বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অরফানেজ ট্রাস্ট ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট্রের দুর্নীতি মামলায় আগামী ২১ মে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত। খালেদা জিয়ার পক্ষে সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে সোমবার ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ বাসুদেব রায় নতুন ওই তারিখ ধার্য করেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া জানান, অভিযোগ গঠনের আদেশ অবৈধ দাবি করে হাই কোর্টে একটি রিভিশন মামলা বিচারাধীন থাকায় খালেদা জিয়ার পক্ষে সাক্ষ্য গ্রহণ মুলতবির জন্য আবেদন করা হয়। আবেদনে আরও বলা হয়, ওই রিভিশনের ওপর শুনানি রবিবার শেষ হয়েছে। আগামী বুধবার ওই সংক্রান্তে আদেশ দেবেন হাই কোর্ট। শুনানি শেষে বিচারক আগামী ২১ মে পর্যন্ত সাক্ষ্যগ্রহণ মূলতবি করেন।
একই বিচারক গত ১৯ মার্চ উভয় মামলায় খালেদা জিয়া ও তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন। খালেদা জিয়ার অব্যাহতির আবেদনের সুযোগ না দেওয়া এবং তাকে অভিযোগ (চার্জ) পড়ে না শোনার অভিযোগে অভিযোগ (চার্জ) অবৈধ দাবি করে হাই কোর্টে ওই রিভিশন মামলা করা হয়।
উল্লেখ্য, এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করে দুদক। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় এই মামলাটি করা হয়। ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট দুদক আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।অভিযোগপত্রে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান, সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে আসামি করা হয়। আসামি তারেক রহমান সরকারের নির্বাহী আদেশে দেশের বাইরে রয়েছেন। মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ জামিনে এবং ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান মামলার শুরু হতেই পলাতক রয়েছেন।
অন্যদিকে ২০১১ সালের ৮ আগস্ট দুদকের দায়ের করা এ মামলায় ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে দুদক। এ মামলায় ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়। মামলাটিতে বিএনপি নেতা সচিব হারিছ চৌধুরী এবং তার তৎকালীন একান্ত সচিব বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ-এর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান আসামি।



