রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পোশাক কারখানাগুলোর সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ অবস্থান নিয়েছে

অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পোশাক কারখানাগুলোর সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ অবস্থান নিয়েছে

শ্রমিক অসন্তোষের কারণে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে রাজধানীর বাড্ডার পোশাক কারখানাগুলোর সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকেই বাড্ডার আলোচিত তোবা গার্মেন্টসসহ ফুজি টাওয়ার, হল্যান্ড সেন্টার, লু‍ৎফুন টাওয়ারে অবস্থিত পোশাক কারখানাগুলোর সামনে পুলিশের সতর্ক অবস্থান নিয়ে থাকতে দেখা যায়। শ্রমিক ধর্মঘটে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে কারণে পুলিশের অবস্থানের পাশাপাশি পুলিশের সাজোয়াঁ যান, জলকামান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে পুলিশি টহলও অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ জলিল বলেন, বৃহস্পতিবার শ্রমিক অসন্তোষের কারণে সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের মতো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। শুক্রবার শ্রমিক ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে আবারও যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটাতে পারে, সে বিষয়টি বিবেচনা করে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বৃহস্পতিবার সংঘর্ষের ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে শুক্রবার হতে পারে বলেও জানান বাড্ডা থানার ওসি।

ঈদের আগের দিন থেকে তোবা গ্রুপের পাঁচটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা বকেয়া তিনমাসের বেতন-ভাতা ও বোনাস পরিশোধের দাবিতে অনশন কর্মসূচি শুরু করেন। দাবি আদায়ে কারখানার ভেতরেই আমরণ অনশনের পাশাপাশি বিক্ষোভ মিছিলসহ নানা কর্মসূচি শুরু করেন শ্রমিকরা। এ ঘটনায় প্রায় ৪০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন।

৩ আগস্ট বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে তোবা গ্রুপের এক হাজার ছয় শ শ্রমিকের মে-জুন মাসের বেতন পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এবং জুলাই মাসের বেতন ১০ আগস্ট পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত না মেনে শ্রমিকেরা আন্দোলন অব্যাহত রাখেন। তাদের দাবি, বেতন দিলে কারখানাতে এসে দিতে হবে আর দুই মাসের নয় সমুদয় বেতন একই সঙ্গে পরিশোধ করতে হবে।

এ দাবিতে বৃহস্পতিবার তোবা গার্মেন্টসের আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে আশপাশের পোশাক শ্রমিকরা যোগ দিয়ে সড়কে বাঁশ ফেলে ব্যারিকেড দেয়। ফলে, প্রগতি সরণীতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ বাধা দিলে তাদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় ৫০টির মতো গাড়ি ভাঙচ‍ুর করেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে ও লাঠিচার্জ করে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ