ষ্টাফ রিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচনী ব্যয় বিবরণী না দেয়ায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। একই কারণে দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া আরো ১৪ প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রোববার বিকেলে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার বরাবর পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে মামলা করে কমিশনকে অবহিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। লালমনিরহাট, বরিশাল, শেরপুর, সুনামগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, ময়মনসিংহ, মুন্সিগঞ্জ ও চট্টগ্রামে বিভিন্ন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে এ নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, যেসব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী (বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিসহ) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচনী ব্যয় বিবরণী রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দেননি এবং নির্ধারিত সময়ের পর জমা দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্যে ইসি নির্দেশ প্রদান করেছেন। অর্থাৎ যারা গেজেট প্রকাশের ৩০ দিন পর ব্যয় বিররণী জমা দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, গেজেটে প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের ব্যয়ের হিসাবে নিজ নিজ রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দেয়ার আইনি বিধান রয়েছে এবং এর অনুলিপি ইসি সচিবালয়েও পাঠানোর কথা রয়েছে। সরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করে ৮ জানুয়ারি গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। সে মোতাবেক ৭ ফেব্রুয়ারি ব্যয় বিবরণী জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, এরশাদসহ ৮ জন প্রার্থী হিসাব জমাই দেননি। ৭ ফেব্রুয়ারি জমা দেয়ার শেষ দিন বিবেচনায় ডেপুটি স্পিকার ও প্রধান হুইপসহ অন্তত ২৪ জন প্রার্থী ব্যয় জমা দিতে ব্যর্থ হন। কিন্তু ছুটির দিনগুলো অন্তর্ভুক্ত করে কমিশন ৯ ফেব্রুয়ারি শেষ দিন নির্ধারণ করে। ডেপুটি স্পিকার ও প্রধান হুইপসহ অন্তত২৪ জন মামলা থেকে রক্ষা পান।
যারা এখনো ব্যয় বিবরণী জমা দেননি
লালমনিরহাট-১ আসনের জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, লক্ষ্মীপুর-১ মাহমুদুর রহমান মাহমুদ, লক্ষ্মীপুর-৪ এ কে এম শরিফ উদ্দিন ও বেলাল হোসেন, বরিশাল-৪ শেখ জয়নাল আবেদীন, শেরপুর-৩ হেদায়েতুল ইসলাম ও এস এম আব্দুর রাজ্জাক, সুনামগঞ্জ-৫ মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন। ইতোমধ্যে কুমিল্লা-৫ আসনের সফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে বুড়িচং থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া টাঙ্গাইল-৮আসনের সংসদ সদস্য শওকত মোমেন শাহজাহান ইতোমধ্যে মারা গেছেন।
যারা ৯ ফেব্রুয়ারির পরে ব্যয় বিররণী জমা দিয়েছেন
চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য তরিকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি। লালমনিরহাট-১ আসনের ছাদেকুল, ময়মনসিংহ-৭ হাফেজ রুহুল আমিন, মুন্সিগঞ্জ-২ মো. আবদুল ওয়াদুদ, সুনামগঞ্জ-৩ আজিজুস সামাদ আজাদ, চট্টগ্রাম-৪ দিদারুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৯ আলী আহমদ নজির ও আবু হানিফ।
প্রসঙ্গত, গত ৮ জানুয়ারি নির্বাচিত ২৯৮ জনের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে যশোর-১ ও ২ আসনের গেজেট স্থগিত করা হয়। সে মোতাবেক ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়ার সময়সীমা শেষ হয়েছে গত ৭ ফেব্রুয়ারি। মোট ৫৪৩ জন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।




