ষ্টাফ রিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) আবদুল মোবারক বলেছেন, অল্লাহর অশেষ রহমত আলহামদুলিল্লাহ ভোট শতভাগ সুষ্ঠু হয়েছে। এ ভোটে আমরা খুশি। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে। মোট ৫ হাজার ৪৪৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ২৬টিতে ভোট বন্ধ হয়েছে। এতে আমরা খুশি। শনিবার শেরে বাংলানগর নির্বাচন কমিশন সচিবালয় মিডিয়া সেন্টারে চতুর্থ উপজেলা পরিষদের তৃতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তৃতীয় ধাপে ৪১ জেলার ৮১ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
নির্বাচনে সহিংসতা প্রসঙ্গে আব্দুল মোবারক বলেন, সহিংসতাবিহীন ভোট করতে হলে আরো সময় লাগবে। এর আগে সাধারণ মানুষের ধ্যান, জ্ঞান ও মন-মানসিকতার পরিবর্তন দরকার। ২০০৮ সালে ভোট শান্তিপূর্ণ হয়েছে। এখন সহিংসতা হচ্ছে কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তখন মানুষ সংযমী ছিল, তাই ভোট শান্তিপূর্ণ হয়েছে। কয়েকটি স্থানে পুলিশ জাল ভোট দিয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে ভারপ্রাপ্ত সিইসি বলেন, আমরা পুলিশকেও ছাড় দেবো না। তবে এর জন্য কিছু সময় লাগবে।
তিনি আরো বলেন, বরিশালের হিজলায় যে ঘটনা ঘটেছে এর বিচার করা হবে। ১০টি জেলার ১৩টি উপজেলার ২৬টি ভোটকেন্দ্রে ভোট বন্ধ হয়েছে। ভোট গণনার সময় হাঙ্গামা হলেও এর সংখ্যা বাড়তে পারে, কমবে না। তিনি বলেন, সহিংসতামুক্ত নির্বাচন হতে আরো সময় লাগবে। মানুষ যখন আরো সংযমী হবে, সভ্য হবে, তখন সহিংসতা বন্ধ হবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সহিংসতা ছাড়া নির্বাচন সম্ভব নয়। মোবারক বলেন, উপজেলা নির্বাচন অরাজনৈতিক নির্বাচন হলেও এখন নানাভাবে নির্বাচন রাজনৈতিকীকরণ হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হাফিজ, শাহ নেওয়াজ ও ইসি ভারপ্রাপ্ত সচিব সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।স্থগিত ভোটকেন্দ্রের মধ্যে কুমিল্লার ২টি, চাঁদপুরের ৬টি, ফেনীর ২টি, ময়মনসিংহের ৩টি, বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলার ৩টি, কিশোরগঞ্জ, যশোর, লক্ষীপুর, ভোলা ও রাজশাহীর ১টি করে কেন্দ্র রয়েছে। বাকি ৫টি কেন্দ্রের নাম এখনো জানা যায়নি।
স্থগিত কেন্দ্রগুলো হচ্ছে- কুমিল্লার সিজিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও পরীকেট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, ফেনীর ওলাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ধরাপপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং চাঁদপুরের পাথোর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেরকোটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাঝিগাছা এমএম উচ্চ বিদ্যালয়, টেগুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পশ্চিম রাজারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র, ময়মসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার তারাটি টেরিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বন্ধ গোয়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার বড় চাচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাঁদপুরের মেনাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, যশোর জেলার মনিরামপুরের হাজারকাটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং লক্ষীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার উত্তর পশ্চিম চর মার্টিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, ভোলার সদর উপজেলার একটি ভোটকেন্দ্র। অন্য তিনটি ভোটকেন্দ্র বরিশালের।
নির্বাচনী সহিংসতায় বাগেরহাট, শরীয়তপুর ও নেত্রকোনায় একজন করে মোট ৩ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনাসহ জালভোটের খবর পাওয়া গেছে।
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর কর্মীরা দায়িত্ব পালনকালে ৩ সাংবাদিকের ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়েছেন। ফেনীতে ২টি মিডিয়ার গাড়ি ভাংচুরের ঘটনাও ঘটেছে। বেশ কয়েকটি উপজেলায় ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকার অভিযোগে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা দুপুরের দিকেই ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।
এ ধাপে ৮১ উপজেলা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এক হাজার ১১৯ প্রার্থী। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৪১৯, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪২৩ জন ও সংরক্ষিত নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৭৭ জন। ভোটগ্রহণ উপলক্ষে নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। এছাড়া মিটিং মিছিল ও যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধজ্ঞা আরোপ করা হয়।
দুই দিন আগে বৃহস্পতিবার থেকে নির্বাচনী এলাকায় সেনা টহল শুরু হয়। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে একজন করে প্রিজাইডিং অফিসার ও প্রতিটি ভোটকক্ষের জন্য একজন করে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার দায়িত্ব পালন করেন। বিকেল ৪টায় ভোট গ্রহণ শেষে এখন চলছে গণনার কাজ।
শনিবার আরও দুটি উপজেলারও ভোটগ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা নির্বাচন স্থগিত করা হয়। সীমানা সংক্রান্ত জটিলতায় আদালতের নির্দেশে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের নির্বাচন বন্ধ রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ৬২ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ধাপে ৬২ দশমিক ১৯ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন।




