ষ্টাফ রিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
যুক্তরাষ্ট্রে রাজধানী ওয়াশিংটনে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতারা।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান জানান, স্থানীয় সময় রবিবার সকালে ওয়াশিংটন ডিসির সিটি সেন্টারে অবস্থিত ‘ওয়েস্টিন ওয়াশিংটন’ হোটেলে অর্থমন্ত্রীর স্যুইটে এ বৈঠক হয়। আধা ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠকের সময় তাদের পাশে আর কেউ ছিলেন না।
সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বৈঠক শেষে হাস্যোজ্জ্বল মুখে অর্থমন্ত্রীর কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান ফখরুদ্দীন। ঠিক তখনই মন্ত্রীর কক্ষে ঢোকেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল।
২০০৭ সালে জরুরি অবস্থার মধ্যে ছাত্র-শিক্ষকদের ওপর দমন-পীড়ন ও গ্রেপ্তার-নির্যাতনের ঘটনায় ফখরুদ্দীন আহমেদ ও সে সময়কার সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদকে বিচারের মুখোমুখি না করায় সরকারের মন্ত্রীসহ বিভিন্ন মহলে অসন্তোষ রয়েছে। সম্প্রতি এ নিয়ে সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।
২০০৭ সালের অগাস্টে ছাত্র বিক্ষোভের কারণ অনুসন্ধানে গঠিত শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রধান ছিলেন মেনন, যে কমিটি ২০১২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে প্রতিবেদন দেয়। ছাত্র-শিক্ষক নির্যাতনের জন্য ফখরুদ্দীন ও মইন উ আহমেদসহ ছয়জনকে প্রচলিত আইনে বিচারের মুখোমুখি করার সুপারিশ করা হয় ওই প্রতিবেদনে।
২০০৬ সালের শেষ ভাগে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতা ছাড়ার পর সারাদেশে যে সহিংসতা-হানাহানি ছড়িয়ে পড়ে, পরের বছর ১১ জানুয়ারি তার আপাত অবসান ঘটে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের জরুরি অবস্থা জারির মধ্যে দিয়ে। একইসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদ ছেড়ে দেন তিনি। বাতিল করা হয় ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন।
এরপর সেনানিয়ন্ত্রণে গঠিত হয় নতুন ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’, যার প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফখরুদ্দীন আহমদ। এই সরকার নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে দুই বছর পর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচন দেয়, আবার গণতন্ত্রে ফেরে দেশ।
সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সেই দুই বছরে দুর্নীতির মামলায় বহু রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এক পর্যায়ে গ্রেপ্তার হন শীর্ষ দুই নেত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াও। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের মুক্তির পরই নির্বাচন হয়, যাতে বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বধীন মহাজোট সরকার গঠন করে।
২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি সরকার গঠনের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ড স্টেটের পটোম্যাক সিটিতে পরিবার নিয়ে বাস করছেন ফখরুদ্দীন। সেখানকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করেন তিনি। মইন উ আহমেদও যুক্তরাষ্ট্রে বাস করছেন।
ওয়াশিংটন মেট্রো এলাকায় পেশাজীবী প্রবাসীদের একটি অংশের সঙ্গে ফখরুদ্দীনের উঠা-বসা থাকলেও বাংলাদেশি কমিউনিটির কোনো অনুষ্ঠানে তাকে কখনোই দেখা যায় না।
বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তিন দিনব্যাপী বৈঠকে অংশ নিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের প্রধান হিসেবে ওয়াশিংটন আসেন অর্থমন্ত্রী। ওই সম্মেলনের শেষদিন ছিল রবিবার। এদিন সন্ধ্যায় ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস ভবনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বাংলা বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সময় সোমবার ভোরে (বাংলাদেশ সময় সোমবার সন্ধ্যা) অর্থমন্ত্রীর মেক্সিকোর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়ার কথা রয়েছে। জলবায়ু ও উন্নয়ন শীর্ষক এক সম্মেলনে যোগদান শেষে বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে ফিরবেন তিনি।




