বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়নিম্ন আদালতের প্রতি অনাস্থা এনে হাইকোর্টের কাছে বিচার প্রার্থী হচ্ছেন খালেদা...

নিম্ন আদালতের প্রতি অনাস্থা এনে হাইকোর্টের কাছে বিচার প্রার্থী হচ্ছেন খালেদা জিয়া

ষ্টাফ  রিপোর্টার  (বিডিসময়২৪ডটকম)

নিম্ন আদালতের প্রতি অনাস্থা এনে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাইকোর্টের কাছে বিচার প্রার্থী হচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। এছাড়া নিম্ন আদালতে তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ গঠন বাতিল চাইবেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। নিম্ন আদালতের বিরুদ্ধে একটি অনাস্থার আবেদনও তিনি দায়ের করতে যাচ্ছেন উচ্চ আদালতে। বুধবার  এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লা মিয়া।

বুধবার বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে মামলা দু’টিতে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেন ঢাকা তৃতীয় ও বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়। এর মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া তার বড় ছেলে ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দুই মামলায় মোট ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়। এর আগে দিনের প্রথমভাগে মামলা দুটিতে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের সময় চেয়ে করা আবেদন নাকচ করে দেন এই বিচারক।

এসব ঘটনায় বুধবার দিনভরই উত্তেজনা ছিলো বিচারিক আদালতে। সময় আবেদন নাকচ করার পর বিচারকের ওপর চড়াও হন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। অকথ্য শব্দ ব্যবহারও চলে। এক পর্যায়ে এজলাস ছেড়ে যেতে বাধ্য হন বিচারক। পরে বিকেল ৩ টা ৪০ মিনিটে এজলাসে উঠে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে দুটি মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ২১ এপ্রিল দিন ধার্য করেন বিচারক। কোনো শুনানি ছাড়া অভিযোগ গঠনের নির্দেশের বিরুদ্ধেই হাইকোর্টে আবেদন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লা মিয়া  বলেন, অবশ্যই হাইকোর্টে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমরা অনাস্থা দেওয়ার পরও বিচারক অভিযোগ গঠন করেছেন। এছাড়া যার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হচ্ছে তাকে এ বিষয়ে কিছু জিজ্ঞাসাও করা হয়নি। অথচ নিয়ম হচ্ছে মামলায় হাজিরা দেওয়া আসামিকে ‍অভিযোগ গঠনের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে হয়। আসামি দোষী বা নির্দোষ কিনা সেটা জানতে চাওয়া হয়।

সানাউল্লা মিয়া আরো বলেন, আদালতের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে একটি আবেদন করা হবে হাইকোর্টে। আর নিয়মিত হিসেবে অভিযো্গ গঠনের আদেশ বাতিল (কোয়াশমেন্ট) চেয়ে হাইকোর্টে আরেকটি আবেদন করা হবে। তবে দুটি আবেদনই করা হবে সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটির পর। ৩১ মার্চ পর্যন্ত অবকাশকালীন ছুটিতে রয়েছেন উচ্চ আদালত।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট:
গত বছর ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের নামে তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ।

মামলার অভিযোগ বলা হয়, ২০০৫ সালে কাকরাইলে সুরাইয়া খানমের কাছ থেকে ‘শহীদ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’-এর নামে ৪২ কাঠা জমি কেনা হয়। কিন্তু জমির দামের চেয়ে অতিরিক্ত ১ কোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা জমির মালিককে দেওয়া হয়েছে বলে কাগজপত্রে দেখানো হয়, যার কোনো বৈধ উৎস ট্রাস্ট দেখাতে পারেনি। জমির মালিককে দেওয়া ওই অর্থ ছাড়াও ট্রাস্টের নামে মোট ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি এ মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ খান। ২০১১ সালের ৮ ডিসেম্বর খালেদা জিয়া হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের জামিন পান। ১৭ জানুয়ারি খালেদা জিয়া ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে জামিননামা দাখিল করেন।

মামলায় অভিযুক্ত অপর তিন আসামি হলেন- খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব, বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খান জামিনে আছেন। হারিছ চৌধুরী মামলার শুরু হতেই পলাতক।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট:
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন। এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশ্যে একটি বিদেশী ব্যাংক থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করা হয়। মামলার অপর আসামিরা হলেন- বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান।

তারেক রহমান সরকারের নির্বাহী আদেশে দেশের বাইরে আছেন। মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ জামিনে আছেন। তবে শরফুদ্দিন আহমেদ আদালতে হাজির না থাকায় বুধবার তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। অপর দুই আসামি ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান মামলার শুরু হতেই পলাতক। মামলাটি তদন্ত করে দুদকের সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ অপর চারজনকে অভিযুক্ত করে ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ