সরকারি দায়িত্ব পালনে দায়িত্বশীলদের সরকারি যানবাহন বরাদ্দ দেওয়া হলেও কাজে-অকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে এ সব যানবাহন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের লোকজনও নিজেদের কাজে এ সব গাড়ি ব্যবহার করে চলেছেন অবাধে। আর গাড়ির এই নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহারে প্রতিবছর সরকারের গচ্ছা যাচ্ছে কোটি কোটি টাকা।
বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে যানবাহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের উপস্থাপিত প্রতিবেদনে এ সব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। কমিটি এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি সরকারি গাড়ি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনার সুপারিশ করেছে।
কমিটির সভাপতি ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আমান উল্লাহ, মো. ইসহাক হোসেন তালুকদার, পঞ্চানন বিশ্বাস, আ. ফ. ম. রুহুল হক, মো. আফছারুল আমীন, শামসুল হক টুকু, মঈন উদ্দীন খান বাদল, এ. কে. এম. মাঈদুল ইসলাম এবং ওয়াসিকা আয়েশা খান অংশ নেন। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
কমিটি সূত্র জানায়, বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের অধীন ছয়টি কারখানার যানবাহন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আলোচনা হয়। এসময় মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনে এসব কারখানার সরকারি যানবাহন নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে সরকারি কাজের বাইরে এ সব যানবাহন ব্যবহার করতে গিয়ে জ্বালানি খরচ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগার থেকে নেওয়া হয়েছে। এতে সরকারের ৮৫ লাখ ২৩ হাজার ১৩৭ টাকা অপচয় করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৈঠক শেষে কমিটির প্রভাবশালী সদস্য মঈন উদ্দীন খান বাদল জানান, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের আওতাধীন কারখানাগুলোতে যানবাহন ব্যবহারে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। সরকারি টাকা অপচয় করে এসব যানবাহন ব্যবহার করে ব্যক্তিগত কাজ সম্পাদন করছেন সংশ্লিষ্টরা। কমিটি এ জন্য যানবাহন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনার সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি যারা সরকারি টাকা অপচয় করেছেন, তাদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, বৈঠকে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের সিবিএ নেতাদের সার্বক্ষণিক গাড়ি ব্যবহারের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। কমিটি শ্রমিক নেতাদের অবাধে গাড়ি ব্যবহারের ফলে প্রতিষ্ঠানের যে ক্ষতি হয়েছে, তা আদায়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে শ্রমিক নেতারা প্রাপ্যতার বাইরে যানবাহন ব্যবহার করলে এর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণেরও সুপারিশ করেছে কমিটি।




