার লাশ দেখতে পান। প্রতিটি লাশের মুখ কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিলো।

এদিকে এলাকার বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে মেম্বার বলেন, ‘তিন মাসের মধ্যে চারটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে আট নম্বর ওয়ার্ড থেকে। এই এলাকায় প্রায়ই এরকম লাশ উদ্ধার হয়।’ এদিকে বাসায় গিয়ে দেখা গেছে, শুধু কিছু কম্বল এবং একটি চৌকি পড়ে আছে। এই চৌকির নীচেই লাশগুলো ছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ হাজার টাকা মাসিক ভাড়ায় সাতজন থাকার কথা বলে তারা বাসাটিতে ওঠেন। ঘটনার এক সপ্তাহ পর্যন্ত বাসাটিতে সাতজনই ছিল।

সোহেলের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, বাসায় উঠার আগে ভাড়াটিয়া পুরুষ সদস্য নিজেকে কাঁচামালের ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। আব্দুল্লাহপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন বাজারে কাঁচামালের ব্যবসা করতেন। বাসাটির দু’তলার ভাড়াটিয়া পাপিয়া আক্তার জানান, দুই মাস আগে তারা বাসাটি ভাড়া নেয়। তবে বেশির ভাগ সময় তাদের বাসাটি তালাবদ্ধ থাকত। তারা কারো সঙ্গেই কথা বলতেন না। ভাড়াটিয়ার বাচ্চারাও বাসার বাইরে খেলতে আসত না। তাদের নামও তিনি জানেন না। গত ২/৩ দিনে পাশের বাসা থেকে কোনো চিৎকার বা কান্নার আওয়াজ পেয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো আওয়াজ আমি পাইনি।

  • বিষয়:
  • top
আরও পড়ুন

সর্বশেষ