তোবা গ্রুপের শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-বোনাস অবিলম্বে দেওয়ার দাবিতে আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শ্রমিকদের ৩০টি সংগঠনের নেতা-কর্মীরা প্রতীকী অনশন শুরু করেছেন। সকাল ১০টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত এ অনশন চলবে। অনশনের শুরুতে বক্তব্য দেন শ্রমিক কর্মচারী লীগ, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফোরাম, জাতীয় শ্রমিক জোট, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফেডারেশন, জাতীয় গার্মেন্টস ও দর্জি শ্রমিক জোট সংগঠনের নেতারা। তাঁরা অভিযোগ করেন, বিজিএমইএ চাইলেই সংগঠনের কল্যাণ তহবিল থেকে ঈদের আগেই শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দিতে পারত। সরকারও চাইলে শ্রমিক কল্যাণ তহবিল থেকে এ অর্থ দিতে পারত। কিন্তু দুই পক্ষের কারোরই সদিচ্ছা ছিল না। তারা তোবা গ্রুপের মালিক দেলোয়ারকে কারাগার থেকে বের করে আনতে শ্রমিকদের জিম্মি করেছে। সংক্ষুব্ধ নারী সমাজ ও নাগরিক ঐক্য নামের দুটি সংগঠন একই দাবিতে মানববন্ধন পালন করছে। প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তায় এসব কর্মসূচি ঘিরে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
তোবা গ্রুপের শ্রমিকেরা আজ অষ্টম দিনের মতো তাঁদের অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। তিন মাসের পূর্ণাঙ্গ বেতন ও এক মাসের ওভারটাইম এবং ঈদ বোনাস না দেওয়া পর্যন্ত এ অনশন চলবে বলে জানিয়েছেন শ্রমিকেরা। তাঁরা ‘দুই মাসের বেতন মানি না, মানব না,’ ‘আপোস নয় সংগ্রাম চলছে চলবে,’ ‘রুটি রুজির সংগ্রাম চলছে চলবে,’ ‘কেউ খাবে কেউ খাবে না, তা হবে না, তা হবে না,’ ‘আমরণ অনশন চলছে চলবে’ বিভিন্ন স্লোগান চলছে। অনশনে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের মধ্যে গতকাল পর্যন্ত ৯৯ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। আজ এই সংখ্যা ১০১ জনে পৌঁছেছে। তাঁদের মধ্যে ১৫ জন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিত্সাধীন।
অনশনের নেতৃত্বে থাকা গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু বলেন, ‘প্রয়োজনে আমরা আত্মাহুতি দেব। তবে দুই মাসের বেতন আমরা মেনে নেব না। এটা না খেয়ে থাকা শ্রমিকদের সঙ্গে উপহাস ছাড়া কিছু না।’ মো. সুমন নামের এক শ্রমিক কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান, বিজিএমইএর দুই মাসের বেতন দেওয়ার প্রস্তাব কেউ মেনে নেবেন না।
গতকাল দিনভর মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর পোশাকমালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সংবাদ সম্মেলন করে তোবা গ্রুপের পাঁচ কারখানার শ্রমিকদের ৬ আগস্ট দুই মাসের মজুরি দেওয়ার ঘোষণা দেয়। আর কারখানা কর্তৃপক্ষ জুলাই মাসের মজুরি দেবে ১০ আগস্ট। একই সঙ্গে তারা এক মাসের ওভারটাইম ও ঈদ বোনাস অবিলম্বে পরিশোধ করবে। এ ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করেছেন অনশনরত শ্রমিকেরা। তাঁরা বলছেন, একসঙ্গে তিন মাসের বেতন-ভাতা না দেওয়া পর্যন্ত অনশন চলবে।




