বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়খোকন রাজাকারের শুনানি শেষ, যেকোনো দিন রায়

খোকন রাজাকারের শুনানি শেষ, যেকোনো দিন রায়

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ফরিদপুর নগরকান্দার পৌর মেয়র বিএনপি নেতা পলাতক জাহিদ হোসেন খোকনের মামলার শুনানি শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার শুনানি শেষ হয়। এখন যেকোনো দিন রায় দেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এরআগে গতকাল বুধবার রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। একইসঙ্গে খোকনের সবোর্চ্চ শাস্তি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। গত বছরের ৯ অক্টোবর ১১টি অপরাধে অভিযুক্ত বিএনপি এ নেতার চিার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
১১টি অভিযোগের মধ্যে রয়েছে- ১৬ নারী ও শিশুসহ ৫০ জনকে হত্যা, তিনজনকে পুড়িয়ে হত্যা, দুইজনকে ধর্ষণ, নয়জনকে ধর্মান্তরিত করা, দুটি মন্দিরসহ ১০টি গ্রামের বাড়ীঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ, সাতটি পরিবারকে দেশত্যাগে বাধ্য করা এবং ২৫ জনকে নির্যাতন করা। গত ১৮ জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধের ১১ অভিযোগ আমলে নিয়ে খোকনকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
পলাতক খোকনকে আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। ১৪ আগস্টের মধ্যে আদালতে হাজির না হওয়ায় তার অনুপস্থিতিতেই অভিযোগে গঠনের শুনানি শুরুর নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।
তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী রাজাকার হিসেবে জাহিদ হোসেন খোকন লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, আটক, নির্যাতন, ধর্মান্তকরণ, ধর্ষণ, হত্যাসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার নগরকান্দায় এসব অপরাধ সংঘটন করেন।
প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়, একাত্তরের ২৯ মে চাঁদের হাটে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ও এদেশীয় রাজাকার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের বড় ধরনের যুদ্ধ হয়। ওই যুদ্ধে ভাই জাফর রাজাকার মারা যাওয়ার পর তার ভাই খোকন নগরকান্দা রাজাকার বাহিনীর প্রধান হন। গত ২৩ জুন ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন।
ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা বলছে, ১৯৭০ সালের জাতীয় নির্বাচনে খোকন জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে বৃহত্তর ফরিদপুর এলাকায় প্রচার চালান। পরে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে জড়ান এবং নগরকান্দা পৌর কমিটির সহ-সভাপতি হন। ২০১১ সালে তিনি নগরকান্দা পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। মেয়র হিসেবে শপথ নেয়ার পর থেকেই তিনি পলাতক। তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তা সত্য রঞ্জন রায় ২০১২ সালের ১৬ এপ্রিল খোকনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেন। তদন্তকালে তিনি ৭৮ জনের জবানবন্দি নেন।
আরও পড়ুন

সর্বশেষ