শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২৬
প্রচ্ছদআরো খবর......বন্দরনগরীতে গেস্টহাউজে রুমভাড়া ঘণ্টা হিসেবে : স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের আনাগোনাই বেশি। বিপদও ঘটে...

বন্দরনগরীতে গেস্টহাউজে রুমভাড়া ঘণ্টা হিসেবে : স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের আনাগোনাই বেশি। বিপদও ঘটে ঘাটে ঘাটে

চট্টগ্রাম অফিস (বিডি সময় ২৪ ডটকম)

অভিজাত এলাকায় গড়ে ওঠা গেস্টহাউজের রুম ভাড়া যাচ্ছে ঘণ্টা হিসেবে। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্র/ছাত্রীরা এসব গেস্টহাউজের প্রধান গ্রাহক। নগরীতে এধরনের গেস্টহাউজের চাহিদা বাড়ছে দিন দিন। বিশেষ করে খুলশী, জিইসির মোড় ও চকবাজারকেন্দ্রিক এসব গেস্ট হাউজের ব্যবসায় চলছে বেশ ভালো। আগ্রাবাদের মা মেয়ের আত্নস্বীকৃত খুনি আবু রায়হান ও তার সহযোগী শহীদের দেয়া তথ্যে অভিজাত এলাকায় গড়ে উঠা গেস্টহাউজের রুম ঘণ্টা হিসেবে ভাড়া দেয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকায় গত ২৪ মার্চ সকালে খুন করা হয় রিজিয়া আক্তার (৪৭) ও মেয়ে সায়মা নাজনিনকে (১৬)। ঘটনার দুই দিনের মাথায় এ হত্যকান্ডে জড়িত থাকার দায়ে রায়হান ও তার সহযোগী শহীদকে আটক করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ।

গ্রেপ্তারের পর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সম্মেলন কক্ষে আনা হয় রায়হান ও শহীদকে।  পুলিশের সামনে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে শহীদ বলেন, ‘খুলশীর ক্রাউন রেসিডেন্সি গেস্টহাউজে’ রায়হানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। রায়হান প্রায় সময় স্কুল ছাত্রী সায়মা নাজনিনকে নিয়ে উক্ত গেস্টহাউজে  যেতো। এসময় শহীদের পাশে থাকা মা মেয়ের আত্নস্বীকৃত খুনি  ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছে, সম্পর্কের এক বছরের মধ্যে ১৪/১৫ বার সায়মাকে নিয়ে খুলশীর গেস্টহাউজে  গিয়েছে। প্রতিবারই তার দুই হাজার টাকা খরচ হতো।

মা মেয়ে হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত সিএনজি ট্যাক্সি চালক কুমিল্লার রুবেল বলেছে, তিনমাস আগে রায়হানের সাথে তার পরিচয় হয় আগ্রাবাদ বেপারি পাড়ায়। প্রায় সময় তার ট্যাক্সিতে খুলশীর ‘ ক্রাউন গেস্টহাউজে’ যেতো রায়হান ও সায়মা।  কোনদিন এক ঘণ্টা আবার কোনদিন দেড়ঘণ্টার মাথায় তারা আবার ফিরে যেতো।

গ্রেপ্তারকৃত শহীদ জানিয়েছে, খুলশীতে এ ধরনের আরো একাধিক গেস্ট হাউজ রয়েছে। যেখানে ঘণ্টা হিসেবে রুম ভাড়া দেয়া হয়। এসব গেস্ট হাউজে প্রতিঘণ্টায় ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকায় ভাড়া নেয়া হয়। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া তরুণ-তরুণীরা এসব গেস্ট হাউজের গ্রাহক। মূলত দিনের  বেলায় এসব গেস্টহাউজে ব্যবসা চলে।  তাছাড়া ফয়’স লেক গেটে থাকা গেস্টহাউজেও ঘণ্টা হিসেবে রুম ভাড়া দেয়া হয় বলে জানান তিনি। শহীদ নিজেকে ক্রাউন গেস্টহাউজের পরিচালক মামুনের গাড়ি চালক বলে দাবি করেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে শহীদ বলেন, খুলশী ও ফয়স লেক এলাকায় গড়ে উঠা  গেস্টহাউজগুলোতে মূলত ঘণ্টা হিসেবে রুম ভাড়া দেয়ার ব্যবসা চলে। সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশ এসব গেস্টহাউজ থেকে প্রতিমাসে চাঁদা নিয়ে থাকেন।অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত কয়েক বছরে খুলশী এলাকায় এ ধরনের বেশ কয়েকটি গেস্টহাউজ গড়ে উঠেছে। খুলশী এক নম্বর সড়কে বিপরীতে সড়কের পাশেই থাকা গেস্টহাউজটিতেও  ঘণ্টা হিসেবে রুম ভাড়া দেয়ার ব্যবসা চলে। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলাকালীন সময়ে তরুণ তরুণীর বেশ  আনাগোনা দেখা যায় এ গেস্টহাউজে।শুধু সড়কের পাশে এ  গেস্টহাউজ নয়। খুলশী দুই নম্বর সড়ক, ফয়’স লেক হেট, জিইসির মোড়, নাসিরবাদ সিডিএ এভিনিউ, চকবাজার এলাকার একটি রেস্টুরেন্টের দ্বিতীয় তলায় এ ধরনের একাধিক গেস্ট হাউজ গড়ে উঠেছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খুলশীর একজন ব্যবসায়ী বলেন, খুলশীতে জনৈক ব্যক্তি রয়েছেন যার তিনটি গেস্টহাউজ রয়েছে। সম্প্রতি দক্ষিণ খুলশী এক নম্বর সড়কে আরো একটি গেস্ট হাউজ তৈরি করছেন তিনি। উক্ত ব্যবসায়ী আরো বলেন, ঘণ্টা হিসেবে রেস্ট হাউজের ব্যবসায় তিনি বেশ সফল। ছয় হাজার টাকার ভাড়া ঘরে থাকা এ ব্যক্তি কয়েক বছরে বিত্তশালীতে পরিণত হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ