বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬
প্রচ্ছদআরো খবর......দুর্নীতির মামলায় মহিউদ্দিনের জামিন

দুর্নীতির মামলায় মহিউদ্দিনের জামিন

চট্টগ্রাম অফিস (বিডি সময় ২৪ ডটকম)

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের দোকান বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণের পর জামিন পেয়েছেন সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী।

বুধবার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ এস এম মুজিবুর রহমান মহিউদ্দিনের অর্ন্তবর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেছেন। জামিন শুনানির সময় মামলাটির কার্যক্রম নিয়ে সময়মত পদক্ষেপ না নেয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবীকে ভর্ৎসনা করেন আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলী ও মহানগর পিপি অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন আহমেদ  বলেন, হাইকোর্ট থেকে রিট পিটিশনমূলে মামলার কার্যক্রমের উপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। হাইকোর্ট থেকে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীও জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি হাইকোর্ট নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর প্রথম ধার্য তারিখে মহিউদ্দিন চৌধুরী আত্মসমর্পণ করে জামিন নিয়েছেন।

মহিউদ্দিনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রণি কুমার দে  বলেন, এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে আগামী ধার্য তারিখ পর্যন্ত জামিন দিয়েছেন আদালত। আগামী ধার্য তারিখে পূর্ণাঙ্গ শুনানির পাশাপাশি স্থায়ী জামিনের আবেদন করব।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, নগরীর মুরাদপুর জংশনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্মিত ২৩টি দোকান ১৯৯৭ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে টেন্ডার ছাড়া বরাদ্দ দেয়ার অভিযোগে ২০০২ সালের ১৩ অক্টোবর নগরীর কোতয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। দুদকের তৎকালীন পরিদর্শক শামসুল আলম বাদি হয়ে কোতয়ালী থানায় এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় তৎকালীন মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ ২৪ জনকে আসামী করা হয়।

মামলা দায়েরের পর ২০০২ সালের ১৬ নভেম্বর হাইকোর্ট থেকে একটি রুল জারি করে সেই ‍রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মহিউদ্দিনকে জামিন দেয়া হয়। এরপর ২০০৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি দুদকের তৎকালীন পরিদর্শক (বর্তমানে উপ পরিচালক) জাহাঙ্গীর আলম তদন্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মহিউদ্দিনের রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত ২০০৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মামলার কার্যক্রমের উপর স্থগিতাদেশ দেন।

২০১২ সালের ৬ ডিসেম্বর রিট পিটিশন সংক্রান্ত রুল খারিজ করে দিয়ে মামলার কার্যক্রমের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত নোটিশ দুদকে পাঠানো হয় ২০১৩ সালের ২৩ এপ্রিল। দুদকের চট্টগ্রামের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট মেজবাহউদ্দিন নোটিশটি গ্রহণ করেন। কিন্তু এরপর গত একবছরে ওই নোটিশ তিনি সংশ্লিষ্ট আদালতে দাখিল করেননি। এমনকি বিবাদিদেরও বিষয়টি দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।

বুধবার জামিন শুনানির সময় বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। এসময় দুদকের পিপি মেজবাহ উদ্দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দুদকের আরেক পিপি অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হক মাহমুদকে আদালত বলেন, নোটিশ পাবার পরও এক বছর ধরে আপনি এটা নিয়ে বসেছিলেন কেন ? আপনি তো বিবাদিপক্ষকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন, পুরো মামলার কার্যক্রমই নষ্ট করে দিয়েছেন।

এসময় অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হক মাহমুদ বলেন, আমি নোটিশটি গ্রহণ করিনি। হয়ত অনভিজ্ঞতার কারণে এমনটি হয়েছে। সাময়িক ভুলও হতে পারে। বিষয়টি আমি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।

এরপর জামিন শুনানিতে অংশ নিয়ে মহিউদ্দিনের পক্ষে অ্যাডভোকেট ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট রণি কুমার দে বলেন, মেয়র থাকা অবস্থায় এবিএম মহিউদ্দিন যা করেছেন সবই চট্টগ্রামবাসীর স্বার্থে করেছেন। তিনি সিটি কর্পোরেশনের আইন মেনে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ২৩টি দোকান বরাদ্দ দিয়েছিলেন। এখানে কোন ধরনের দুর্নীতি হয়নি। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার মহিউদ্দিনের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে মামলা দিয়েছেন।

আদালত এ মামলায় দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে মহিউদ্দিনকে ধার্য তারিখ পর্যন্ত জামিন দেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ