প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিরাপদে আছেন। তারা যেসব স্থানে থাকেন সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক, প্যানিক হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি এখনো হয়নি। ইরাকে বাংলাদেশিরা বিপদগ্রস্ত নন। যদি এরকম কোনো ঘটনা ঘটে, তবে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বস্ত করেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী। এ সময় তার পাশে থাকা পররাষ্ট্র মন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীও বলেন, ইরাক থেকে বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার মতো পরিস্থিতি এখনো হয়নি। ইরাক থেকে যারা ফিরে এসেছেন তারা নিজের ইচ্ছায় এসেছেন বলেও জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রী। বুধবার জেলা প্রশাসক সম্মেলনে যোগদান শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন দুই মন্ত্রী।
মঙ্গলবারই ইরাক থেকে ৫১ বাংলাদেশি নিজের খরচে দেশে ফিরে আসেন। তারা বাগদাদে বাংলাদেশের দূতাবাসের কোনো সহায়তা পাননি উল্লেখ করে সেখানে নির্যাতিত হওয়ার কথাও জানান গণমাধ্যমের কাছে। তার একদিন পর দুই মন্ত্রীর কাছে গণমাধ্যমকর্মীরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ইরাকে ২৫ হাজার বাংলাদেশি কাজ করেন। তার মধ্যে মাত্র ৪০ জন ফিরেছেন। এরমধ্যে একজন বলেছেন, তারা দূতাবাসের সহায়তা পাননি, নির্যাতিত হয়েছেন। একজনের অভিযোগ কোনো প্রশ্ন হতে পারে না। ‘নির্যাতনের ঘটনা বিক্ষিপ্ত ও ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে হতে পারে।’ এ সময় মন্ত্রী প্রবাসীদের কল্যাণে জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, প্রতিটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে একটি প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক আছে। বিদেশে কর্মরতরা দেশে ফিরে যাতে অহেতুক হয়রানি ও তাদের উপার্জন যাতে বেহাত না হয় তার জন্য এই ডেস্ক দায়িত্ব পালন করবে। অপরিচিত কোনো লোক ও দালাল দ্বারা যাতে প্রবাসী বা প্রবাসে যেতে ইচ্ছুক কেউ হয়রানির শিকার না হয় তাও লক্ষ্য রাখবে এই ডেস্ক। ‘প্রতিটি গ্রামের যারা বিদেশে গেছেন তাদের ওপর একটি ডাটাবেজ তৈরি করে জেলা প্রশাসকদের কাছে দেওয়া হবে। এই ডাটাবেজ প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক তাদেরকে সেবা দিতে পারবে।’
এছাড়াও কেউ যাতে প্রতারিত হয়ে অনেক বেশি টাকা খরচ করে বিদেশে না যায় এজন্য প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের নিয়মিত সভায় এ নিয়ে আলোচনার জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী।
এদিকে জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনে মায়ানমার থেকে আগত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু একটি জাতীয় সমস্যা। রোহিঙ্গা বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে আগামী মাসে দু’দেশের মধ্যে পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে রোহিঙ্গা নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রী।
রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক কিছু সুপারিশ তুলে ধরেছেন- সাংবাদিকরা মন্ত্রীর কাছে এ বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সুপারিশগুলো আমাদের হাতে এসেছে।’
এ সময় মন্ত্রী মায়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ‘রাইট ট্র্যাকে’ আছে উল্লেখ করে বলেন, এ সম্পর্ক আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ও মায়ানমারের সীমান্ত রক্ষীদের মধ্যে সম্মেলন হয়েছে। এ সম্মেলন ছিলো ফলপ্রসূ। দুই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি চীন-ভারতের সঙ্গেও সম্পর্ক এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, বিমসটেক, বিসিআইএম, সাউদার্ন সিল্ক রুট এর মাধ্যমে রেল লাইন ও রাস্তা করার পরিকল্পনা চলছে। চীনের ইউনান প্রদেশের মাধ্যমে ট্রেন ও সড়ক যোগাযোগের পরিকল্পনাও আছে। এ সময় সেখানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, প্রবাসী কল্যাণ সচিব ড. খন্দকার শওকত হোসেন এবং ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব মোস্তাফা কামাল উপস্থিত ছিলেন।




