নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন ও তার সহযোগীদের আরও ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সদর বারাসাতের মুখ্য বিচার বিভাগীয় হাকিমের আদালতে তাদের হাজির করা হলে আদালত এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ২১ জুলাই আদালত এ মামলার পরবর্তী হাজিরার তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
এদিকে নূর হোসেনের সহযোগী খান সুমনের পক্ষে আদালতে জামিনের প্রার্থনা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে নূর হোসেনসহ সবার পাসপোর্ট সম্পর্কিত তথ্য আদালতে হাজির করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গত ১৪ জুন রাতে কলকাতা বিমানবন্দরের কাছে বাগুইআটি থানার কৈখালী এলাকার ইন্দ্রপ্রস্থ আবাসন থেকে দুই সহযোগীসহ গ্রেফতার হয় নূর হোসেন। বাগুইআটি থানার সহযোগিতায় ভারতের অ্যান্টি টেরোরিস্ট স্কোয়াডের (এটিএস) সদস্যরা তাদের গ্রেফতার করে।
পরদিন ১৫ জুন নূর হোসেন ও তার দুই সহযোগী ওহিদুর জামান ও খান সুমনকে বারাসাতের আদালতে তোলা হয়। তাদের প্রত্যেকের আট দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে ২৩ জুন তাদের ফের আদালতে তোলা হয়। মুখ্য বিচার বিভাগীয় হাকিম মধুমিতা রায় ওই তিনজনকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে দিয়ে দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। নূর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে নিতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের করা আবেদনপত্রটি একই দিন মামলার সঙ্গে তালিকাভুক্ত হয়েছে। তবে আবেদনপত্রটির ব্যাপারে গতকাল আদালত কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। জেল হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ায় গতকাল তাদের আবার আদালতে তোলা হয়।
বারাসাতের মুখ্য বিচার বিভাগীয় হাকিমের আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) পল্লব চৌধুরী বলেন, নূর হোসেনের পক্ষে আজও আদালতে কেউ জামিনের আবেদন করেননি। আদালত ২২ জুলাই তাদের আবারও আদালতে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের পর নূর হোসেন বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নেয়। বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে থাকার পর ৮ জুন ইন্দ্রপ্রস্থ আবাসনে ওঠে সে। ওই আবাসনের পাঁচতলার একটি ফ্ল্যাট মাসিক ২০ হাজার টাকায় দুই মাসের জন্য ভাড়া নিয়েছিল নূর হোসেন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ১৪ জুন রাতে নূর হোসেন ও তার দুই সঙ্গীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ সময় নূর হোসেন ও তার সঙ্গীদের কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন সেট ও ১১টি সিম উদ্ধার করা হয়।




