শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬
প্রচ্ছদঅর্থ ও বানিজ্য সময়ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বিদেশে পাচারের অভিযোগে বিএনপি নেতা আলী আব্বাস কারাগারে

ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বিদেশে পাচারের অভিযোগে বিএনপি নেতা আলী আব্বাস কারাগারে

চট্টগ্রাম অফিস (বিডি সময় ২৪ ডটকম)

ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বিদেশে পাচারের অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলায় দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও খাতুনগঞ্জের ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক মো.আলী আব্বাসকে কারাগারে পাঠিয়েছেন চট্টগ্রামে একটি আদালত।

বুধবার আলী আব্বাস চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) মো.মশিউর রহমানের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানালে বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হক মাহমুদ  বলেন, প্রায় ৪৫ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলায় আলী আব্বাস হাইকোর্টের জামিনে ছিলেন। কিন্তু দুদক ও ই জামিনের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দায়ের করলে চেম্বার জজ জামিন স্থগিত করে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। চেম্বার জজের নির্দেশে বুধবার তিনি সিএমএম আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সাল থেকে ২০১২ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে আলী আব্বাস ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল) এবং কৃষি ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখা থেকে চাল আমদানির এলসির বিপরীতে ৭২ কোটি টাকা ঋণ নেন। কিন্তু চাল আমদানি না করে এ অর্থ তিনি বিদেশে পাচার করেছেন বলে অভিযোগ উঠার পর দুর্নীতি দমন কমিশন তার বিরুদ্ধে তদন্তে নামে।

তদন্তে ৪৪ কোটি ৩৫ লক্ষ ৮১ হাজার ৭৫৩ টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ প্রমাণিত হবার পর ২০১৩ সালের ২৪ জানুয়ারি নগরীর কোতয়ালী থানায় দুদকের সহকারী পরিচালক মো.মাহবুবুল আলম বাদি হয়ে আলী আব্বাসসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪ (২) ও ৪ (৩) ধারায় আসামীদের বিরুদ্ধে ‍অভিযোগ আনা হয়।

মামলা দায়েরের পর ২০১৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি আলী আব্বাস হাইকোর্ট থেকে এক মাসের জামিন নেন। মেয়াদ শেষে ১৪ মার্চ তিনি সিএমএম আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠান। এরপর আবার জামিনে বেরিয়ে আসেন। হাইকোর্ট থেকে কয়েক দফা জামিন নেয়ার পর ২০১৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তিনি স্থায়ী জামিন পান। দুদকের পক্ষ থেকে এ জামিনের বিরুদ্ধে চেম্বার জজের কাছে লিভ ‍টু আপিল করা হয়।

পিপি অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হক মাহমুদ বলেন, গত ২০ ফেব্রুয়ারি চেম্বার জজ হাইকোর্টের জামিন স্থগিত করে দু’সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। এরপর বুধবার তিনি সিএমএম আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

এদিকে কোতয়ালী থানায় দায়ের হওয়া মানিলন্ডারিং আইনের মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান দুদকের ঢাকা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন। তদন্ত শেষে আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে আলী আব্বাসসহ মোট ৯ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

অভিযুক্তরা হলেন, জিওডেটিক সার্ভে কর্পোরেশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম কবির, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক খাতুনগঞ্জ শাখার সাবেক প্রধান মো. জাকারিয়া, ব্যাংকের সাবেক অতিরিক্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. ইউনুস, সাবেক ফরমাল অতিরিক্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট শফিউল আলম, কৃষি ব্যাংক চট্টগ্রামের সাবেক কমকর্তা ওলী নেওয়াজ খান, ব্যাংকের সাবেক মহাব্যবস্থাপক সিরাজুল ইসলাম, আগ্রাবাদ কর্পোরেট শাখার সাবেক উপ-মহাব্যবস্থাপক ও শাখা প্রধান আলী হোছাইন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ