রাজধানীর মতিঝিলের সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের প্রধান শাখা থেকে সাড়ে ৪ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে র্যাব-৩। মঙ্গলবার বিকেলে র্যাব-৩ এর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে এ বিপুল সংখ্যক ইয়াবা উদ্ধার করে। র্যাব সদস্যদের মতে, এবার কৌশল পাল্টেছে ইয়াবা পাচারকারীরা। বাস, ট্রেনেসহ নানা কৌশল ব্যবহারের পর এবার তারা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়াতে কুরিয়ার সার্ভিসকে বেছে নিয়েছে।
তবে কুরিয়ার সার্ভিসে মাদক পাচারের ঘটনা পুরাতন মনে করছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তাদের মতে, এর আগেও এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। তখন তৎপরতার কারণে তা কমে আসে। বর্তমানে তা আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। অব্যাহত অভিযানে যা আবারো নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে।
এ নিয়ে র্যাব-৩ এর অপারেশন অফিসার এএসপি রবিউল আলম বলেন, ইয়াবা চোরাকারবারীরা কুরিয়ার সার্ভিসকে পুনরায় ব্যবহার করা শুরু করলো কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আগামীতে কুরয়িার সার্ভিসে আমাদের পর্যবেক্ষণ আরো বাড়ানো হবে। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি চট্রগ্রাম থেকে কম্পিউটার পাঠানোর নাম করে ইয়াবা পাচার করা হচ্ছে। এমন খবরের ভিত্তিতে আমরা সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের প্রধান অফিসে তল্লাশি শুরু করি। এক পর্যায়ে সেটি আমরা দেখতে পাই। এরপর তার ভেতরে অভিনব কায়দায় লুকানো সাড়ে ৪ হাজার পিস ইয়াবার প্যাকেট পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, এখানে যে ব্যক্তির নামে ইয়াবা পাঠানো হয়েছে তদন্তের স্বার্থে তার নাম প্রকাশ করা যাচ্ছেনা। আমরা তাকে গ্রেফতারের জন্য ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করেছি। এদিকে ইয়াবা পাচারকারীরা এর আগেও কুরিয়ারে করে ইয়াবা, ফেন্সিডিল পাচার করলেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার কারণে এক সময় তা বন্ধ হয়ে যায়।
আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র জানায়, বাস বা ট্রেনে করে ইয়াবা নিয়ে আসলে তল্লাশির সময় গ্রেফতার হওয়ার ভয়ে তারা আবারও কুরিয়ার সার্ভিসকে বেছে নিয়েছে। র্যাব-৩ এর অপারেশন অফিসার রবিউল আলম আরো জানান, এই মাধ্যমে এখন ইয়াবা পাচারের বিষযটি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কুরিয়ার সার্ভিসগুলো এমনিতেই আমাদের নজরদারীর মধ্যে থাকে। এরপর আমরা আমাদের নজরদারী আরো বাড়াবো।




